ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুসলিম স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে ইসকনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি

‘ইসকন’ তাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্কুলে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ কার্যক্রম চালানোর তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।
গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেছেন, গত মঙ্গলবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ইসকনের লোকেরা গেরুয়া বসন গায়ে স্কুলের শিশু-কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে হিন্দু সংস্কৃতি মতে প্লেটে অতিরিক্ত কাগজ দিয়ে খাবার পরিবেশন করছে এবং তাদেরকে "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে, মাতাজি প্রসাদ কি জয়" এসব হিন্দু ধর্মীয় নামজপ করাচ্ছেন।
আল্লামা কাসেমী বলেন, ভিন্ন ধর্মের দেবতার নামে উৎসর্গিত প্রসাদ মুসলমানদের জন্য ভক্ষণ করা ইসলামের আলোকে একেবারেই হারাম। তাছাড়া হিন্দুদের ‘হরে কৃষ্ণ রাম রাম’ স্লোগান দেওয়াও মুসলমানদের আক্বিদা-বিশ্বাসের ঘোরতর বিরোধী তথা শিরক। ৯২% মুসলিম অধ্যুষিত দেশের স্কুলে, যেখানে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীই মুসলিম, সেখানে ইসলামী আক্বিদা-বিশ্বাস ও মুসলিম চেতনাবোধের উপর এমন অবমাননাকর আঘাত চলছে, তা অবিশ্বাস্য।
জমিয়ত মহাসচিব প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে হিন্দুত্বের এসব কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত ও অনুমতিদাতাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন এবং কঠোর শাস্তি দিতে হবে। কারণ, এর মাধ্যমে তারা মুসলিম চেতনাবোধের উপর যেমন মারাত্মক আঘাত হেনেছে, তেমনি সাম্প্রদায়িক উস্কানীর অপচেষ্টা চালিয়ে দেশে গোলযোগ তৈরির ষড়যন্ত্রও করেছে। হতে পারে তারা এমন উস্কানীমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িক গোলযোগ তৈরি করে আধিপত্যবাদি কোন অপশক্তিকে ডেকে আনার অজুহাত তৈরি করতে চায়।
তিনি বলেন, মারপিটের ভয় দেখিয়ে ভারতে মুসলমানদেরকে ‘জয় শ্রীরাম’ বলানো যেমন সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন ও অপরাধ, তেমনি খাবারের লোভ দেখিয়ে কোমলমতি শিশু-কিশোর মুসলিম স্কুল শিক্ষার্থীদেরকে ‘হরে কৃষ্ণ’ বলানোও সমপর্যায়ের সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন ও অপরাধ। দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদীদের প্রভাব ও আগ্রাসন চেষ্টা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে।
জমিয়ত মহাসচিব বলেন, দেশপ্রেমিক জনগণের মাঝে ইসকনের কার্যক্রম সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে গভীর সন্দেহ বিরাজ করছে। ধর্মীয় উস্কানীমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসকন সংখ্যালঘু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে মুসলমানদের বিরাজমান সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক সম্পর্ককে বিনষ্টের চেষ্টা করছে - এমন জল্পনাও শোনা যায়। ইসকন বাংলাদেশের স্থিতিশীল সাম্প্রদায়িক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে কিনা, প্রশাসনকে এটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ