ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারি কোষাগার থেকে বেতনের দাবিতে ৩২৮ পৌরসভার কর্মচারীদের অবস্থান

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।  দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের ৩২৮টি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে দেখা যায় জাতীয় ঈদগাহ এলাকার সামনে থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে তারা এই দাবি জানায়। বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অবস্থান নিয়েছেন। কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে কর্মসূচিতে উপস্থিত সংগঠনটির সভাপতি ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার সচিব মো. আব্দুল আলীম মোল্লা, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর পৌরসভার কর্মচারী সেলিম খান, মৌলভীবাজার পৌরসভার পৌর সচিব মোহাম্মদ ইসহাক ভূঁইয়া, ফরিদপুর পৌরসভা কর্মকর্তা শফি উদ্দিন শেখ, উপদেষ্টা কে জি এম মাহমুদ, এ জেড এম আনোয়ার, গোপালগঞ্জ জেলা সভাপতি এসএম সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।
সংগঠনটির সভাপতি ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার সচিব মো. আব্দুল আলীম মোল্লা দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, গত রোববার ১৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আগামী দু’দিনের মধ্যে দাবি মেনে না হলে আমরণ অনশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশের সব পৌরসভা বন্ধ থাকায় নাগরিক সেবা থেকে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। তাই অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা আশা করছি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, গত রোববার দুপুরে আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির উপেক্ষা করে কর্মসূচি অব্যাহত আছে। এখন পর্যন্ত ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে আমাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
 মৌলভীবাজার পৌরসভার পৌর সচিব মোহাম্মদ ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, আমাদের বেতন-ভাতা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৌরসভা থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু, পৌরসভার আয় সংকুলান না হওয়ায় অনেকেরই বেতন দীর্ঘ কয়েক মাস যাবৎ বকেয়া রয়েছে। যার ফলে আমাদের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। আমরা চাই, আমাদের বেতন-ভাতা পেনশন সুবিধা সবকিছুই সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হোক। যতদিন আমাদের এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করে যাবো।
ফরিদপুর পৌরসভা কর্মকর্তা শফি উদ্দিন শেখ বলেন, আমাদের একদফা একদাবি। সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন দিতে হবে। তিনি বলেন, পৌরসভা থেকে আমাদের যে কয় টাকা বেতন দেওয়া হয়, সেই বেতনে আমরা সংসার চালাতে পারি না। তারপরও দশ মাস চাকরি করার পরে একমাসের বেতন দেওয়া হয়। অনেকের চাকরি শেষ হয়ে গেছে। তারপরও তারা পেনশনের টাকা পাচ্ছেন না। তাই আমাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা ও পেনশন দিতে হবে।
ফরিদপুর পৌরসভার কর্মচারী সেলিম খান বলেন, সরকার আমাদের চাকরি দিয়েছে কিন্তু বেতন দেয়নি। এটা কী ধরনের নিয়ম? আমরা সরকারি কোষাগার থেকে বেতন চাই। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে উঠবেন না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ