ঢাকা, শুক্রবার 12 July 2019, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ বছর ধরে শিকলবন্দী কিশোর মুন্না

 ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ১১ বছর ধরে শিকলবন্দী রয়েছে মনোয়ারুল ইসলাম মুন্না নামের এক কিশোর। ৭বছর বয়সে হঠাৎ করেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে মুন্না। এরপর  প্রাথমিক চিকিৎসা করা হলে কিছুদিন সুস্থ থাকার পর আবার আগের মতো অসুস্থ হয়ে পড়ে। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে আর চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি মুন্নার। তার বয়স বর্তমানে ১৮ বছর। ১১ বছর ধরে পায়ে শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে ঘরের বারান্দার খুঁটির সাথে। মুন্নার বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট গ্রামে। সেখানেই ১১ বছর ধরে শিকল বন্দীজীবন পার করছে মুন্না। 

মুন্নার মা মনোয়ারা বেগম জানান, অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারেনি। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত কয়েক বছর থেকে সে এলাকাবাসীর বিভিন্ন লোকসান করে। কারো গরু ছাগল মারধর, মানুষ মারধর, অনেকের সবজি-ক্ষেত নষ্ট করে। মানুষ দেখলে জাপটে ধরার চেষ্টা করে এমনকি নিজের পরিবারের লোকজনদের কাছে পেলে আঘাত করার চেষ্টা করে। এতে এলাকার অনেক মানুষ পায়। বিশেষ করে নারী শিশুরা।  এজন্যই পায়ে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে ।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চালার একটি ঘরের বারান্দায় শিকল পাঁয়ে মাটিতে বসে আছে মুন্না। শরীরে শুধু পেন্ট পরা আর কোন কাপড় নেই। ৩ ভাই বোনের মধ্যে মুন্না  সবচেয়ে বড়। তাঁর বাবা মুনসুর আলী (৫৫) একজন গরু ব্যবসায়ী। বর্তমানে পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তার বাবা মুনসুর আলী। ফলে মুন্নার ভালো চিকিৎসা করানোর চিন্তাও করতে পারেন না মুনসুর আলী। তিনি বলেন,সামান্য একজন গরুর দালালির (ব্যবসায়ী) কাজ করি আমি। কাজ না থাকলে আমি দিনমজুরের কাজ করি। দৈনিক ৩০০-৩৫০টাকা আয় করি, এই টাকা দিয়ে সংসার চালাবো না মুন্নার চিকিৎসা করবো ভেবে পাচ্ছিনা। তারপরেও সে টাকা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে তার চিকিৎসা করছি। দৈনিক ১০০ টাকার ঔষুধ লাগে মুন্নার। অবশিষ্ট টাকায় কোনমতে সংসারের খরচ চালাই। এভাবেই কষ্টের মধ্যে চলছে আমাদের জীবন। অর্থের অভাবে পুরোপুরি ভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। আমি বাবা হয়ে আর ছেলের কষ্ট সইতে পারিনা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ