ঢাকা, সোমবার 8 July 2019, ২৪ আষাঢ় ১৪২৬, ৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় ধবংস হচ্ছে রেলওয়ে খাত -মিয়া গোলাম পরওয়ার

দাতাসংস্থা, পরিবহন ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও নষ্ট রাজনীতিবিদরা রেলওয়ে খাতকে ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগ (BREL)এর কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম পাটোয়ারীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক আবুল হাশেম।
তিনি আরো বলেন, মেরুদ-হীন অকালপক্ক সিস্টেমের কারণে বছরের পর বছর ধরে রেল লোকসানী খাত হয়ে থাকার পেছনে রয়েছে, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও জনবল সংকট অন্যতম। স্বাধীনতার ৪৯ বছরে রেলের উন্নয়নে প্রায় পাঁচ শতাধিক প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট পাট হয়েছে যা এখনো হচ্ছে। শুধু রেলকে সাজিয়ে গুছিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে নেয়া হয়েছে একের পর এক নানা পরিকল্পনা। এসব প্রকল্প ভবিষ্যতে কতটুকু বাস্তবায়ণযোগ্য হবে সেদিকে লক্ষ না রেখে শুধু পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর প্রকল্প কাজের নামে খরচ দেখিয়ে অসাধু রেল কর্মকর্তা, কথিত কর্মচারী, নেতা আর ঠিকাদাররা মিলে প্রকল্পের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। তাই অবিলম্বে, রেলের সকল প্রকার দুর্নীতি বন্ধ করার ব্যবস্থাগ্রহণ করে দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তা কর্মচারীদের চিহিৃত করে শাস্তি প্রদান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সারা দেশের ব্রিজ সংস্কার করে সেখানে ব্রিজ পুনঃনির্মাণ, রেলের আধুনিকায়ন, রেল লাইনের ত্রুটি বিচ্যুতি খোঁজে বের করে তার সংস্কার করার কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।
পরে কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় সকল সদস্যদের সম্মতিক্রমে সরকারের কাছে ১২ দফা দাবী জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে, (১) পদ্মা সেতুর শুরুতে সংযোগ রেলপথসহ ঢাকা-মংলা ও ঢাকা- বরিশাল রেলপথ নির্মাণ করতে হবে, (২) লাকসাম- ঢাকা কর্ড রেলপথ, বগুড়া- জামতৈল, দোহাজারি- কক্সবাজার রেলপথ, ভাটিয়ারি-ষোলশহর বাইপাসহ প্রস্তাবিত সকল রেলপথ বাস্তবায়ন করতে হবে, (৩) নিরাপত্তা ও দ্রুত গতির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ লেবেল ক্রসিংসমূহের আন্ডারপাস ও ওভারপাস চালু করতে হবে, (৪) পাহাড় তলি,সৈয়দপুর, কেলোকা,-কারখানা সমুহের আধুনিকায়ন করে ইঞ্জিন কোচ ও ওয়াগন সংযোজনের কার্যকরী ব্যাবস্থা নিতে হবে, (৫) রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির লক্ষে বন্দরে হেন্ডেলকৃত কন্টেইনারের ৫০% রেলের মাধ্যমে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে, (৬) পেনশন ৯০% এর স্থলে ১০০% এবং গ্র্যাচুইটি প্রতি টাকায় ২৩০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা করতে হবে, (৭) রেলের প্রতি জায়গাসমূহ মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হোটেল মোটেল ও আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করে রেলের আয় বৃদ্ধি করতে হবে, (৮) প্রস্তাবিত মেডিক্যাল কলেজে ৪০% কোটা নির্ধারনপূর্বক ৫০% বেয়াতীহারে রেলপৌষ্যদের অধ্যয়নের সুবিধা দিতে হবে, (৯) এলএম, এএলএম, ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ, অফিস সহকারী, মেডিকেল ষ্টাফ, ট্রেড এ্যাপ্রেন্টিস ও অফিস সহায়কদের ন্যায্য দাবীসমূহ বাস্তবায়ন করতে হবে, (১০) শুন্য পদের বিপরীতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যেমে রেলপোষ্যদের চাকুরী নিশ্চিত করতে হবে, (১১) ট্রাফিক স্টাফ, রানিং স্টাফ, স্টেশন মাষ্টার ও অন্যান্যদের পদ সমূহের অনুকুলে আদালতের রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে, (১২) বি.আর.ই.এল এর পেশকৃত সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। নিয়োগে ঘুষ বানিজ্য বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে দিতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ