ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চাল রফতানির বাজার খুলছে ফিলিপাইনে -কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ফিলিপাইনে সিদ্ধ চাল রফতানির বাজার খুলছে। বাংলাদেশের চাল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। ফিলিপাইনের সরকারের পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল চাল কেনার আগ্রহের কথা জানায়। তিনি বলেন, এ মুহূর্তের বন্যায় তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। মাঠেও তেমন কোনো ফসল নেই।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফিলিপাইনের সরকারের পক্ষে একটি প্রতিনিধি দল। তারা বাংলাদেশ থেকে চাল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে মন্ত্রী জানান। এ সময় চাল রফতানিকারকরাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দেশের কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার ইতোমধ্যে চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছে।
বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবার বাংলাদেশে চালের উৎপাদন, বিশেষ করে বোরোর উৎপাদন বেশি হয়েছে। বিগত কয়েকটি সিজন আউশ-আমন... আমনে এক কোটি ৪০ লাখ টন টার্গেট ছিল, উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ টন। এখন আমাদের অনেক মিলার-ব্যবসায়ীর গুদামে যথেষ্ট চাল রয়েছে। এবার বোরোতে উৎপাদন ভালো হওয়ায় অস্বাভাবিকভাবে চালের দাম কমে যায়। আমার বলতে কোনো দ্বিধা নাই, এ মুহূর্তে চালের দাম খুবই কম। এজন্য আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমাদের কৃষক-চাষীরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। ধান চাষাবাদ করে তাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কিছু চাল আমরা বিদেশে রফতানি করব।
তিনি বলেন, ফিলিপাইন থেকে একটি পার্টি এসেছে। তারা চালের আমদানিতে সে দেশের সরকারকে সহযোগিতা করেন। দেশটির সরকারও বলছে, তারা জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) মাধ্যমে চাল কিনতে পারে। তারা কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন মিলে গেছে, মান দেখেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশে চালের গুণগত মান ভালো। ফিলিপাইনের মানুষ সিদ্ধ চাল খায়। সেটাও আমাদের জন্য ফেভারেবল। কাজেই দেশটিতে সহজেই চাল বিক্রি করা যাবে। আমাদের কিছু মিলারের সাথে আলাপ-আলোচনা করেছে, তারা মনে করেছে দামও মোটামুটি রিজান্যাবল। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড তো মূল রফতানিকারক, তাদের দামের তুলনায় আমাদের চালের যে কোয়ালিটি তাতে দাম মোটামুটি ভালো হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বেলজিয়ামের এক ভদ্রলোক তিনি ফিলিপাইনে থাকেন, উনি চালের জন্য আমাদের সাথে দেখা করতে এসেছেন। কাল তারা বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছে। আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি আমরা ভালো ডিল করতে পারব রফতানির ব্যাপারে।
কী পরিমাণ রফতানি করা যাবে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, এ মুহূর্তে বাংলাদেশ চালের উদ্বৃতে আছে। দশ লাখ টন চাল রফতানি করলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ, যেকোনো সময় বন্যা হতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতে পারে। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা গ্রাজুয়ালি যাব। যেমন- আমরা এখন দুই লাখ টন দিয়েছি। আরও যদি চাহিদা আসে আমরা পাঁচ লাখ করব। এভাবে আস্তে আস্তে যাব। তারা এখন এক লাখ টন নিতে চাচ্ছে। ফিলিপাইন সরকারও (সরকার-টু-সরকার) আমাদের সরকারের কাছ থেকে চাল কিনে নিতে চাচ্ছে। তারা আমাদের মেসেজ দিয়েছে, ফিলিপাইন সরকার আগ্রহী, আমরা যদি রাজি থাকি তাহলে আমাদের আমন্ত্রণ করবে বা তারা আসবে।
ফিলিপাইন কোন ধরনের চাল নিতে চায়- জানতে চাইলে চাল রফতারিকারক ও রশিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, মাঝারি ধরনের আটাশ ও ঊনত্রিশ চালের ডিমান্ড তাদের বেশি। সাথে সাথে হয়তো মিনিকেটও কিছু করা যেতে পারে। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে- এ ব্যবসায়ী বলেন, তারা যে প্রাইস বলেছে, সরকার যদি সহায়তা না করে তা হলে তাদের প্রাইসের সঙ্গে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে যাবে। কারণ অন্যান্য দেশে চালের দাম এখনও অনেক কম। আমাদের যে উদ্দেশ্য সেটা যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, সেই বিষয়ে সরকারকেও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই সার্থক হবে।
চাল রফতানি করলে কৃষক পর্যায়ে কী প্রভাব পড়বে- এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘যদি পাঁচ লাখ টন চাল রফতানি করতে পারি অবশ্যই দামের ওপরে প্রভাব পড়বে। আমরা বলেছিলাম, তাই দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। আবার দাম কমার দিকে।
সাধারণ মানুষ চাপের মধ্যে পড়বে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, সাধারণ মানুষ কোনো চাপের মধ্যে পড়বে না। কোনোক্রমেই কোনো চাপের মধ্যে পড়বে না।
বন্যায় ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না: দেশজুড়ে এখন বন্যা হচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বন্যা এমন কোনো বন্যা না। বাংলাদেশ বন্যা-খরার দেশ। আমরা ছোটবেলা থেকে পড়েছি, বন্যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ, আবার খুব খারাপ হলে অভিশাপ। আমাদের বন্যার দরকার আছে দুটি কারণে। আমার যে সেচ ব্যবস্থায় গেছি, এখন নিচ থেকে পানি তুলে খরচ করছি। নতুন ব্যবস্থা পূরণ করতে হলে, বন্যা না হলে, বৃষ্টি না হলে এটা কীভাবে হবে? পানির স্তর আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাচ্ছে। আরেকটা হলো, বন্যার পানির সাথে অনেক পলি মাটি আসে, যেটার মধ্যে অনেক নিউট্রিয়েন্ট, অনেক সার আছে। এটাকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই- বলেন আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, আমরা চাই না বন্যায় আমাদের ক্ষতি হোক, কিন্তু আমরা সবসময় মনে করি স্বাভাবিক বন্যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ, আমাদের চাষীদের জন্য কল্যাণ-মঙ্গলজনক। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে বন্যায় তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। মাঠেও তেমন কোনো ফসল নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ