ঢাকা, শুক্রবার 12 July 2019, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংস্কারের অভাবে কাজে আসছে না ঠাকুরগাঁওয়ের মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও থেকে॥ কাজে আসছে না ঠাকুরগাঁওয়ের নদীগুলোতে সরকারিভাবে স্থাপন করা মৎস্য অভয়াশ্রমগুলো। আর এসব অভয়াশ্রম স্থাপনে সরকারের লাখ লাখ টাকা নদীতেই নষ্ট হচ্ছে। নদী খননের অভাবে নদীতে পলি জমে ও বালি ভরাট হয়ে তা অভয়াশ্রম প্রকল্প ভেস্তে যেতে বসেছে। নিদিষ্ট এলাকায় মাছ ধরতে না পেরে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় জেলেরা। 

ঠাকুরগাঁও জেলায় নদ-নদীর সংখ্যা ১৩টি। এর মধ্যে টাংগন, সেনুয়া, নাগর ও কুলীক নদী অন্যতম। আমিষের চাহিদা পুরণের লক্ষ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে গত বছর কয়েকটি নদীতে স্থাপন করা হয় মৎস্য অভয়াশ্রম। কিন্তু নদীগুলোতে পানি না থাকা এবং বালু ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় অভয়াশ্রমগুলো চরে পরিণত হয়েছে। আর দীর্ঘ দিনেও ব্যবস্থা না নেয়ায় কাঙ্খিত সুফল থেকে বঞ্চিত সুবিধাভোগীরা। সেই সাথে যথাযথ নজরদারির অভাবে অভয়াশ্রমের ভেতরেই মাছ শিকার করছে অনেক প্রভাবশালী। অন্যদিকে কাটাতারের বেড়া দিয়ে অভয়াশ্রমের জায়গা ঘিরে রাখায় বিপাকে পড়েছে জেলেরাও। আর অপরিকল্পিতভাবে এসব অভয়াশ্রম স্থাপন করায় ব্যয়কৃত অর্থও কোন কাজে আসছে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। 

সু-শাশনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন, যেখানে সরকারের অর্থ ব্যয় করে কোন কিছু করা হয়, সেখানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সু ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় তা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মৎস অভয়াশ্রমের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল ইসলাম প্রবাল, সদরের গোয়ালপাড়া এলাকার জেলে, রফিক, সোলেমান, সফিকুলসহ স্থানীয়রা জানান, আমরা মনে করছি মৎস্য অভয়াশ্রমের জন্য সরকারের যে টাকা খরচ করা হয়েছে তা পরিকল্পনাহীন হওয়ায় কোন কাজেই আসছে না। তা ভেস্তে যেতে বসেছে। আর টাংগন নদীতে যে মৎস্য অভয়াশ্রমটি করা হয়েছে তা পরিকল্পিত নয়। নামে অভয়াশ্রম। অভয়াশ্রমটি শুধু ঘেরা বেড়াতেই সীমাবদ্ধ, পানির জায়গায় জেগে আছে চর। সেখানে এখন স্থানীয়রা ধান চাষের ব্যবস্থা করছে। আর সে কারণে সুবিধাভোগী জেলেরা সুবিধার বদলে অসুবিধায় পড়েছে।   

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোহাঃ সাইনার আলম জানান, যে পরিমান বরাদ্দ আসছে তা অপ্রতুল। এছাড়া সুবিধাভোগীরা এ কাজে এগিয়ে আসছে না। অন্যদিকে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা সুবিধাভোগীর তালিকায় থাকায় মৎস্য অভয়াশ্রমের সুফল মিলছে না। এখানে স্থানীয়দের প্রভাব থাকায় আমাদের কিছু করার থাকে না। তার পরেও আমরা চেষ্টা করছি এসব সংস্কার করে কিভাবে আরো উন্নত করা যায়।  

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছি তা সম্পন্ন হলেই এ সমস্যা থাকবে না। ইতোমধ্যে ২-১টি নদীর খনন কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোতেও দ্রুত সময়ের মধ্যে খনন কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে টাংগন, শুক, কুলিকসহ কয়েকটি নদীতে ৯টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ