ঢাকা, শুক্রবার 12 July 2019, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে ফাইনালে ইংল্যান্ড

স্কোর : 

অস্ট্রেলিয়া- ২২৩/১০ (৪৯ ওভার)

ইংল্যান্ড- ২২৬/২ (৩২.১ ওভার)

ইংল্যান্ড  ৮ উইকেটে জয়ী। 

রফিকুল ইসলাম মিঞা: দ্বাদশ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেই একে একে বিদায় নিয়েছে আগের আসরগুলোর বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফলে এই বিশ্বকাপে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। সেটা হতে পারে স্বাগতিক ইংল্যান্ড অথবা নিউজিল্যান্ড। গতকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এর আরে প্রথম সেমিতে দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। ফলে দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল অস্ট্রেলিয়া আর ভারতকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে লড়বে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড। আর এবার নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। গতকাল দ্বিতীয় সেমিফাইনাল স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে বড় টার্গেট দিতে পারেনি চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড বোলাদের বোলিং আক্রমনে অস্ট্রেলিয়া এক ওভার আগেই অলআউট হয় ২২৩ রানে। ফলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ড পায় মাত্র ২২৪ রানের সহজ টার্গেট। ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড মাত্র ৩২.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ৮ উইকেটে। বিজয়ী ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন। এর আগে আরো তিনবার ফাইনাল খেললেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ইংল্যান্ড।

জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের সামনে ২২৪ রানের টার্গেটটা সহজই ছিল। আর ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার জেসন রয় আর জনি বেয়ারস্টো জুটি করে দলের জয়টা আরো সহজ করে দেয়। কারণ এই জুটি ভাংগার আগেই ইংল্যান্ড তুলে নেয় ১২৪ রান। বেয়ারস্টোর বিদায়ে ভাংগে এই সফল ওপেনিং জুটি। মিসেল স্টার্ক এর বলে এলবি আউট হওয়ার আগে বেয়ারস্টো ৪৩ বলে ৫ বাউন্ডারিতে করেন ৩৪ রান। বেয়ারস্টো ৩৪ রান করে আউট হলেও ব্যাটিংয়ে ঝড় তুলেছেন জেসন রয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তা-ব চালিয়ে পূরণ করেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম হাফসেঞ্চুরি। ৫০ বলে ফিফটি পূরণ করার পর সেঞ্চুরির খুব কাছেই পৌছে গিয়েছিলেন এই ওপেনার। স্টিভেন স্মিথের টানা তিন বলে মেরেছেন তিন ছক্কা। তবে দলীয় ১৪৭ রানে তাকে ফিরান প্যাট কামিন্স। আউট হওয়ার আগে তিনি খেলেন ৮৫ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস। মাত্র ৬৫ বলে ৯ বাউন্ডারি আর ৫ ছক্কায় সাজান তার ইনিংসটি। ১৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি না পেলেও দলকে বড় জয়ের পথে নিয়েই মাঠ ছাড়েন এই ওপেনার। জেসন রয়ের বিদায়ে দলকে বড় জয়ের পথে এগিয়ে নিতে জুটি করেন অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও জো রুট। এই জুটি ভাংগার আগেই ইংল্যান্ড পৌছে যায় ২২৬ রানে। ফলে স্বাগতিকরা জয় পায় ৮ উইকেটে। বিজয়ী ইংল্যান্ডের পক্ষে জো রুট ৪৯ রানে আর মরগান ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। রুট ৪৬ বলে ৮ চারে আর মরগান ৩৯ বলে ৮ চারে তাদের ইনিংসটি সাজান। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্টার্ক আর কামিন্স নেন একটি করে উইকেট। এর আগে, বার্মিংহ্যামের টস জিতে আগে ব্যাট করে বড় স্কোর গড়তে চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেটা পারেনি দলটি। কারণ ইংল্যান্ডের বোলারদের বোলিং তোপে মাত্র ২২৩ রানে আটকে চ্যাম্পিয়নরা। ব্যাট করতে নেমে ক্রিস ওকস আর জোফরা আর্চারের মারাত্বক পেসে প্রথমেই তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে গড়ে দলটি। ব্যাট করতে নেমে ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ, ডেভিট ওয়ার্নার আর পিটার হ্যান্ডসকম্ব দুই পেসারের গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ফলে মাত্র ১৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে প্রথমেই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে যায় অসিরা। অবশ্য সেখান থেকে দলকে সন্মান জনক স্কোরে নিয়ে যায় স্টিভেন স্মিথ আর অ্যালেক্স ক্যারি জুটি। এই জুটির ১০৩ রানের উপর ভর করে শেষ পর্যন্ত ২২৩ রানের স্কোর করতে পারে দলটি। মুখে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হওয়া ক্যারি ৪৬ রান করে আউট হলেও স্টিভেন স্মিথ ১১৯ বলে ৮৫ রানের অসাধারন একটি ইংিস খেলে একাই লড়াই করেছেন। না হলে আরো বড় বিপদ ছিল দলটির জন্য। কারণ স্মিথের ব্যাটিংয়ের উপর ভর করেই ১৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ইংল্যান্ডের সামনে ২২৪ রানের টার্গেট দিতে পেরেছে চ্যাম্পিয়নরা। ব্যাট করতে দলীয় চার রানে প্রথম উইকেট হারায় দলটি। ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চকে শূন্য রানে এলবির ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন জোফরা আর্চার। দলীয় ১০ রানে দলটি হারায় দ্বিতীয় উইকেট। এবার অপর ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকে বিদায় করেন ক্রিস ওকস। জনি বেয়ারস্টোর ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে তিনি করেন ৯ রান। দলীয় ১৪ রানে আরো একটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।  পিটার হ্যান্ডসকম্বকে মাত্র ৪ রানে বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন ওকস। ফলে ১৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় উইকেট জুটিতে স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির ১০৩ রানের উপর নির্ভর করে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পায। এই জুটি ভাংগার আগেই দলটি পৌছে যায় ১১৭ রানে। ক্যারির বিদায়ে ভাংগে এই সফল জুটি। ৪৬ রান করে আদিল রশিদের বলে জেমস ভিন্সের হাতে ধরা পরেন ক্যারি। ৭০ বলে চার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খুলতে পারেননি মার্কাস স্টোয়নিস। তার আগেই তাকে এলবি আউট করেন আদিল রশিদ। দলের বিপদে ব্যাট করতে নেমে ভালোই শুরু করেছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিন্তু তার ইনিংসটিও বড় করতে দেননি জোফরা আর্চার। ২২ রানে তাকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন আর্চার। ২৩ বলে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ২২ রান করে ইয়ন মরগানের ক্যাচ হন ম্যাক্সওয়েল। ব্যাট করতে নেমে প্যাট কামিন্স ৬ রানে আদিল রশিদের তৃতীয় শিকার হলে ১৬৬ রানে ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিকে স্মিথ-মিসেল স্টার্ক জুটি করে দলকে দু’শ রানের কোটায় নিয়ে যায়।  অষ্টম উইকেট জুটিতে তারা করেন ৫১ রান। দলীয় ২১৭ রানে বিদায় নিতে হয় এই জুটিকে। রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে স্মিথ করেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৫ রান। ১১৯ বলে ৬ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। আর মিচেল স্টার্ক ৩৬ বলে ২৯ রান করে ক্রিস ওকসের বলে বিদায় নিলে ২১৭ রানেই ৯ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভারে ২২৩ রানে অলআউট হয় দলটি। ইংল্যান্ডের পক্ষে ক্রিস ওকস ও রশিদ তিনটি করে উইকেট নেন। জোফরা আর্চার দুটি ও মার্ক উড একটি উইকেট পান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ