ঢাকা, সোমবার 15 July 2019, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬, ১১ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে শিরোপা জিতলো ইংল্যান্ড

কামরুজ্জামান হিরু:সুপার ওভারের রোমাঞ্চে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুললো ইংল্যান্ড। চরম নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচটি টাই হলে পরে সুপার ওভারে গড়ায়।সেখানেও ছিল নাটক।  টাই সুপার ওভার হওয়ায় দু’দলের বাউন্ডারি হিসেব করে ট্রফির উদযাপনে মাতে ইংলিশরা।শেষ পর্যন্ত বিস্ময় আর রোমাঞ্চে ভরা এক ফাইনাল উপহার দিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো ইংল্যান্ড। সুপার ওভারে আগে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট বোল্টের ওই ওভারে স্টোকস ও বাটলারের ব্যাটে ১৫ রান করে তারা। স্টোকস ও বাটলার একটি করে বাউন্ডারি মারেন। রোমাঞ্চ ছড়ায় নিউজিল্যান্ডও। লক্ষ্যে নেমে জোফরা আর্চারের প্রথম দুই বলেই পেয়ে যায় তারা ৯ রান। প্রথম বল ওয়াইডের পর নিশাম ৬ মারেন। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে ২টি করে রান নেন নিশাম। তাতে শেষ ২ বলে ৩ রান দরকার ছিল কিউইদের। পঞ্চম বলে দৌড়ে একটি রান নেন নিশাম। তাতে শেষ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২ রানের। মার্টিন গাপটিল দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন। তিনি সীমানায় পৌঁছানোর আগেই ফিল্ডারের থ্রো থেকে বাটলার বল হাতে নিয়ে ভেঙ্গে দেন স্টাম্প। সুপার ওভারও টাই হলে বাউন্ডারি বেশি থাকায় জিতে যায় ইংল্যান্ড। আগে ১৯৭৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়া আর ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের কাছে ফাইনালের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিলো ইংল্যান্ড। মাইক ব্রিয়ারলি, মাইক গ্যাটিং ও গ্রাহাম গুচদের আক্ষেপ ঘুচালেন এউইন মরগান। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়ার পর থেকে যে উত্থান, তারই পুরস্কার তারা পেলো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে। দলকে শীর্ষ র‌্যাংকিংয়ে নেওয়া অধিনায়কের হাতেই উঠলো বিশ্বকাপ ট্রফি।

ইংল্যান্ডের শ্রেষ্টত্বের মধ্য দিয়েই শেষ হলো বিশ্বকাপের ৪৬ দিন ব্যাপী বিশ্বকাপের ১২তম আসরের। বৃষ্টি ভেজা মাঠে ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হয় ১৫ মিনিট বিলম্বে।আগে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের। স্বাগতিক হওয়ায় লর্ডসের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মোকাবেলা করতে নেমে ইংলিশদের শিরোপা প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। ২৭ বছর পর সেই প্রত্যাশা পূরণে সফল হয়েছেন ইংলিশরা। গতকাল রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের তোপের মুখে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে ইংলিশদের দরকার ২৪২ রান।লর্ডসে টস জিতে আগে ব্যাট করলেই সর্বনাশ। পরাজয় নিশ্চিত- এমন একটা ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। গত চারটি ফাইনালের চিত্রটাই এ রকম। যারা টসে জিতেছে তারাই হেরেছে। এবার দেখা মিললো একই চিত্রের। তাই টসে হেরেই যেন ইংলিশরা মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে। মাঠে লড়াইয়ের ফলটা এখন কেমন হয় সেটা দেখার অপেক্ষায় ছিল ক্রিকেট বিশ্ব। ইংলিশ বোলারদের তোপের মুখে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪১ রান করতে সক্ষম হয়েছে নিউজিল্যান্ড।

কিউইদের ব্যাটিংয়ের ওপেনিংয়ে নামেন মার্টিন গাপটিল এবং হেনরি নিকোলস। দলীয় ২৯ রানের মাথায় বিদায় নেন গাপটিল। ক্রিস ওকসের বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে কিউই এই ওপেনার ১৮ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় করেন ১৯ রান। এরপর স্কোরবোর্ডে আরও ৭৪ রান যোগ করেন দলপতি কেন উইলিয়ামসন এবং ওপেনার হেনরি নিকোলস। দলীয় ১০৩ রানের মাথায় বিদায় নেন উইলিয়ামসন। লিয়াম প্লাংকেটের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে কিউই দলপতির ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান। তার ৫৩ বলের ইনিংসে ছিল দুটি বাউন্ডারি।দলীয় ১১৮ রানের মাথায় বিদায় নেন ওপেনার হেনরি নিকোলস। বিদায়ের আগে ফিফটি হাঁকান তিনি। লিয়াম প্লাংকেটের দ্বিতীয় শিকারে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে নিকোলস ৭৭ বলে চারটি বাউন্ডারিতে করেন ৫৫ রান। রস টেইলর বিদায় নেন দলীয় ১৪১ রানের মাথায়। মার্ক উডের করা ৩৪ ওভারে এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায়ের আগে টেইলর ৩১ বলে করেন ১৫ রান। ২৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ১৯ রান করে ফেরেন অলরাউন্ডার জিমি নিশাম। কলিন ডি গ্রান্ডহোম (১৬) দলকে বেশিদূর নিতে পারেননি। ৪৯ ওভারে বিদায় নেওয়ার আগে টম ল্যাথাম করেন ৪৭ রান। তার ৫৬ বলে সাজানো ইনিংসে ছিল দুটি চার, একটি ছয়।ইংলিশ পেসার লিয়াম প্লাংকেট ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে তুলে নেন তিনটি উইকেট। মার্ক উড ১০ ওভারে ৪৯ রান খরচায় তুলে নেন একটি উইকেট। বেন স্টোকস ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ৮ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন স্পিনার আদিল রশিদ। ক্রিস ওকস ৯ ওভারে ৩৭ রান খরচায় তুলে নেন তিনটি উইকেট। জোফরা আর্চার ১০ ওভারে ৪২ রান দিয়ে একটি উইকেট পান।

২৪২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৮ রানের মাথায় বিদায় নেন জেসন রয়। ব্যক্তিগত ১৭ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। আরেক ওপেনার ইনফর্ম জনি বেয়ারস্টো ৫৫ বলে সাতটি বাউন্ডারিতে ৩৬ রান করে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা জো রুট (৭) নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলপতি ইয়ন মরগানও (৯) খুব বেশিদূর এগুতে পারেননি। দলীয় ৮৬ রানে টপঅর্ডারের চার উইকেট পড়ে ইংলিশদের।সেখান থেকে ১১০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে টানতে থাকেন বেন স্টোকস এবং জস বাটলার। দলীয় ১৯৬ রানের মাথায় বিদায় নেন বাটলার। ৬০ বলে ছয়টি বাউন্ডারিতে ৫৯ রান করেন তিনি। মাঝে লিয়াম প্লাংকেট ১০ বলে করেন ১০ রান। জোফরা আর্চার কোনো রান না করেই ফেরেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৫ রান। বেন স্টোকস প্রথম দুই বলে রান পাননি। তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকান। চতুর্থ বলে ডাবল রান নেওয়ার পথে স্টোকসের ব্যাটে লেগে অতিরিক্ত আরও চার রান আসে। পঞ্চম বলে রানআউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে দরকার হয় ২ রানের। ডাবল রান নেওয়ার পথে রানআউট হন মার্ক উড। ম্যাচ টাই হলে গড়ায় সুপার ওভারে। বেন স্টোকস ৯৮ বলে ৫ চার আর ২ ছক্কায় ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।নিউজিল্যান্ডের কলিন ডি গ্রান্ডহোম ১০ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন। ১০ ওভারে ৪০ রান খরচায় একটি উইকেট পান ম্যাট হেনরি। স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ৩ ওভারে ১১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। লুকি ফার্গুসন ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে নেন তিনটি উইকেট। জিমি নিশাম ৭ ওভারে ৪৩ রান খরচায় তিনটি উইকেট পান। ট্রেন্ট বোল্ট ১০ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ