ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বেড়েছে পাসের হার, জিপিএ-৫

# পাসের হারে মেয়েরা, জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছেলেরা
সামছুল আরেফীন : এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়েছে। এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বেড়েছে। এবারে ১০ বোর্ডের গড় পাসের হার ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার মোট ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে পাস করেছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ১৭২ জন।
বেড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও। এবার পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন, যা গতবার ছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। এবার পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে। মেয়েদের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৭১০ জন। অন্যদিকে ছেলেদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ হাজার ৫৭৬ জন। অর্থাৎ মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা পাসের হারে পিছিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ কথা জানান। এর আগে সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাদের স্ব স্ব বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অর্থাৎ এইচএসসিতে পাস করেছেন ৮ লাখ ৯ হাজার ১৪৯ শিক্ষার্থী, যা গড়ে ৭১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছর ৮৬ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরমধ্যে পাস করেছেন ৭৬ হাজার ২৮১ জন। গড় পাশের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অর্থাৎ ভোকেশনালে এবার পাস করেছেন ১ লাখ ২ হাজার ৭১৫ জন, যা গড়ে ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী পেয়েছেন জিপিএ-৫।
এছাড়াও বিদেশ কেন্দ্রে মোট ২৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২৫৪ জন। যা শতকরা পাসের হার ৯৪.০৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬ জন শিক্ষার্থী।
গত ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। এরপর ১২ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২১ মে শেষ হয়।
ঢাকা বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৯৮ হাজার জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৫ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৭৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৯ জন এবং ছাত্রী ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯১০ জন। পাসের হার ৭১ দশমিক ০৯ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, এর আগের বছর ছিল ৬৯ দশমিক ৭৪ ভাগ। 
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৮৫ জন, পাস করেছে ৯২ হাজার ৩১৫ জন, মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ জন, পাস করেছে ১ লাখ ৮ হাজার ৫১১ জন এবং ব্যবসা শিক্ষায় পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৭৩১ জন, পাস করেছে ৭৯ হাজার ১৫৩ জন।
রাজশাহী বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীতে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ জন পরীক্ষার্থী। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮০ হাজার ৮২২ জন ছাত্র এবং ৬৭ হাজার ৮৫০ জন ছাত্রী ছিল। পাস করেছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫০ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ বোর্ডে ২০১৪ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে পাসের হার কমছে। ২০১৭ সালে ছিল ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ছিল ৭৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, ২০১৫ সালে ছিল ৭৭ দশমিক ৫৪, ২০১৪ সালে ছিল ৭৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ।  
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ৩৭ হাজার ২৫৫ জন, পাস করেছে ৩১ হাজার ২১১ জন, মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ৮৯ হাজার ৬৪৯ জন, পাস করেছে ৬৫ হাজার ৪২৬ জন এবং ব্যবসা শিক্ষায় পরীক্ষা দিয়েছে ২১ হাজার ৭৬৮ জন, পাস করেছে ১৬ হাজার ৯১৩ জন।
কুমিল্লা বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লায় এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৯৪ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৩ হাজার ২২২ জন এবং ছাত্রী ৫১ হাজার ১৩৮ জন। পাস করেছে ৭৩ হাজার ৩৫৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৩ হাজার ৩৩২ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ২৬ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, এর আগের বছর ছিল ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, তার আগের বছর ছিল ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ২২ হাজার ২৩১ জন, পাস করেছে ১৯ হাজার ৭০৫ জন। মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ৪০ হাজার ৪৯৮ জন, পাস করেছে ২৯ হাজার ৩০২ জন। ব্যবসা শিক্ষায় পরীক্ষা দিয়েছে ৩১ হাজার ৬৩১ জন, পাস করেছে ২৪ হাজার ৩৫১ জন।
যশোর বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬৫ হাজার ২২০ জন এবং ছাত্রী ৬১ হাজার ৯ জন। পাস করেছে ৯৫ হাজার ৪৯৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৭ হাজার ৪৪২ জন এবং ছাত্রী ৪৮ হাজার ৫৩ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬০ দশমিক ৪০শতাংশ।
চট্টগ্রাম বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৯৮ হাজার ৯২৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৮ হাজার ৯৯০ জন এবং ছাত্রী ৪৯ হাজার ৯৩৬ জন। পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৯ হাজার ৯ জন এবং ছাত্রী ৩২ হাজার ৫১৪ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, এর আগের বছর ছিল ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ।
বরিশাল বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশালে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৬৩ হাজার ৫৩৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩২ হাজার ২৩২ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ৩০৬ জন। পাস করেছে ৪৪ হাজার ৮৮৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ২৫৮ জন এবং ছাত্রী ২৩ হাজার ৬২৯ জন। পাসের হার শতকরা ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা গত বছর ৭০ দশমিক ৫৫ শতাংশ, এর আগের বছর ছিল ৭০ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ১৪ হাজার ১৮৫ জন, পাস করেছে ১১ হাজার ৬২০ জন। মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ৩৩ হাজার ৬৮৫ জন, পাস করেছে ২২ হাজার ৮৩ জন। ব্যবসা শিক্ষায় পরীক্ষা দিয়েছে ১৫ হাজার ৬৬৮ জন, পাস করেছে ১১ হাজার ১৮৪ জন।
সিলেট বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেটে এবার পরীক্ষার্থী ছিল ৭৬ হাজার ২৫১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৪ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ৪১ হাজার ৬০২ জন। পাস করেছে ৫১ হাজার ১২৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২২ হাজার ৪৯০ জন এবং ছাত্রী ২৮ হাজার ৬৩৪ জন। পাসের হার ৬৭ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ, এর আগের বছর ছিল ৭২ শতাংশ।  
বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ১২ হাজার ৫৯৫ জন, পাস করেছে ১১ হাজার ১৮৫ জন। মানবিক বিভাগে পরীক্ষা দিয়েছে ৫১ হাজার ৬৩২ জন, পাস করেছে ৩১ হাজার ১৫৯ জন। ব্যবসা শিক্ষায় পরীক্ষা দিয়েছে ১২ হাজার ২৪ জন, পাস করেছে ৮ হাজার ৭৮০ জন।
দিনাজপুর বোর্ড : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর এবার পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২৪ হাজার ৩১৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬৩ হাজার ৯৫৭ জন এবং ছাত্রী ৬০ হাজার ৩৫৮ জন। পাস করেছে ৮৯ হাজার ২৩৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪৩ হাজার ৭২৮ জন এবং ছাত্রী ৪৫ হাজার ৫০৫ জন। পাসের হার শতকরা ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল শতকরা ৬৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
 বেড়েছে জিপিএ-৫ : এবার ১০ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। যা গতবার ছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন। ২০১৬ সালে ছিল ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৮৯৪ জন, ২০১৪ সালে ৭০ হাজার ৬০২ জন, ২০১৩ সালে ৫৮ হাজার ১৯৭ জন, ২০১২ সালে ৬১ হাজার ১৬২ জন এবং ২০১১ সালে ছিল ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন।
এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র ২৪ হাজার ৫৭৬ জন এবং ছাত্রী ২২ হাজার ৭১০ জন। ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ হাজার ১৮৭ জন,  রাজশাহী বোর্ডে ৬ হাজার ৭২৯ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ২ হাজার ৩৭৫ জন, যশোর বোর্ডে ৫ হাজার ৩১২ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ২ হাজার ৮৬০ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ২০১ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ৯৪ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৪ হাজার ৪৯ জন, মাদরাসা বোর্ডে ২ হাজার ২৪৩ জন, কারিগরি বোর্ডে ৩ হাজার ২৩৬ জন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ