ঢাকা, শুক্রবার 12 July 2019, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিলেটে হোমিওপ্যাথিক কলেজের নিয়োগ স্থগিত চেয়ে স্মারকলিপি 

 

সিলেট ব্যুরোঃ নিয়োগের নামে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী একমাত্র জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে জমজমাট নিয়োগ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল্লাহ আল মোজাহিদ খানের রোষানলে পড়ে অনেক নিয়োগ প্রার্থী নিয়োগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ইতিমধ্যে এই কলেজের নিয়োগকে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য আখ্যা দিয়ে কলেজের নিয়োগ প্রার্থী, শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কলেজ অধ্যক্ষ মোজাহিদ খান ও উপাধ্যক্ষ (২) ডা: ইমদাদুল হক তাদের পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। তাদের অনিয়মের বিরুদ্ধে চাকুরী প্রার্থী শিক্ষকরা ও তাদের অভিভাবক মহল বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানতে চায় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের খুঁটির জোর কোথায়। এ কলেজের সদ্য পরীক্ষা হওয়া প্রবেশ পত্র দেখলেই বোঝা যায় কি ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। এই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুন:নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে স্বনামধন্য এ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা পেশায় কর্মরত চিকিৎসকরা সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট জেলা প্রশাসক ও এ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসলাম উদ্দিনের কাছে গত ১০ জুলাই প্রতিকার চেয়ে এবং নিয়োগ স্থগিত করার দাবী জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ সূত্রে আরো জানা যায়, যদি এ দাবী যথাযথভাবে মানা না হয় তাহলে নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক, প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ ও অভিভাবক মহল সিলেটে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে কঠিন থেকে কঠিনতর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা: এম কে খান গণমাধ্যমকে জানান, জালালাবাদ কলেজে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র দেখলেই বোঝা যায় কেমন দুর্নীতি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা জানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা থেকে নিয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সকল পরীক্ষার প্রবেশ পত্রে আবেদনকারীর বা পরীক্ষার্থীর রোল নাম্বার থাকে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের চলতি বছরের ৫ জুলাই সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো এই প্রবেশ পত্রে রোল নাম্বার নেই। কিন্তু পরীক্ষার উত্তর পত্রে প্রত্যেক প্রার্থীর নাম উল্লেখ থাকায় অভিভাবক মহল মনে করছেন দুর্নীতি দৃঢ়ভাবে করার জন্য এবং প্রার্থী চিহ্নিত করে তাকে পাস করানোর কৌশল হিসেবে উত্তর পত্রে নাম সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা: মোজাহিদ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গত ৫ জুলাইয়ের পরীক্ষার মত এমন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ পরীক্ষা এই কলেজে আর কোনদিনও হয়নি। জানতে চাওয়া হলো তাহলে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন অতীতে এ কলেজে অন্যান্য পরীক্ষায় দুর্নীতির আশ্রয় প্রশ্রয় নেয়া হয়েছে। এর উত্তর না দিয়ে ডা: মোজাহিদ খান বলেন, গত ৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা সুষ্ঠু হয়েছে যে, এর বড় সাক্ষী আমাদের কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আসলাম উদ্দিন। জানতে চাওয়া হলো সকল পরীক্ষার প্রবেশ পত্রে রোল নাম্বার থাকে এই প্রবেশ পত্রে রোল নাম্বার না দিয়ে পরীক্ষার্থীর নাম কেন ছিল? তিনি বলেন, এটা আমাদের একটু ছোটখাটো ভুল হয়ে গেছে, তবে পরীক্ষা সচ্ছ হয়েছে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, আপনারা অনেক বড় ভুল না দেখে ছোট ছোট ভুল খুঁজতে থাকেন।  

প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কর্তৃক প্রশাসনের কাছে দেয়া স্মারকলিপি থেকে আরো জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়োগ কমিটি তাদের পছন্দের লোক চিনতে পারে এ জন্য রোল নাম্বার না দিয়ে উত্তর পত্রে পরীক্ষার্থীর নাম সংযুক্ত করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার সিলেকশন কমিটিতে কলেজের শিক্ষক ৪ জন ও বোর্ড সদস্য ৬ জন উপস্থিত থেকে উত্তর পত্রের নাম দেখে উত্তর পত্র মূল্যায়ন করেন। বোর্ড মেম্বার পরস্পরের যোগ সূত্রে তাদের পছন্দের লোকদেরকে বেশি নাম্বার দিয়ে উত্তীর্ণ করেন এমন অভিযোগও কলেজ ক্যাম্পাসে পাওয়া যায়।

নিয়োগ বাণিজ্যের গন্ধ পরীক্ষার পূর্ব থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল কলেজ ক্যাম্পাস ও তৎসংলগ্ন এলাকায়। এ জন্য নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বে এই রকম অনিয়ম হবে বুঝতে পেরে জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বরাবরে লিখিতভাবে অবহিত করেন প্রাক্তন ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ