ঢাকা, বুধবার 17 July 2019, ২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাহালম কাণ্ডে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হয়েছে জানতে চান হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার: দুদকের দায়ের করা মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ করা জাহালমের বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে -তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলেছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ নিদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২১ জুলাই (রোববার) দিন ধার্য করেন আদালত।
এর আগে প্রতিবেদনের ওপর শুনানি না করে দুদকের আইনজীবী সময় আবেদন করলে আদালত গতকাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন ঠিক করেছিলেন। ওইদিন (১১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে দুদকের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে হলফনামা আকারে জমা দেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
প্রতিবেদনে তদন্তকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, জাহালমকে আবু সালেক রূপে চিহ্নিত করার জন্য যে ভুলটি হয়েছে তা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে। তবে তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয় দানকারীরা।
প্রসঙ্গত, সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের করা ৩৩ মামলায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ করেন টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালম। ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশের পর একজন আইনজীবী বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আদালত সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের মামলা (৩৩ মামলা) থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে সেদিনই মুক্তি দিতে নির্দেশ দেন। ওইদিন রাতেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।
এদিকে জাহালমের ঘটনায় দুদকের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দুদকের পরিচালক (লিগ্যাল) আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুদক। পরে তার সঙ্গে আরও একজন পরিচালককে সংযুক্ত করা হয়।
৯ জুলাই (মঙ্গলবার) দুদকের পক্ষে হাইকোর্টে একটি এফিডেভিট দাখিল করে দুদক দাবি করে, জাহালমের ঘটনায় তাদের দায় নেই। অথচ আদালতে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার ভুল হয়েছে। তবে তাদের ভুল পথে পরিচালিত করতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয় দানকারীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ