ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 July 2019, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬, ৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

উপকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে সঞ্চালন লাইনে টাওয়ার স্থাপন বাধাগ্রস্ত

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকল্প পরিচালক পদে ঘন ঘন পরিবর্তন আসেনি। যথাসময়ে হচ্ছে অর্থছাড়। এমনকি প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র উপকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে নির্মিতব্য গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ অবমোচনে যথাসময়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে পারছে না বিতরণ সংস্থাগুলো। এ কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে টাওয়ার স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রকল্প ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে বাস্তবায়নের সময়ও। এমন চিত্র উঠে এসেছে ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমন্টে প্রকল্পে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
গত জুনে প্রকল্পটি নিবিড় পরিবীক্ষণ করে সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। পরে সংস্থাটির দেওয়া প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্টে প্রকল্পে যেসব ত্রুটি রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে সুপারিশ দিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাঠিয়ে দেব। এমনকি এ পরিপ্রেক্ষিতে তারা কি ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলোও জানতে চাওয়া হবে। আমরা শুধু সুপারিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করব না। ‘
প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গড়ে শতকরা ৭৫ দশমিক ৬৮ ভাগ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে। প্যাকেজ ৩, ৪, ৮ ও ৯ এর কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বারোইয়ার হাট, রামগঞ্জ,ভালুকা, মহাস্থানগড়, বগুড়া, বরিশাল (উত্তর), জলঢাকা ও সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের আওতাধীন এলাকার জনগণ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে প্যাকেজ ২ ও ৬ এর নির্মাণ কাজ বেশ পিছিয়ে থাকায় শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের অবমুক্তি এখন বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনগণ এই প্রকল্পের সুবিধা পুরোপুরি পাবেন না।
আইএমইডি বলছে, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিকলবাহায় নির্মিত ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ অবমুক্ত, রামপুরা ও শিকলবাহার মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটানোর জন্য ‘ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।
 সরকারের নিজস্ব তহবিল, পিজিসিবি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে মোট ২ হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৫ ফ্রেবুয়ারি একনেকে অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৩ সালের জানুয়ারি হতে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো ছাড়াই ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। এরপর আবারও একনেকে প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাড়িয়ে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বর্ধিত মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যাকেজ-১ এর অধীনে শিকলবাহা ২৩০/১৩২ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। এই উপকেন্দ্রের মাধ্যমে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অবমুক্ত করে দোহাজারী, শাহমিরপুর, জুরদা, মদুনাঘাট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা হয়েছে। প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৬ এর নির্মাণ কাজ পিছিয়ে থাকায় রামপুর ও আগ্রাবাদ উপকেন্দ্র যথাসময়ে পরিপূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে না। ফলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সঞ্চালন নিশ্চিত পিছিয়ে যাবে। প্যাকেজ-৬ বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না।
 প্রকল্পের দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকেন্দ্রগুলোর সাইট নির্ধারণে সমন্বয় না থাকায় নির্মিয়মান গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ অবমোচনের জন্য বিতরণকারী সংস্থাগুলো যথাসময়ে প্রকল্প নিতে পারেনি। বিতরণকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আরও সুবিধাজনক জায়গায় গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা যেত। এছাড়া টাওয়ার স্থাপনের জন্য ব্যক্তিমালিকাধীন জমির ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না থাকাও প্রকল্পের অন্যতম দুর্বল দিক। ফলে বর্তমানে টাওয়ার নির্মাণ ও লাইনের কাজ শেষ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা দুর্বলতাও। এ কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে টাওয়ার স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টাওয়ার স্থাপনের জায়গা ও লাইনরুট নির্ধারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং নৌবাহিনীর সঙ্গে আরও আগে আলোচনা করা হলে সৃষ্ট জটিলতা ও সময় ব্যয় হত না। এক্ষেত্রে ডিপিপির কর্মপরিকল্পনায় উল্লিখিত রুট জরিপের সময়কাল অনুযায়ী সঞ্চালন লাইনে টাওয়ার স্থাপন করা যেত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ