ঢাকা, বুধবার 10 July 2019, ২৬ আষাঢ় ১৪২৬, ৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা

এইচ এম আকতার : আমদানি মূল্যের অজুহাতে হঠাৎ করেই বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। খুচরা বাজারে এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির তেমন কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পাইকারি বিক্রেতারা। ইন্ডিয়ান পেঁয়াজের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। বিপাকে পড়েছে ক্রেতারা।
কারওয়ানবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার ব্যবসায়ীরা এক পাল্লা (৫ কেজি) দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করেন ১৩৫-১৪০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ে ২৭-২৮ টাকা। সেই পেঁয়াজের দাম রোববার ৪৫ টাকা কেজি দরে ২২৫ টাকায় বিক্রি হয়। তবে গতকাল মঙ্গলবার দাম কিছুটা কমে ১৯০-২০০ টাকা পাল্লা বিক্রি হয়। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৩৮-৪০ টাকা।
এদিকে খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মানভেদে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকা। গত রোববার থেকে এই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। তবে গত শুক্রবার প্রতি কেজি ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩০-৩৫ টাকা। অর্থাৎ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা।
রোববার পাইকারিতে দাম বাড়ার প্রভাবে ওই দিন থেকেই খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দামে বড় ধরনের উত্থান হলেও, মঙ্গলবার পাইকারিতে দাম কমার প্রভাব এখনও খুচরা বাজারে পড়েনি। খুচরা বাজারে এখনও বাড়তি দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ানবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে গত দুদিনে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। ওই সময় আমাদের প্রতি মূ পেঁয়াজ কেনা পড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩৮-৩৯ টাকা। এর সঙ্গে খরচ যোগ করে আমাদের ৪৫ টাকা দামে বিক্রি করতে হয়েছে।
তবে গতকাল পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি মূ কেনা পড়ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৩০-৩২ টাকা। এই পেঁয়াজ আমরা ৩৫-৩৬ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এ হিসাবে আজ পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে কমেছে ১০ টাকা করে। কিন্তু খুচরা বাজাওে চিত্র ঠিক উল্টো।
এদিকে শান্তিনগর গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৫৫-৬০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে খিলগাঁও এবং সেগুনবাগিচায়।
পেঁয়াজের বাড়তি দামের বিষয়ে শান্তিনগরের ব্যবসায়ী খায়রুল বলেন, বৃষ্টির কারণে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির খরচ বাড়ার একটি প্রভাব রয়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে আমাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কারওয়ানবাজারে তো আজ পেঁয়াজের দাম কমেছে, তাহলে আপনারা কমাচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে এই ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের কাছে যে পেঁয়াজ রয়েছে, তা বাড়তি দামে কিনে আনা। আমরা পাইকারি থেকে আবার কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারলে দাম কমিয়ে দেব।
বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রির বিষয়ে একধরনের মন্তব্য করেন খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. সবুর। তিনি বলেন, গত শুক্রবার অপ্রত্যাশিতভাবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম ছিল। কিন্তু সোমবার পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
ঈদুল আজহার এখনও এক মাস বাকি। কুরবানির ঈদ এলেই পেয়াজ রসুনের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার এক মাস আগেই পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। আগে প্রতি কেজি ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে প্রণোদনা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ও রফতানি কমিয়ে দেওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে সপ্তাহখানেক আগেও প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো। বতর্মানে আমদানির পরিমাণ কমে ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকে বন্দর দিয়ে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত এ জাত পাইকারিতে (ট্রাকসেল) প্রতি কেজি ছোট দানা ২২ টাকা থেকে ২৩ টাকা আর বড় দানার পেঁয়াজ ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও যা ১৫ টাকা থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, যে হারে এখনই পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করেছে, তাতে করে ঈদের আগে দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা যাচ্ছে না। দেশে না বন্যা হয়েছে, না অন্য কিছু, এছাড়া বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানিও হচ্ছে, তবু সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়াটা বিস্ময়কর। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। আর এভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমরা যারা সাধারণ মানুষ রয়েছি তারা কীভাবে ব্যয় মেটাবো।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার ইয়াকুব হোসেন ও রব্বানি জানান, আমরা পেঁয়াজ কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করি। কিন্তু হঠাৎ করে দাম বাড়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। এখান থেকে বাড়তি দামে পেঁয়াজ কিনে মোকামগুলোতে নিয়ে বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এমন সময়ে বন্দর দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও এবার ১৫ থেকে ২০ ট্রাক আসছে। এছাড়াও ভারতের ইউপিতে যে পেঁয়াজ গতসপ্তাহে প্রতি কেজি ছিল ৫ থেকে ৬ রুপি ছিল, তার দাম এখন ১০ থেকে ১১ রুপি। ভারতীয় রফতানিকারকরা সরকার থেকে প্রতি কেজিতে ১ রুপি করে প্রণোদনা পেতো, কিন্তু গত মাসের ১১ তারিখ থেকে তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর ওপর অতিরিক্ত গরমের কারণে পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এ কারণে ভারতের বাজারে চাহিদা মোতাবেক পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। এসব কারণে আমরা ১০ ট্রাক পেঁয়াজ চাইলে পাচ্ছি তিন ট্রাক। এভাবে সব আমদানিকারকের মিলিয়ে বন্দর দিয়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বন্দর দিয়ে আমদানি কমার কারণে দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
তবে আমদানিকারক সাইফুল ইসলামের মতে, ঈদুল আজহাতে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লেও, দাম তেমন আর বাড়বে না। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি বর্তমানে যে দাম রয়েছে, ঈদের সময় এমন দামই থাকবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ