ঢাকা, মঙ্গলবার 16 July 2019, ১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১২ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার নথি যাচ্ছে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যালে

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ দৈনিক সমকালের সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যাকাণ্ডের আলোচিত মামলার নথিপত্র অবশেষে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যাল আদালতে যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালত থেকে খুব শিগগিরই মামলার নথিপত্র জেলা ও দায়রা জজের মাধ্যমে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যাল আদালতে প্রেরণ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের অতিরিক্ত সরকারি পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওয়াজ করুনী লকেট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে জানান, ‘আলোচিত শিমুল হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য ২৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে গেজেট আকারে প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মামলাটির বিচার কার্যক্রম সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যাল আদালতে স্থানান্তরের নির্দেশনা রয়েছে। আদেশ এরই মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সরকারি পিপি, শাহজাদপুর থানা পুলিশ এবং রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যাল আদালতসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। হয়তো দু’একদিনের মধ্যেই নথি রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুন্যালে প্রেরণ করা হবে।’ এ মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বাদী সাংবাদিক শিমুলের স্ত্রী বেগম নুরুননাহার দেড় বছর আগে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। গত ২৪ ডিসেম্বর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয় এবং জনস্বার্থে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্য্যুনালে স্থানান্তরিত করা হয়। এর আগে, জানুয়ারি মাসে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ৬ মাসের মধ্যে মামলাটির বিচারকার্য সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচার ও নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া গত ৬ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার আদেশ থাকলেও আসামীদের চার্জ গঠনই হয়নি। উল্লেখ্য, শাহজাদপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বিজয় মাহমুদকে অপহরণের পর মেয়র মিরুর বাড়িতে আটকে রেখে তার দু’সহোদর কর্তৃক মারপিটের ঘটনায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে হয়। ওই সংঘর্ষে পেশাগত দায়িত্ব পালনে গিয়ে মিরুর গুলীতে গুলীবিদ্ধ হয়ে পরদিন মারা যান সাংবাদিক শিমুল। ওই ঘটনায় মিরু ও তার সহোদর মিন্টুসহ ৪০ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেন শিমুলের স্ত্রী। মামলা দায়েরের ৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২ মে শাহজাদপুর আমলি আদালতে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। গত ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি এই মামলার বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য শাহজাদপুর আমলি আদালত থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ