ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 July 2019, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬, ৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভয়াবহ নাভিশ্বাস থেকে মুক্তি পেতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে মতিউর রহমান যাদুমিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি আয়োজিত যাদু মিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ভয়াবহ নাভিশ্বাস থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, মানুষের মুক্তি দেখতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে (ক্ষমতাসীন সরকার) পরাজিত করতে পারবো। আসুন আমরা আজকে কোনো হতাশায় না পড়ে, আমরা সামনের দিকে এগুই, বুকে সাহস নিয়ে এগুই, মেধা নিয়ে এগুই, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগুই। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে মরহুম রাজনীতিক সাবেক সিনিয়র মন্ত্রী মশিযুর রহমান যাদু মিয়ার ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটির আহবায়ক শামসুল হকের সভাপতিত্বে ও আরিফুল হোসেন আরিফের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক ছাত্র নেতা কাশেম চৌধুরী, এনামুল হক শহীদ, আখতার হোসেন, নুরুল হুদা নিলু চৌধুরীম, গোলাম মোস্তফা আকন, ওসমান গনি ও মশিয়ুর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতেই গণতন্ত্রের মুক্তি আসবে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের সবার কাছে আমার অনুরোধ মানুষকে হতাশ হতে দেবেন না, হতাশার কথা বলবেন না। নিশ্চয়ই আমরা দেশনেত্রীকে মুক্তি করতে পারবো। আর দেশনেত্রী মুক্তি হলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই, মানুষের মুক্তি দেখতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেরকে (ক্ষমতাসীন সরকার) পরাজিত করতে পারব। আসুন আমরা আজকে কোনো হতাশায় না পড়ে, আমরা সামনের দিকে এগুই, বুকে সাহস নিয়ে এগুই, মেধা নিয়ে এগুই, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এগুই। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই মিলে কাজ করি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা কথা আপনাদের আজকে স্পষ্ট করেই বলতে চাই, আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে পরামর্শ না করে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি তার সঙ্গে পরামর্শ করে, তার কনসার্ণ নিয়ে। ২০ দল আগেই ছিলো। আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছি তার পরামর্শ নিয়ে, আমরা নির্বাচন যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তারই পরামর্শ নিয়ে। আমি এখনো মনে করি, বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে যদি কোনো নেতা থাকেন যিনি বুঝেন জনগণকে তিনি হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। সত্যিকার অর্থে তিনি জনগনের নেত্রী।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাকে আটকিয়ে রেখেছে কেনো? ঠিক সেই সময়ে যখন নির্বাচন এসে যাচ্ছে। তাকে আটকিয়ে রেখেছে, তিনি বাইরে থাকলে বানের স্রোতের মতো সব কিছু ভেসে যাবে। আজকেও তাকে বের করছে না এজন্যে যে, তিনি যদি আজকে মুক্ত হন তাহলে এদের(ক্ষমতাসীন) অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। যেখানে জামিন পাওয়াটা তার আইনগত প্রাপ্যতা, উনি জামিন পেতে পারেন। সেই জামিনটা তারা দিচ্ছে না। অর্থাৎ তারা জানে এই নেত্রী যদি বেরিয়ে আসেন তাহলে তাদের কঠিন হবে এই অবৈধ ক্ষমতায় টিকে থাকা।
রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, পৃথিবীটা বদলে গেছে, আপনি চিন্তা করেন যে, ভারতে মহাত্মা গান্ধীকে যারা হত্যা করেছিলো তারা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় এবং জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। ভাবুন পরিবর্তনটা কোথায়? এটাই বাস্তবতা। সেই পরিবর্তনটা অনুধাবন করতে হবে, বুঝতে হবে এবং সেখান গিয়ে আমাদের পথ বের করতে হবে-কোন পথে গেলে আমি সঠিক ভাবে আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো।
বিএনপি মহাচিব বলেণ, খুব কঠিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা, এটা অটোক্রেট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা, সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করা-এটা সহজ কথা নয়। আমরা চেষ্টা করেছি নির্বাচনের পূর্বে আমরা ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে এই দানবকে আমরা পরাজিত করি। আমরা পারিনি। তার মানে এই না যে, আমরা শেষ হয়ে গেছি, আমরা মুখ থুবড়ে পড়ে গেছি, আমাদের জনগনের সমস্ত আশা-আকাংখা ধবংস হয়ে গেছে। কখনোই না।আমাদেরকে অবশ্যই বিষয়গুলো চিহ্নিত করে আমরা যদি একত্রিত হতে পারি, ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তাহলে মানুষগুলোকে নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগুতে পারব।
মশিয়ুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, যাদু মিয়া বাস্তবতাটা বুঝে তিনি কাজ করেছেন। আমরাও সেইভাবে কাজ করতে চাই। অনেক এখানে বলেছে, জনগনের বিজয় দেখতে চাই। আমরাও চাই। কিন্তু ধরয্য ধরতে হবে। কখনোই পরাজিত নিজেকে মনে করলে চলবে না। ডিফিটেড মেন্টিলিটি মনে রাখবেন না, আমি অনেকের চেহারার মধ্যে পরাজিতের ছবি দেখতে পাই। আমাকে এটা আহত করে।
তিনি বলেন, আমি কখনোই পরাজিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বাস করি, এদেশের মানুষ কখনোই নিজেদের স্বার্থ, নিজের অধিকার সেটা কখনো তারা অন্যকে কেড়ে  নিতে দেয় নাই। সময় লেগেছে, লড়াই করে সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, যাদু মিয়ার দেখানো যে পথ, সেই পথে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে এগুতে পারি, আমরা যদি মওলানা ভাসানী যে আদর্শ, সেই আদর্শ নিয়ে যদি এগুতে পারি, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে যদি এগুতে পারি, আর আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে ত্যাগ, সেই ত্যাগকে নিযে যদি এগুতে পারি অবশ্যই আমরা সফল হবো। দেশনেত্রীকে আমরা মুক্ত করতে পারবো, এদেশের মানুষকে আমরা মুক্ত করতে পারবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ