ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিলেটে পাহাড় ধসের শঙ্কা

সিলেট ব্যুরো : টানা ৭ দিনের বৃষ্টিতে সিলেটে পাহাড় ধসের শঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। সিলেট সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদস্থানে পুনর্বাসনে অভিযান চালিয়েছে সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজের নেতৃত্বে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট সুনন্দা রায় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোজিনা আক্তার।
সকাল ১০টা থেকে তারা সদর উপজেলার বহর, টুকের বাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গির নগর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদস্থানে সড়িয়ে নেয়ার জন্য অভিযান করেন। এসময় বসবাসকারীদের কয়েকদিনের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানান তারা। তবে এসব এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি না থাকায় কাউকে জোর করে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠাননি তারা।
এ ব্যপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ গণমাধ্যমকে বলেন- সিলেটে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের জন্য প্রশাসন নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র চালু করেছে। গতকাল সোমবার সকালে এসব এলাকায় অভিযান করে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বুঝিয়ে বলা হয়।
এছাড়া নগরীর জগদিশ টিলা নামে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের খবর পেয়ে তিনি সেটি সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন বলে জানান।
নিষেধাজ্ঞা মানছেন না পর্যটকরা
সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছানাকান্দি ও কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ ও সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে প্রশাসনের দেয়া নিষেধাজ্ঞা মানছেন না দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা। টানা ৭ দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে এ দুটি পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণ এখন অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে কোম্পানগঞ্জের সাদাপাথর এলাকায় ২ দিনে ৪ পর্যটক সহ ৫ জন মারা যান। এর পরও এসব পর্যটন এলাকার দিকে ছুটছেন পর্যটকরা।
 গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিছানাকান্দি ভ্রমন এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাই গত শনিবার থেকে এই পর্যটনকেন্দ্রটিতে ভ্রমণের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
একই কথা জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ব্যানার্জি। বলেছেন, ভোলাগঞ্জ ও সাদা পাথর বেড়াতে যাওয়া এখন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গত ৩/ ৪ দিন থেকে আমরা এখানে ভ্রমনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি।
তবে জানা গেছে, পর্যটকরা এসব নিষেধাজ্ঞা মানতে রাজী নয়। সৌন্দর্য পিপাষুরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সিলেট অঞ্চলে বেড়াতে আসছেন, মূলতঃ এ দুটি পর্যটনকেন্দ্রের টানে। তারা যাচ্ছেনও। এসব নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করছেন না। দেখছেন, ঘুরছেন। সুন্দরের এমনই আকর্ষণ যে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চরম অসন্তুষ্ট। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা দিলেও লোকজন তা মানছেন না। কেউকেউ ঝুঁকি নিয়েই বিছানাকান্দি যাচ্ছেন। একই ঘটনা ঘটছে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এবং সাদা পাথরেও।
তবে দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাই জানিয়েছেন, বৃষ্টি এবং উজানের ঢল কমে এলে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। তখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
ভাঙতে পারে কুশিয়ারার ডাইক
টানা ৭ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কুশিয়ারা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যে কোন সময় কুশিয়ারার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগরের ভাঙতে পারে কুশিয়ারার ডাইক। পানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা।
গতকাল সোমবার বিকাল ৪ টার দিকে শেরপুরের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারার পানি ওসমানীনগরের শেরপুরে ৪৫ সে.মি. বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানা গেছে। পানি কুশিয়ারর ডাইকের উপর দিয়ে প্রবেশ করায় ভেসে গেছে একাধিক মৎস্য খামার। প্রায় ২০টি বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে। কুশিয়ারা ও ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। কুশিয়ারার ডাইকের বালুর বস্তা দিয়ে বাদ রক্ষা করারর চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে বালুর বস্তা দিয়ে বাদ রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন স্থানীয়রা। বালুর বস্তাদিয়ে কুশিয়ারার পানি প্রবেশে বাধা দিলেও বাধের উপর দিয়ে বন্যার পানি নামছে। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুশিয়ারার ডাইক পরিদর্শন করছেন। সেমাবার সকাল পর্যন্ত কুশিয়ারা ডাইকের উপর দিয়ে পানি নিম্নাঞ্চলে নামছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতের পানিতে ওসমানীনগরে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলা এলাকায় কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি স্থানে ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবেশ ও বৃষ্টিপাতের পানিতে উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের রাস্তা-ঘাট বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় অর্ধ শতাধিক মৎস্য খামার। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকসহ প্রায় ২০ টি বিদ্যালয়ে এবং বিদ্যালয়ের মাঠে পানি রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কয়েকটি স্থানে কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা আশংকা করলেও উপজেলা প্রশানের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কররা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমন অবস্থায় থাকলে আর পানি বৃদ্ধি পেলে ওসমানীনগরের প্রধান এলাকাসহ সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্যায় ক্ষতিগস্ত গ্রামগুলো হলো- উপজেলার সাদীপুর, লামা তাজপুর, দক্ষিণ তাজপুর, চর তাজপুর, ইব্রাহিমপুর, সুন্দিখলা, সুরিকোনা, গুচ্ছগ্রাম, লামা গাভুরটিকি, চাতলপাড়, খসরুপুর (খসরুপুর একুয়ার) গালিমপুরসহ আরো কয়েকটি গ্রাম ও রাস্তা-ঘাট প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলার সাদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব জানান, কুশিয়ারা ডাইকের পানি প্রবাহিত স্থানে মাটি ভর্তি বস্তা দেয়া হচ্ছে। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, আমি কুশিয়ারা ডাইক পরিদর্শন করেছি। ডাইকের উপর দিয়ে পানি যাওয়ার স্থানে বালু ভর্তি বস্তা দেয়া হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ