ঢাকা, বুধবার 17 July 2019, ২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অবশেষে রংপুরের পল্লীনিবাসে এরশাদকে দাফন

গতকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, রংপুর অফিস : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের লাশ অবশেষে হাজারো ভক্তের অপ্রতিরোদ্ধ দাবির মুখে রংপুরের পল্লীনিবাসে লিচু তলায় দাফন করা হলো।
পল্লীনিবাসের লিচু বাগানে গত সোমবার বিকেলে যে কবর খনন করা হয়েছিল সেখানেই তাকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিটে তাঁকে কবরস্থ করা হয়। এর আগে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং তাঁর সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এসময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এরশাদের কফিন ফুলে ফুলে ঢেকে দেয়া হয়।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে লাশ নিয়ে যাওয়ার পথে লাশ বহনকারী গাড়ি হাজারো এরশাদ ভক্ত আটকে দেয়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে এরশাদকে রংপুরে দাফনের দাবি জানান। জানাযা শেষে নেতাকর্মীদের দাবির মুখে এইচ এম এরশাদের দাফন রংপুরেই হবে বলে ঘোষণা দেন এরশাদের ছোট ভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় এরশাদের লাশ বহনকারী গাড়ির আগে পিছে হাজার হাজার এরশাদ ভক্ত নেতা-কর্মী ধীরে ধীরে লাশবাহী এ্যম্বুলেন্স অনুসরণ করতে থাকে। লাশ বহনকারী গাড়ি এরশাদের স্বপ্নের বাসভবন রংপুরের পল্লী নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে। ওই গাড়ির সঙ্গে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে হাঁটছে হাজার হাজার মানুষ। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে পল্লী নিবাসে এরশাদকে দাফন করা হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ,ক,ম মোজাম্মেল হক, রংপুর সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিক রুহুল আমিন হাওলাদার, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও এরশাদ পুত্র স্বাদ, এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস.এম ইয়াসির গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল ফারুক, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সালেক, দিনাজপুর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুবেল, সাবেক সংসদ সদস্য সাহানারা বেগম, রংপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি তিতাস মোস্তফাসহ  সেনাবাহিনীরপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরে এরশাদের জানাযা সম্পন্ন : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মৃতদেহ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে বহনকারী হেলিকপ্টার ঢাকা থেকে রংপুর সেনানিবাসে অবতরণ করে। পরে রংপুর কালেক্টরেট মাঠে তাঁর লাশ নিয়ে আসা হয়। উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রংপুর মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা ২টা৩০মিনিটে  দিকে রংপুর কালেক্টরেট মাঠে তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় ইমামতি করেন হাফেজ  মাওলানা ইদ্রিস আলী। কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে ঢল নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতার। লক্ষাধিক মানুষ এরশাদের জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আগে বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিক রুহুল আমিন হাওলাদার, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও এরশাদ পুত্র স্বাদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক স¤পাদক আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস.এম ইয়াসির  প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ, রাজশাহী জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল ফারুক, পঞ্চগড় জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সালেক, দিনাজপুর জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুবেল, সাবেক সংসদ সদস্য সাহানারা বেগম, রংপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী আব্দুর রাজ্জাক, জয়পুরহাট জেলা সভাপতি তিতাস মোস্তফা, ঠাকুরগাঁও জেলা সদস্য সচিব আলী রাজী স্বপন, নীলফামারীর সদস্য সচিব শাজাহান ,বদরগজ্ঞ এলাকার সংসদ সদস্য ডিউকি চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমীর মাহবুবুর  রহমান বেলাল, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ সালাফি, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এটিএম আজম খান, নায়েবে আমীর মুহাম্মদ আব্দুল গনি, জেলা সেক্রেটারি সাবেক মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, বিএনপির রংপুর মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেন, আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, আওয়ামী লীগ নেতা ও  মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে লাশবাহী গাড়ি মাঠ ছেড়ে যেতে চাইলে নেতাকর্মীরা বাধা দেন। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এরশাদের দাফন রংপুরে করার দাবিতে জানাযা শেষে হট্টগাল শুরু হয়। জানাযা শেষে রংপুরে এরশাদের লাশ দাফনের জন্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে লাশ বহনকারী গাড়ি। এ সময় ১৫ মিনিট আটকে রাখা হয় লাশ বহনকারী গাড়ি। পরে জনস্রোতের চাপের মুখে জনতার বেষ্টনিতে জানাজা মাঠ ত্যাগ করে এরশাদের লাশবাহী গাড়ি। সেখান থেকে পল্লী নিবাসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় গাড়িটি। রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমানের নেতৃত্বে লাশবাহী গাড়িটি শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে পল্লী নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিন স্তরের নিরাপত্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয় : সাবেক রাষ্ট্রপতি, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জানাযাকে কেন্দ্র করে রংপুর ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল আলিম মাহমুদ জানান, রংপুরে এরশাদের জানাজা উপলক্ষে ব্যাপক লোক সমাগম হয় এটিই স্বাভাবিক। বিশৃঙ্খলা এরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে যা করা দরকার তাই করা হয়। তবে জানাযা সুশৃঙ্খলভাবে শেষ হয়। এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুর জেলা দোকান মালিক সমিতি নগরীর সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, এরশাদ স্যার আমাদের জন্য অনেক করেছেন। আজ তিনি নেই। তার সম্মানে আমরা আধাবেলা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছি। এসময় ওষুধ ও খাবার ছাড়া সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ