ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিরাজগঞ্জে বিকল্প সড়ক নিয়ে শঙ্কা

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ জেলা পয়েন্টে যমুনার পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়ে সোমবার বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি বাড়ায় জেলার কাজীপুর, সদর ও চৌহালী উপজেলার বেশ ক'টি স্থানে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। এদিকে, সদর উপজেলার বাঐতারায় ঝুঁকিপূর্ণ স্লুইসগেট নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খোদ পাউবোর প্রকৌশলীরা। যমুনার পানি স্লুইসগেট বা সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের (সওজ) বিকল্প রাস্তা উপচে লোকালয়ে ঢুকতে পারে- এমন আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
সদর উপজেলায় পাউবোর মালসাপাড়া-মুলিবাড়ি বাঁধের ওপর নির্মিত সওজের রাস্তার পাশে বাঐতারা স্লুইসগেট এমনিতেই ভঙ্গুর। তার ওপর সওজ সম্প্রতি স্লুইসগেটটির ওপর পাকা সেতু নির্মাণ শুরু করেছে। প্রায় তিন মাস আগে স্লুইসগেটের পূর্বদিকের মাটি কেটে বিকল্প কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করে সওজ। এ কারণে স্লুইসগেটটির পূর্বদিকে মাটি পড়ে পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় এর কার্যকারিতা হারিয়েছে। অন্যদিকে, যমুনার পানি যে কোনো মুহূর্তে বিকল্প রাস্তা ও স্লুইসগেট উপচে লোকালয় বা শহরে প্রবেশের শঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে পাউবোর প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজনের উদ্বেগ ও পানি উপচে পড়া রোধে বিকল্প রাস্তাটি উঁচু করণে গত তিন মাসে সওজকে তিনটি সতর্কীকরণ চিঠি পাঠিয়েছে পাউবো। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। মোটেই টনক নড়েনি সওজের।
বাঐতারা স্লুইসগেটের ওপর পানি ওপচে গেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলাবাসীর কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তার সঠিক ধারণা ছিল না সওজের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসির কারণে জেলা প্রশাসনও সওজকে ক'দফা তাগিদ দেয়। এরপর বিলম্বে ক'দিন আগে বাধ্য হয়ে কাজ শুরু করে সওজ।
পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রণজিত কুমার সাহা বলেন, সওজ ও পাউবো দুটি আলাদা প্রকৌশল বিভাগ হলেও একটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে রাস্তাঘাট নিয়ে, অন্যটি বাঁধ ও নদীতীর রক্ষায়। তিন মাস আগে স্লুইসগেটের পাশে সওজ যখন বিকল্প রাস্তার জন্য মাটি কাটাকাটি শুরু করে, তখন আমরা তাদের সতর্ক করলেও তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। ক'দিন থেকে তারা স্লুইসগেটের পাশে বিকল্প রাস্তাটি উঁচুকরণের কাজ করছে। সেটি আরও তিন মাস আগেই করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে নিশ্চুপ ছিল সওজ।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, যাই হোক দেরীতে হলেও সওজ কাজ শুরু করেছে, এটাই বড় কথা। বিকল্প রাস্তা বা ভঙ্গুর স্লুইসগেট উপচে যমুনার পানি লোকালয়ে ঢুকলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, এটা যদি ধারণায় থাকত, তাহলে এ ধরনের গড়িমসি করত না সওজ। পানি আসার আগে সওজের উচিত রাতদিন কাজ করে বিকল্প রাস্তাটি উঁচু করা।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম পিকে বলেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পর অবশেষে গত ক'দিন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি যমুনার পানির চাপ বাড়ার আগে বিকল্প রাস্তাটি উঁচু করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ