ঢাকা, মঙ্গলবার 9 July 2019, ২৫ আষাঢ় ১৪২৬, ৫ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জুন মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : [দুই]
২৫ জুন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান ও আব্দুল মালেককে মারধর করে ছাত্রলীগ। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাবেল মাদবর, তার ভাই আওয়ামী লীগ নেতা জুলহাস মাদবর ও মাদারীপুর সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান হোসেন তাদের মারধর করে। ঠিকাদারী নিয়ে বিরোধে এই ঘটনা ঘটে। ২৬ জুন বরগুনার সদরে আলোচিত ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত শরীফ হত্যায় ছাত্রলীগ কর্মী রিফাত ফারাজী, রিশান ফারাজী ও তাদের ক্যাডার সাব্বির আহমেদ নয়নসহ ১২ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। রিফাত শরীফ তার স্ত্রী মিন্নিকে কলেজে আনতে গেলে তার উপর হামলা করে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ৭ জনকে আটক করে। ২৭ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি নাহিদ হাসান সুজন বাকি টাকা চাওয়ায় পলাশীতে দোকানী মাহবুবকে মারধর করে। দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মামুনুর রশীদ ও রাব্বি শেখসহ ৩০ জন আহত হয়। ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন ও অপর নেতা রুহুল কুদ্দুস জোহা গ্রুপের মধ্যে রুম দখল নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়।
 যুব লীগ ঃ ৭ জুন রংপুরের পীরগাছায় নয়াবাড়ী চৌমনমোড় এলাকায় যুবলীগ অন্নদানগর ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড সভাপতি আরিফ, আতিক ও তার ভাই ছুটিতে থাকা পুলিশ সদস্য শরীফ সংখ্যালঘু সদস্য এবং মেম্বার ডাঃ রেণু মধাব বর্মণ ও ভ্যান চালক সোহরাবকে মারধর করে। অজ্ঞাত কারনে পুলিশ মামলা নেয় নাই। ১৪ জুন নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় কাশিপুর এলাকায় যুবলীগ দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শফিউল্লাহ, খায়রুল্লাহ, সৈকত ও কবির আহত হয়। ফতুল্লা থানা যুবলীগ যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শফিউল্লাহ গ্রুপ এবং ২নং ওয়ার্ডের শাহীন আলম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ফেনীর ফুলগাজীতে উপজেলা যুবলীগ অর্থ সম্পাদক সরোয়ার হোসেনকে ১১ বোতল ফেনসিডিল ও ১টি মটর সাইকেলসহ আটক করে পুলিশ। ১৭ জুন লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয়ায় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, তার ভাই ওয়াজেদুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে সওজ। ২৫ জুন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের হাজীপুরে যুবলীগের দলীয় কোন্দলে শাহাদাত হোসেন চৌধূরী নামে এক কর্মী নিহত হয়। যুবলীগ স¤্রাট গ্রুপ ও সুমন গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে এই হত্যাকান্ড ঘটে। ২৯ জুন চট্টগ্রামের লালখান বাজারে যুবলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৩ পুলিশসহ ৮ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আলম মাসুম ও যুবলীগ আবুল হাসানাত বেলাল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে মোবারক, মনির হোসেন, সোহেল, রাকিব, সেলিম, সুমন ও ইমনসহ অন্যান্যরা আহত হয়।
 স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঃ ১৮ জুন বান্দরবনে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে পৌর সদস্য-সচিব ফারুক আহমেদ ফাহিম, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুর রশীদ, পৌর শাখা নেতা সোহাগ, রিমন, মুন্না, ভান্ডারী, সোহেল, আলভি, হেলাল, ফিরোজ, বেলাল ও বাপ্পিকে বহিস্কার করে দলটি। ২৮ জুন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট বাজার থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ বসুরহাট পৌর সাধারণ সম্পাদক নূর উদ্দিন হেলালকে আটক করে পুলিশ।
বিএনপি ঃ ১৫ জুন ঢাকার শান্তিনগর বাসা থেকে বিএনপি নেতা হাসান মামুনকে আটক করে র‌্যাব। ২০ জুন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে পৌর বিএনপি সদস্য-সচিব আলমগীর হোসেন, ছাত্রদল উপজেলা সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক এমরান হোসেন ও ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল চৌধূরী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। 
ছাত্র দল ঃ ১৩ জুন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দিনকে তার বাড়ী থেকে আটক করে পুলিশ। ২২ জুন ঢাকায় বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় দলীয় ভঙ্গের দায়ে ১২ ছাত্রদল নেতা-কর্মীকে বহিস্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বহিস্কৃতরা হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিন সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন তুহীন, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবীর, সাবেক সহ-সভাপতি জয়দেব জয়, সাবেক সহ-সভাপতি মামুন বিল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক বায়োজিত আরেফিন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আজম পাটোয়ারী। মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল মৃধাকে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা চুরি ও মহিলাকে মারধরের অভিযোগে আটক করে পুলিশ।
জামায়াত ঃ ১৪ জুন রাজশাহীর মহিতার থানা পুলিশ জামায়াত কর্মী আবু তাহের, দিলদার হোসেন ও শিবির কর্মী কামরুল হাসানকে আটক করে। ২১ জুন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পুলিশ জামায়াত নেতা আশেক আলী ও আব্দুল ওয়াহেদ মুন্সীকে আটক করে।
জাপা ঃ ১১ জুন গাইবান্ধার একটি আদালত জাতীয় পার্টি নেতা কর্নেল (অবঃ) ডাঃ আব্দুল কাদের খানকে এক মামলায় যাবজ্জীবন ও অপর মামলায় ১৫ বছরের কারাদন্ড দেয়। ডাঃ আব্দুল কাদের খান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার আসামী, ওই মামলাটি বিচারাধীন।
তাবলীগ জামায়াত ঃ ১০ জুন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের পিছনে তাবলীগ জামায়াত দু’গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে পেট্রোল বোমার আঘাতে আব্দুর রহীম রাজন নামে এক সা’দ পন্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসারত অবস্থায় নিহত হয়। ঘটনার জন্য জুবায়ের পন্থীদের দায়ী করা হয়। গত ১৯ মে রাজনের উপর এই হামলা করা হয়। [সমাপ্ত]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ