ঢাকা, সোমবার 18 November 2019, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ভারতে ২৪ গরু ব্যবসায়ীকে বেধড়ক পিটিয়ে বলানো হল ‘গোমাতা কি জয়’

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মধ‍্যপ্রদেশে আবারও গোরক্ষকদের তান্ডব। গরু নিয়ে যাওয়ার অপরাধে একসাথে ২৪ জন যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে জোর করে বলানো হল ‘গোমাতা কি জয়’। হত্যার জন্য গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বেধড়ক মারধর করে দড়ি বেঁধে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে জোর করে ‘‌গোমাতা কি জয়’‌ বলতে বাধ্য করানো হয় ওই ২৪ জন যুবককে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া জেলার খালোয়া থানা এলাকার সভলিকেড়া গ্রামে।

সূত্রের খবর, ওই ২৪ জনের মধ্যে ছয়জন মুসলিম ধর্মাবলম্বী। অভিযোগ, রবিবার গরু, মহিষ সহ বেশ কিছু গবাদি পশু নিয়ে যাওয়ার সময় সভলিকোড়া গ্রামে দলটির পথ আটকায় কমপক্ষে ১০০ জন গোরক্ষক। গোরক্ষকরা দাবি করে ওই দলটি ২০টি গরু নিয়ে যাচ্ছিল হত্যার জন্য। প্রথমে গ্রামের রাস্তা ধরে মিছিল করে নিয়ে গিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। তারপর গ্রামবাসীদের উপচে পড়া ভিড়ের সামনেই দড়ি দিয়ে ২৪ জনের হাত বেঁধে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে কান ধরে ‘‌গোমাতা কি জয়’‌ বলতে বাধ্য করায় গোরক্ষকরা। পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে তুলে আপলোড করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে শার্ট পরা এক ব্যক্তি ২৪ জনের মুখ ভালোভাবে তুলতে তাঁদের কাছে গিয়ে ছবি তুলছে এবং আরও দুই ব্যক্তি তাঁদের পাহারা দিচ্ছে।

যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে তা খালোয়া স্টেশন থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে হলেও পুলিস কোনও খবর পায়নি বলে অভিযোগ। অনেক পরে পুলিস গিয়ে ২৪ জনকে উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করে।

খান্ডোয়া জেলার এসপি শিবদয়াল সিং বলেছেন, ওই ২৪ জন দাবি করেছিলেন তাঁরা মহারাষ্ট্রর পশু মেলা থেকে কিনেছেন, কিন্তু কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সেকারণেই মধ্য প্রদেশ গোবংশ বধ প্রতিষেধ অধিনিয়ম এবং পশুদের উপর অত্যাচাররোধ আইনের আওতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা সবাই মধ্য প্রদেশেরই খান্ডোয়া, সেহোর, দেওয়াস এবং হারডা জেলার বাসিন্দা।

তবে কোনও গোরক্ষক এখনও ধরা পড়েনি। পুলিস জানিয়েছে তদন্ত চলছে। সোমবার থেকে মধ্য প্রদেশ বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশন। গোরক্ষকদের তাণ্ডব রুখতে এই অধিবেশনেই নতুন বিল আনার কথা। এই বিল পাস হলে কোনও গোরক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তার আগের দিনই গোরক্ষকদের এই তাণ্ডবের খবরে অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসক এবং বিরোধী, দুই দলই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ