ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

এরশাদের দাফন জীবন দিয়ে হলেও রংপুরের মাটিতে হবে

রংপুর অফিস : জীবন দিয়ে হলেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন রংপুরের মাটিতে সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তরবঙ্গের জাতীয় পার্টির নেতারা।
এজন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ এরশাদ ভক্তদের প্রয়োজনে আন্দোলনে মাঠে নামার জন্য প্রস্তত থাকতে বলেছেন নেতৃবৃন্দ। গতকাল সোমবার দুপুরে রংপুর সেন্ট্রাল রোডস্থ জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার নেতৃবৃন্দের জরুরী সভা থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগর সভাপতি এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দুই বিভাগের শীর্ষ নেতারা এ সময় তাদের মতামত তুলে ধরেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে দাবিয়ে রাখতে ও সাধারণ জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কেন্দ্রের গুটি কয়েক নেতা এরশাদের দাফন নিয়ে রাজনীতি করছে। তাদের এই রাজনীতি মেনে নেয়া হবে না। আমরা এরশাদের সমাধি জাতীয় তিন নেতার সমাধির পাশে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ওনারা জাতীয় পাটির্র অস্তিত্ব বিলীন করতে ষড়যন্ত্র করে সামরিক কবরস্থানে স্যারকে সমাহিত করতে চান। যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ। এবাবে এরশাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা আদর্শকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। সামরিক কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত দলের কেউই মানেন না। যেকোন মূল্যে রংপুরের মাটিতেই তাঁর দাফন করা হবে।’
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মেস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ‘এরশাদকে জাতীয় নেতার মর্যাদা দিয়ে সমাহিত করা হলে আমরা মানতাম। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। তাঁর লাশ দাফন নিয়ে কাউকে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ করব, আপনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপনি জনগণের আকূতি বুঝেন। জনগণের চাওয়া-পাওয়া দাবি কি তা বুঝেন। প্রধানমন্ত্রী আপনি বলে দিন, আমাদের সস্তানকে রংপুরের মাটিতে সমাহিত করার জন্য। তিনি বলেন, আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে, রংপুর থেকে এরশাদের লাশ কোন ভাবেই নিয়ে যেতে দেয়া হবে না। কেউ যািদ অপচেষ্টা চালা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে তা প্রতিহত করবে। আমরা জীবন দিতে প্রস্তত। তবুও রংপুরের পল্লীনিবাসে দাফন করা হবে। রংপুরের মানুষের আবেগ ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করলে কি হয়, তা লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা প্রমাণ করবে।
দলের যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস.এম ইয়াসিরের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ, রাজশাহী প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল ফারুক, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সালেক, দিনাজপুর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুবেল, সাবেক সংসদ সদস্য সাহানারা বেগম, রংপুর জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি তিতাস মোস্তফা, ঠাকুরগাঁও জেলা সদস্য সচিব আলী রাজী স্বপন, নীলফামারীর সদস্য সচিব শাজাহান প্রমুখ। সভায় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার জাতীয় পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে  সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদ প্রতি বছর ঈদুল আযহা নামাজ যে মাঠে দাঁড়িয়ে আদায় করতেন এবং জনগণের উদ্দেশ্যে কথা বলতেন। রংপুরের  সেই কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠেই তিনি আবারো আসছেন, কিন্তু এবার কোন কথা বলতে নয়। নিথর দেহ হয়ে শেষ বিদায় নিতে আসছেন। মঙ্গলবার  সকালে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির লাশ রংপুরে নেওয়া হবে। বাদ জোহর রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তার চতুর্থ জানাজার নামায অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে রংপুরের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে লাশ। এরশাদের মৃত্যু পরবর্তী অনুষ্ঠানিকতার জন্য রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা নামাজের আয়োজনের প্রস্ততি চলছে। সোমবার দুপুর থেকে মাঠে প্যান্ডেল নির্মাণ, মাইক সংযোগ স্থাপন ও মাঠ পরিষ্কার করা হচ্ছে। শোক প্রকাশ করে নগরজুড়ে চলছে জানাজায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে মাইকিং। দলীয় নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করার পাশাপাশি কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয়েছে কালো পতাকা। পাড়া-মহল্লার মসজিদ মাদরাসায় এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে চলছে দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতম। রংপুরে জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়সহ নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে মাইকে কোরআন তেলায়াত প্রচারের পাশাপাশি  শোক প্রকাশ করে ব্যানার ফেস্টুন সাটানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তৃণমূলের নেতা-কর্মীসহ রংপুরবাসী চাইছেন রংপুরই হোক এরশাদের শেষ ঠিকানা। এনিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে চলছে নানান রকম মন্তব্য। শেষ পর্যন্ত দাফন কোথায় হবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতির, তা জানতে মঙ্গলবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। উল্লেখ্য,গত রোববার ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ ইন্তিকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ