ঢাকা, সোমবার 15 July 2019, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬, ১১ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ৮ আসামীর আত্মসমর্পণ

পাবনা সংবাদদাতা : পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলীবর্ষণের মামলার রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বিএনপি’র নেতা-কর্মী ৮ আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। 
গতকাল রোববার দুপুর পৌনে একটার দিকে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক রোস্তম আলীর আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকৃত আসামীরা হলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মো. রবি ও মো. জয়েনউদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ চেয়ারম্যান। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলেন, মোঃ জামাত আলীর ছেলে চাদ আলী, মোঃ মহসীন রিয়াজির ছেলে রনো, মোঃ মতিয়ার রহমান সরদারের হুমায়ন কবির দুলাল, মোঃ জালাল গার্ডের ছেলে মামুন ও মোঃ আছির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম। এদিকে পূর্বের একটি অলাদা মামলায় জেল হাজতে আটক মৃত ফিয়ার আলীর ছেলে আজাদ আলী খোকন আইনজীবির মাধ্যমে এ মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। আদালত এর বিচারক রোস্তম আলী আত্মসমর্পণকারীদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন এবং সাজা কার্যকরের নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে আত্মসমর্পণকৃত আসামীরা জানান, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন। তারা উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করেন। 
উল্লেখ্য গত  ৩মে পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক রোস্তম আলী ২৫ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলীবর্ষণ মামলার রায়ে ৯জনকে ফাঁসি ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা, ২৫জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৩লাখ টাকা করে জরিমানা ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদ- প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় মোট ৫২জন আসামীর মধ্যে ৩৪ জন আসামী উপস্থিত ছিলেন। মামলা চলাকালীন সময়ে  আলী আজগর, খোকন, তুহিন, আলমগীর ও ওসিয়া বিভিন্ন সময় মারা যায়। আজ ৮জন আসামী আত্মসমর্পণ করলেন। এ সময় আসামী পক্ষের আইনজীবি নুর ইসলাম গেদাসহ ১০/১৫ আইনজীবি উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়,  তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি করলে অতর্কিত ট্রেন ও শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলীবর্ষণ করা হয়। ওইদিনই ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭ জনকে আসামী করে বিস্ফোরক আইনের ৩ এবং ৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৩, তাং-২৩-০৯-১৯৯৪।  ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলাটি পুনঃতদন্ত করে পুলিশ। তদন্ত শেষে নতুন ভাবে ঈশ্বরদীর শীর্ষস্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনের নামে অভিযোগপত্র প্রদান করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামী ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ ৫ আসামী পলাতক রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ