ঢাকা, বুধবার 10 July 2019, ২৬ আষাঢ় ১৪২৬, ৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অ্যাপলের বিভিন্ন সফটওয়্যারের আপডেট

আবু হেনা শাহরীয়া : কয়েক দিন আগে হয়ে গেল অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপারদের সম্মেলন ‘অ্যাপল ডাব্লিউডাব্লিউডিসি ২০১৯’। এতে ঘোষণা দেয়া হয়েছে অ্যাপলের বিভিন্ন সফটওয়্যারের আপডেটের। তবে এবার চমক দিয়েছে ম্যাক প্রোয়ের ঘোষণা। এ ছাড়া ম্যাক ওএস, ওয়াচ ওএস, টিভি ওএস এবং আইপ্যাড ওএসের ঘোষণাও দেয়া হয়েছে এবারের সম্মেলনে।
ম্যাক প্রো : অনেক আগে থেকেই আরো পেশাদার কম্পিউটার নিয়ে আসার কথা বলে আসছিল অ্যাপল। বলা হয়েছিল, ডিভাইসটি আগের চেয়ে অনেক বেশি মডিউলার এবং কম থার্মালযুক্ত হবে। নতুন প্রোতে অ্যাপলের সেই অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০১৯ সালের ম্যাক প্রো নতুন ডিজাইন বা নকশার হলেও এটিতে দেয়া হয়েছে অ্যাপলের ক্লাসিক ‘চিজ প্রেটার’ রূপ। ডিভাইসটির ভেতরে অনেক মডিউলার অপশন রাখা হয়েছে। এসবের অনুপস্থিতি আগের ম্যাক প্রোর নকশার সবচেয়ে বাজে দিক হিসেবে দেখা হয়। থান্ডারবোল্ট ৩-এর সুবিধা নিয়ে যন্ত্রাংশে বাড়তি পাওয়ার এবং উচ্চগতির সংযোগ দেবে ‘এমপিএক্স’ নামের কাস্টম এক্সপানশন মডিউলগুলো। এমপিএক্স মডিউল আসলে একটি কোয়াড-ওয়াইড পিসিআইই কার্ড, যাতে দুটি গ্রাফিকস কার্ড বসানো যায়। অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে এর জন্য রয়েছে আলাদা হিট সিংক। অ্যাপলের দাবি, এএমডির রেডিওন প্রো ভেগা ২ বা রেডিওন প্রো ভেগা ২ ডুয়ো মিলে মোট চারটি জিপিইউ এবং ১২৮ গিগাবাইট এইচবিএম২ গ্রাফিকস মেমোরি পেতে পারেন গ্রাহক।
প্রযুক্তি সাইট ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ম্যাক প্রোতে পাওয়া যাবে ২৮ কোর পর্যন্ত জিওন প্রসেসর, ৩০০ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার এবং হেভি ডিউটি কুলিং ব্যবস্থা। অ্যাপলের দাবি, ১২টি ডিআইএমএম স্লটের মাধ্যমে ডিভাইসটির র‌্যাম দেড় টেরাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। এ ছাড়া এতে রয়েছে আটটি পিসিআই এক্সপ্রেস স্লট, পেছনে দুটি ইউএসবিসি বা থান্ডারবোল্ট ৩ পোর্ট এবং দুটি ইউএসবিএ পোর্ট। ডিভাইসটির সামনেও দুটি ইউএসবিসি পোর্ট রাখা হয়েছে। নতুন ম্যাক প্রোর বাজারমূল্য শুরু হচ্ছে ছয় হাজার মার্কিন ডলার থেকে। গ্রাহক চাইলে ডিভাইসটি প্রায় ৪৫ হাজার ডলার পর্যন্ত কনফিগার করতে পারবেন। চলতি বছরের গ্রীষ্মেই ডিভাইসটি বাজারে আনবে অ্যাপল।
বিদায় আইটিউনস : ম্যাকওএসের ক্যাটালিনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি হলো আইটিউনস যুগের। তবে আইটিউনসের অস্তিত্ব পুরোপুরি বিলীন করে দিচ্ছে না অ্যাপল। মিউজিক অ্যাপ থেকেই আইটিউনসের মাধ্যমে গান ডাউনলোড করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। আইটিউনসকে ভেঙে আলাদা তিনটি অ্যাপ আনা হবে ম্যাকওএসের জন্য। এগুলো হলো মিউজিক, টিভি ও পডকাস্ট অ্যাপ। উল্লেখ্য, সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক স্ট্রিমিং সার্ভিস আইটিউন ২০০১ সালে ম্যাকওয়ার্ল্ড এক্সপোতে উন্মোচন করা হয়। পাইরেসি ঠেকানোর সবচেয়ে সহজ সমাধান দিয়েছিল আইটিউনস। এখানে একাধারে সিনেমা, টিভি ও গান সরাসরি দেখা বা ডাউনলোড করা যেত।
টিভি ওএস : অ্যাপল টিভি ওএসের নতুন সংস্করণ উন্মোচন করা হয়েছে এই সম্মেলনে। টিভি ওএস ১৩ সংস্করণ সম্পূর্ণ নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে। ইউএক্স ডিজাইনে আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন। যুক্ত করা হয়েছে মাল্টিইউজার সুবিধা। চাইলে একই টিভি ওএসে লগইন করে একাধিক ব্যবহারকারী নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করে সে অনুযায়ী টিভি দেখতে পারবেন, যা অনেকটা নেটফিক্সের মতোই।
এতে যুক্ত করা হয়েছে আরো চমৎকার সব ওয়ালপেপার।
ওয়াচ ওএস ৬ : সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্মার্টওয়াচের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই অ্যাপল স্মার্টওয়াচের ওএসের নতুন সংস্করণও উন্মোচন করেছে। ‘ওয়াচ ওএস ৬’ সংস্করণটিতে যুক্ত করা হয়েছে নতুন ‘ওয়াচ ফেইস’ সুবিধা। তা ছাড়া অ্যাপল নতুন কিছু অ্যাপ এনেছে অ্যাপল ওয়াচের জন্য। যেমন অডিওবুক, ক্যালকুলেটর ও ভয়েস মেমো। অডিওবুক অ্যাপটির মাধ্যমে বইয়ের চ্যাপটার ধরে ব্রাউজ করা যাবে। ক্যালকুলেটর অ্যাপেও থাকবে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা। অ্যাপলওয়াচ থেকে সরাসরি ভয়েস রেকর্ড করা যাবে ভয়েস মেমো অ্যাপ দিয়ে। বহুদিন ধরেই অ্যানড্রয়েডের ওয়্যারওএস থেকে সরাসরি অ্যাপ ডাউনলোডের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু অ্যাপল ওয়াচে এত দিন এই সুবিধা ছিল না। এবার শুধু অ্যাপল ওয়াচের জন্যই আলাদা অ্যাপ স্টোর তৈরি করা হয়েছে। তাই এখন আর আইফোন থেকে অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন নেই। অ্যাপল ওয়াচ থেকেই অ্যাপ কেনা ও ইনস্টল করা যাবে।
শুধুই ডেভেলপারদের জন্য : ‘প্রজেক্ট ক্যাটালাইস্ট’ ফিচারটি মূলত ডেভেলপারদের জন্য। চাইলে ডেভেলপাররা একই অ্যাপ আইওএস, ম্যাকবুক কিংবা আইপ্যাডের জন্য তৈরি করতে পারবেন অতিরিক্ত কোডিং ঝামেলা ছাড়াই। এ ছাড়া ডেভেলপাররা এখন থেকে অ্যাপলওয়াচের জন্যও অ্যাপ বানাতে পারবেন। আগে আইফোনের অ্যাপ দিয়েই অ্যাপলওয়াচের কাজ চলত।
আইওএস ১৩ : অ্যাপলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন মানে নতুন অপারেটিং সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ বাজারে আনার ঘোষণা। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও আইওএস ১৩ সংস্করণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যা আগের সংস্করণ থেকে আরো উন্নত এবং কাজের গতিও বেশ দ্রুত। তাই বলে এটির আকার যে বৃদ্ধি পেয়েছে তা কিন্তু নয়; বরং এটি আগের সংস্করণের চেয়ে ৫০ শতাংশ ছোট। আর অ্যাপ আপডেটের সময় এটি ৬০ শতাংশ জায়গাও কম নেবে।
নিরাপত্তা : অ্যাপল কর্তৃপক্ষ ডেভেলপারদের সম্মেলনে প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলোতে বাড়তি নজর দেওয়ার কথা বলেছে। এ জন্য অ্যাপল আইডি ব্যবহার করে অ্যাপে সাইনইন করার সুবিধা চালু করা হয়েছে। গুগল ও ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে অনেক অ্যাপে সাইনইন করার সুবিধা তো আছেই। সেই ধারাবাহিকতায় এখন অ্যাপলের ডিভাইস ব্যবহারকারীরাও অ্যাপল আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন অ্যাপে সাইনইন করার সুবিধা পাবেন।
 অ্যাপ যাতে ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি করতে না পারে, সেই উদ্দেশ্য থেকে এ সুবিধা চালু করছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া এখন থেকে অ্যাপ নির্মাতারা সহজে আইওএস ব্যবহারকারীর লোকেশন বা অবস্থানগত তথ্য নিতে পারবে না।
ম্যাপের আপডেট : আইওএস ১৩ অপারেটিং সিস্টেমে গুগলের স্ট্রিট ভিউয়ের মতো নতুন ম্যাপ সুবিধার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে অ্যাপল। ফিচারটি ব্যবহার করে পছন্দমতো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ম্যাপ অ্যাপে থাকা বাইনোকুলার বাটনে ক্লিক করে স্ট্রিট ভিউ ফিচারটি চালু করা যাবে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য ফিচারটি উন্মোচন করা হবে। আগামী বছর নাগাদ বিশ্বের সব দেশের ব্যবহারকারীরাই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
অ্যাপল ফটোজ এআই : ফটোজ অ্যাপের জন্য নতুন ফিচার চালু করেছে অ্যাপল। মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিগত দিন, মাস বা বছরের সেরা ছবি নির্বাচন করতে পারবে এই অ্যাপ।
কল ব্লক: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফিচারের মধ্যে রয়েছে অপরিচিত কলার এবং মেইল অ্যাপে প্রেরককে ব্লক করা। বার্তা খোঁজার উন্নত সুবিধাও যুক্ত হয়েছে এবারের অপারেটিং সিস্টেমে।
ডার্ক মোড : ম্যাকবুক ওএসের ডার্ক মোড ফিচার আসার পরে অনেক ব্যবহারকারী অপেক্ষায় ছিলেন আইফোনের ডার্ক মোডের জন্য। অবশেষে আইফোন ব্যবহারকারীদের কথা শুনল অ্যাপল। ব্যবহারকারীদের জন্য আইওএস ১৩ সংস্করণে আনা হয়েছে ডার্ক মোড। ফলে রাতে বেশি আলোতে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা হবে না। এবার মাল্টিল্যাঙ্গুয়াল কি-বোর্ড উন্নত করেছে অ্যাপল। নতুন একাধিক ভাষার কি-বোর্ড ও ২২টি ভাষায় টাইপিং সুবিধাও এসেছে এতে।
যে ডিভাইস চলবে : ‘আইওএস ১৩’-এর সব সুবিধা পাওয়া যাবে আইপ্যাডে। আইফোন ৬এস বা তার পরের সব সংস্করণের জন্য আইওএস ১৩ বিনা মূল্যে হালনাগাদ করার সুযোগ দেবে অ্যাপল। এর অর্থ হচ্ছে, যারা আইফোন ৬ বা তার আগের সংস্করণ ব্যবহার করছেন, তাঁরা আর নতুন ওএস পাবেন না। আইপ্যাড ওএসের সুবিধা পাবেন আইপ্যাড এয়ার ২ ও এর পরবর্তী আইপ্যাড প্রো মডেল, আইপ্যাড পঞ্চম প্রজন্ম ও পরবর্তী সংস্করণ এবং আইপ্যাড মিনি ৪ ও পরের সংস্করণ ব্যবহারকারীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ