ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চাকরি স্থায়ীকরণসহ ৭ দফা দাবিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মীদের টানা আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার: চাকরি জাতীয়করণসহ ৭ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যাংকের কার্যক্রম। গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চলছে এই আন্দোলন। ফলে দেশব্যাপী বন্ধ রয়েছে ব্যাংকের লেনদেন। সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মিহির কান্তি মজুমদার এবং ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে নতুন নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ করে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি নামের দুটি সংগঠন।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ব্যাংকের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সোলায়মান, আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সদস্য জিন্নাত আর তুলি, রাজিব সরকার, মো. রহমত, তরিকুল ইসলাম, মানস নন্দী, তাপস ইসলামসহ অনেকে। আর মানববন্ধনে কয়েক শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
একইসঙ্গে আজ মঙ্গলবার ১৬ জুলাই সকাল ৯টা থেকে পুনরায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের নেতা জসিম উদ্দিন।
মানববন্ধনে প্রকল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জানান, ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি পল্লীসঞ্চয় ব্যাংকের অধীনে নেওয়ার কথা ছিল। প্রকল্প ও ব্যাংকের আইন অনুযায়ী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ প্রকল্পে কর্মরত সব জনবলকে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক তিন বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিধি-নিয়ম না মেনে ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিসহ অন্য কর্মকর্তারা নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। এরইমধ্যে এ অনিয়মের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে।
গত রোববার ৭ জুলাই থেকে তারা দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন বলে দৈনিক সংগ্রামকে জানিয়েছেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প (বিলুপ্ত) ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান।
আন্দোলনরতরা জানান, গত ২৭ জুন বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে কর্মকর্তা পদে ১৪৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করে নিয়োগের স্থগিতাদেশ নেওয়া হয়। বোর্ড কর্তৃপক্ষ এটি মানেনি। আর বিভিন্ন সময় চাকরি স্থায়ী করার দাবি করলে কর্তৃপক্ষ উল্টা বিভিন্ন টার্গেট দেয়। সেই টার্গেট পূরণ করলে চাকরি স্থায়ী করার কথা ছিল। কিন্তু টার্গেট পূরণ করা হলেও চাকরি স্থায়ী হয়নি। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত মাঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারাদেশ থেকে প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চলমান এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তারা বলেন, আমাদের দিয়ে প্রকল্পের কাজ করানো হয়। ব্যাংকের কাজ করানো হয়। আমরা অনেকেই বিগত আট বছর ধরে কাজ করছি। কিন্তু আমাদের চাকরি স্থায়ী করা হচ্ছে না।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো হচ্ছে- ২০১৬ সালের ৩০ জুনের আগে নিয়োগ করা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সব জনবলকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে চাকরি স্থায়ী করে পরিপত্র জারি করতে হবে, স্থানান্তর প্রহসন বন্ধ করে বিগত তিন বছরের ইনক্রিমেন্ট, দৈনিক ভাতা ও সব সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, সব পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দিতে হবে, তাদের চাকরি স্থায়ী করার আগে নতুন জনবল (ক্যাশ সহকারী, সিনিয়র অফিসার, উপ আঞ্চলিক কর্মকর্তা পদে) নিয়োগ দেওয়া যাবে না, নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে, উচ্চ আদালতের নিষেধ অমান্য করে দেওয়া নিয়োগ বাতিল করতে হবে এবং আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না। আন্দোলনকারীরা দৈনিক সংগ্রামকে এও জানান, দাবি আদায় হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ