ঢাকা, সোমবার 15 July 2019, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬, ১১ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লাখ লাখ মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে হাহাকার করছে

গতকাল রোববার নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথার বলার কারণেই বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখনো কারাগারে। গতকাল রোববার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজকে কারাগারে। সরকারের কুকীর্তি-অপকীর্তি এবং অনাচারের প্রতিবাদ করার জন্যই তিনি কারাগারে। ক্ষমতার নেশায় মজে শেখ হাসিনা অন্যায়কে ন্যায় এবং ন্যায়কে অন্যায় হিসেবে প্রতিপন্ন করছেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোর বিরোধী সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী শেখ হাসিনা গায়ের জোরে বেগম জিয়াকে আটকিয়ে রেখেছেন।  এসময় সারাদেশে বন্যার চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটে হাহাকার করছে। ত্রাণের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও কোন ত্রাণ পাচ্ছে না বন্যাকবলিত মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তাদের দলীয় সভায় বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও এখনও পর্যন্ত ত্রাণ তৎপরতার কোন উদ্যোগই দেখা যায়নি। মিথ্যা চিৎকারসর্বস্ব দল আওয়ামী লীগ।
এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, আমাদের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিভাগীয় সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ তারিখ বরিশাল, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম- এসব নিয়ে আমরা ব্যাতিব্যস্ত। তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে রিজভী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি এবং কিছুদিন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতিও ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ঢাকা মহানগরী ছাত্র দলের সভাপতি বর্তমানে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া ও ওই সময়ে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতা ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে দলের যুগ্ম-সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ওই সময়ে আমাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন-নির্যাতনের মাত্রাটা বহন করতে হয়েছিলো। সে সময়ের দিনগুলো স্মরণ করলে এখন শিহরিত হয়ে উঠতে হয়। আমরা এখন আমাদের নেত্রীর মুক্তি দিয়ে ব্যস্ত। অন্য কিছু নিয়ে ভাবনার সময় এখন নেই।
এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাহেব বলেছেন,প্রধান বিচারপতি থাকার পরেও বিচার পাইনি আর এখন তো ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। একজন প্রধান বিচারপতি তার স্বাধীন বিচারকর্মের কারণে তাকে প্রাণভয়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। কিভাবে চলে যেতে হয়েছে, কারা চলে যেতে তাকে বাধ্য করেছেন এটা নিশ্চয়ই আপনারা জানেন। কী ভয়ংকর পরিস্থিতিতে সরকারের লোকেরা মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাকে দেশছাড়া করেছে। এখন তার বিরুদ্ধে নতুন করে যে মামলা দেয়া হয়েছে তা গোটা বিচার বিভাগের জন্য সরকারের সর্তক সঙ্কেত।
খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দেশের কৃষক-শ্রমিক-শিক্ষক-চিকিৎসক-প্রকৌশলী-সাংবাদিক সকলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সোচ্চার। দেশের সকল জনগোষ্ঠী তার মুক্তি চায়। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ দেশনেত্রীকে এই মুহূর্তে মুক্তি দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ আজ সকল অধিকারহারা হয়ে এক ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে প্রতিনিয়ত দেশনেত্রীর মুক্তির প্রহর গুণছে। জনগণ মনে করে বেগম জিয়া কারামুক্ত হলেই অন্ধকারের কালো রাতের অবসান হবে, মানুষ প্রাণখুলে কথা বলতে পারবে, গুমের ভয়-ক্রসফায়ারের ভয়-মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতারের ভয় থেকে মুক্ত হতে তাদের মধ্যে সাহস সঞ্চারিত হবে। কোটি কোটি মানুষের এই আকাক্সক্ষা সরকার প্রধানের মনে ভীতি তৈরী করেছে।
রিজভী বলেন, বর্তমান মধ্যরাতের সরকারের কৃপাধন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের পক্ষভুক্ত হওয়ার কারণে এরা এখন মানুষের নাগরিক স্বাধীনতার প্রতিপক্ষ। সরকার ঢাকার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে ক্রীতদাসের মতো পণ্যে পরিণত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। শাশ্বত গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় সংবিধানেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা স্বীকৃত। কিন্তু পুলিশ মিছিল দেখলেই নেতাকর্মীদেরকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। থানায় গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ রিমান্ড পাওয়া না পাওয়া নিয়ে দরকষাকষি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে জটিল মামলা দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হওয়ার পরে তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর সৃষ্টি হয় এক বিষাদ ঘণঘোর পরিস্থিতি। পুলিশ স্টেশনগুলো যেন এখন দাসবাজারে পরিণত হয়েছে। আর এই দাস’রা হচ্ছেন বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ। বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের আহবানও জানান রিজভী।
বিএনপির এ নেতা বলেন, বিচার-আচার-পুলিশ-প্রশাসনসহ সকল রাষ্ট্রযন্ত্রকে হাতের মুঠোয় নিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিসহ বিরোধী দল-মত-পথে বিশ্বাসীদের নিশ্চিহ্ন করতে নীল নকশা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। সেজন্য পাশবিক নারী-শিশু নির্যাতন, কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে লোমহর্ষক হত্যা, নারী নির্যাতনের পর পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেয়াসহ দেশ অনাচার অবিচারে ভরে উঠেছে। তিনি বলেন, বর্তমান মধ্যরাতের সরকারের কৃপাধন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের পক্ষভুক্ত হওয়ার কারণে এরা এখন মানুষের নাগরিক স্বাধীনতার প্রতিপক্ষ।
রিজভী বলেন, দেশের উন্নয়নের জোয়ার মানুষ দেখেনি, মানুষ দেখছে বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে শহর তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। এক মাসে চট্টগ্রাম নগরী ডুবেছে পাঁচ বার, আর রাজধানী ঢাকার মানুষ বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। উজানের পানি ও প্রবল বর্ষণে সারাদেশ এখন পানিতে ভাসছে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, জামলপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেটসহ তিন পার্বত্য জেলার বাসিন্দারা এখন পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্য বিস্তৃত হয়ে দেশের মধ্যভাগসহ প্রায় সকল জেলা আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। একদিকে বসতবাটি তলিয়ে গেছে, গবাদি পশু ও ক্ষেতের ফসল ভেসে গেছে। অন্যদিকে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকটে হাহাকার করছে। ত্রাণের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকেও কোন ত্রাণ পাচ্ছে না বন্যাকবলিত মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তাদের দলীয় সভায় বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেও এখনও পর্যন্ত্র ত্রাণ তৎপরতার কোন উদ্যোগই দেখা যায়নি। মিথ্যা চিৎকারসর্বস্ব দল আওয়ামী লীগ। অসংযমী ভাষণ, উদ্ভট মন্তব্য, অনাবশ্যক কটূকথা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি। সুতরাং দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ, দুর্বিপাক ও দুর্নীতি ছাড়া জনস্বার্থে ভাল কিছু করার ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের নেই। আওয়ামী নেতারা শুনে কম, কিন্তু বলে বেশী। তারা দেশব্যাপী মহাপ্লাবনের বিপর্যয় নিয়ে ছলচাতুরী করছেন। আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশের বিত্তবান মানুষদেরকে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় অসহায় মানুষদের পাশে যার যার সামর্থ অনুযায়ী দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ