ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরি চলাচল যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : স্রোতের বিপরীতে টিকতে না পারায় শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ডাম্প ফেরি কে-টাইপ ও ছোটসহ অন্তত ১০ ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করায় এ নৌরুটে এখন যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। স্রোতের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে গতকাল সন্ধ্যার পর একই ঘাটে ফিরে আসে ২টি ফেরি। এতে রাতের মধ্যে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ঈদুল আজহায় এখানে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করতে পারে।
বিআইডব্লিউটিসির এজিএম মেরিন একেএম শাহজাহান  জানান, উজান থেকে ঢলের পানি নেমে আসায় পদ্মায় এখন প্রচুর স্রোত। এ স্রোতের প্রতিকূলে মান্ধাতা আমলের ৬টি ডাম্প ফেরি, ২টি মিডিয়াম ও ১টি কে টাইপ ফেরি সহ মোট ৯টি ফেরি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টা হতে এ ৯টি ফেরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সন্ধ্যার পর ঘাটে ফিরে এসছে ২টি ফেরি।  বর্তমানে এ নৌরুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করলেও এখন মাত্র ৪ টি ফেরি দিয়ে কোন রকমে পারাপার অব্যাহত রাখা হয়েছে। ফলে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল করায় উভয় ঘাটে প্রায় হাজারো যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে এতে করে  ঘাটে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। বিআইডব্লিউটিসির এই কর্মকর্তা আরো জানান, গতবছর শিমুলিয়া ঘাট থেকে বর্তমান রানিং চ্যানেলের আরো কিছুটা ভাটিতে একটি বিকল্প চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল করতো। কিন্তু এ বছর ওই চ্যানেলটি ড্রেজিং না করায় সেখান দিয়ে ফেরি চলাচল সম্ভব হচ্ছেনা। যদি ওই চ্যানেলটি খোলা থাকতো, তাহলে সেখান দিয়ে ফেরিচলাচল সম্ভব ছিল। কারণ ওই চ্যানেলে স্রোতের ধারা অনেকটা শিথিল। বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআডব্লিউটিএ) বারবার বলার পরেও ওই চ্যানেলটি চালুর কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে পদ্মায় স্রোতের ধারা না কমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব ফেরি পুনরায় সচল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এমনকি বাকী ফেরি ৪টি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপ পরিচালক এসএম আজগর আলী জানান, পদ্মায় এখন প্রায় সাড়ে ৪ নটিকেল মাইল বেগে স্রোত বইছে। পুরোনো ফেরিগুলো এ স্রোতের প্রতিকূলে পদ্মা পাড়ি দিতে পারছে না। এর ইঞ্জিনগুলো পুরনো হওয়ায় এর গতিবেগও কমে গেছে। বিকল্প চ্যানেলটিতে গত কয়েকমাস ধরে বিআইডব্লিউটিএর’র ড্রেজিং বিভাগ ড্রেজার দিয়ে খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। তবে এখনও তা প্রস্তুত না হওয়ায় চ্যানেলটি খুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। ড্রেজিংয়ের কাজ শেষ হলে চ্যানেলটি যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেয়া হবে।
মাওয়া ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইনেস্পেক্টর (টিআই) হিলাল উদ্দিন জানান, ঘাটে প্রচুর সংখ্যক যানবাহন আটকা পড়েছে। ঘাটের পাকিং ইয়ার্ড ছাড়িয়ে রাস্তার দুপাশে এ সকল যানবাহনকে সারিবদ্ধভাবের রাখা হয়েছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে। আটকা পড়েছে পন্যবাহী ট্রাক, কাভার্টভ্যানসহ অসংখ্য ছোট গাড়ী আর এসব যানবাহনের সারি শিমুলিয়া ঘাট থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার মাওয়া চোরাস্তা পর্যন্ত গিয়েছে। তিনি বলেন, স্রোতের প্রতিকুলে টিকতে না পেরে রোরো  ফেরি এনায়েতপুরীও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। তাছাড়া ফেরি ক্যামেলিয়া সন্ধ্যার পর শিমুলিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে রওনা দিয়ে স্রোতের প্রতিকুলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পুনরায় শিমুলিয়া ঘাটে ফেরত এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির এজিএম নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতুর কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চ্যানের কাছে একটি বাধ দিয়েছিল। সেটি উত্তাল পদ্মার স্রোতের টানে ভেঙে যাওয়ায় এখানে স্রোতের চাপ আরো বেড়ে যাওয়ায় ফেরিগুলো স্রোতের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পারায় আবার ঘাটে ফিরে আসছে। এ অবস্থায় ফেরি চলাচল সচল রাখা সম্ভব হবে কিনা বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে এ নৌ-রুটে ১৫ টি ফেরীরর পরিবর্তে একটি রোরো বীরশেষ্ট হামিদুর রহমান, কেটাইপ কুমিল্লা ও মিডিয়াম কাকলীসহ মোট ৪ টি ফেরী চলাচল করছে শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌ-রুটে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ