ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুমিল্লায় বিচারকের খাস কামরায় আসামীকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লার  আদালতে বিচারকের খাস কামারায় ঢুকে ফারুক নামের এক আসামীকে টেবিলের উপর ফেলে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারুক মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দি গ্রামের অহিদ উল্ল্যাহ ছেলে। ঘাতক হাসান  লাকসাম উপজেলার ভোজপাড়া গ্রামের শহিদ উল্ল্যাহর ছেলে। সম্পর্কে তারা ফুফাতো মামাতো ভাই।
মামলার আইনজীবী এপিপি নুরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের কান্দি গ্রামে হাজী আবদুল করিম হত্যার ঘটনা ঘটে। গতকাল সোমবার ওই মামলার জামিনে থাকা আসামীদের হাজিরার দিন ধার্য ছিল। বেলা ১১টার দিকে এ মামলার আসামীরা আদালতে প্রবেশের সময় ৪নং আসামী ফারুককে ছুরি নিয়ে তাড়া করে ৮নং আসামী হাসান। এ সময় জীবন বাঁচাতে ফারুক বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করেন। সেখানে হাসান প্রবেশ করে টেবিলের উপর ফেলে ফারুককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে ওই কক্ষের ফ্লোরে ফেলেও আঘাত করা হয়। আদালতে অন্য একটি মামলার হাজিরা দিতে আসা  বাঙ্গরা থানার এএসআই ফিরোজ এগিয়ে গিয়ে হাসানকে আটক করে।
এ সময় আদালত কক্ষে বিচারক, আইনজীবী ও অন্য আসামীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই ভয়ে ছুটাছুটি শুরু করেন। গুরুতর আহত ফারুককে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   
কুমিল্লা পুলিশ সুপার  সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, একই মামলার এক আসামী অন্য আসামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। আসামীকে আটক করা হয়েছে। আদালতে থাকা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌস বলেন, আমার সামনে একজন আসামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হলো। আমার উপরও হামলা হতে পারতো। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার  সৈয়দ নুরুল  ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলন, এতোটা নিরাপত্তার মাঝেও আসামী ছুরি নিয়ে কীভাবে আদালতের ভেতরে প্রবেশ  করলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দায়িত্বরত পুলিশের অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘মামাতো-ফুপাতো ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছি এবং আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ