ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মধ্যাঞ্চলে বন্যার বিস্তার

ভূয়াপুরে বন্যার মারাত্মক অবনতি

# বাড়তে শুরু করেছে দেশের মধ্যাঞ্চলের নদ-নদীর পানি

# বন্যার পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু

ইবরাহীম খলিল : নতুন করে আরও কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ না থাকায় খাদ্য কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বন্যাদুর্গতরা। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলগুলোতে ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে মানুষ। কোথাও ত্রাণের নৌকা দেখলেই ছুটে যাচ্ছে বন্যার্তরা। পানিতে ডুবে যাওয়ায় কয়েকটি জেলায় রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলের পর এবার দেশের মধ্যাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতেও পানি বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে গত এক সপ্তাহে বন্যার পানিতে ডুবে এবং সাপের কামড়ে অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়া জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকা। কোথাও কোথাও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে আগে থেকেই সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি হ্রাস পাওয়ার পর এবার মধ্যাঞ্চলে বন্যার পানি আসতে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার সকাল ৬টায় ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ফরিদপুর জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আড়িয়ালখা, মধুমতি, কুমারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলের পানি প্রবেশ করেছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৮.৭৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবেশ করছে। জেলার সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় পদ্মার পানি প্রবেশ করেছে। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে দুই-একদিনের মধ্যে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পদ্মা নদীতে হু হু করে বাড়ছে পানি। গত ২৪ ঘন্টায় নদীর রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজবাড়ী জেলার অংশে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে এবং পাংশার সেনগ্রাম গেজ স্টেশন পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার ও রাজবাড়ী সদরের মহেন্দ্রপুর গেজ স্টেশন পয়েন্টে ১.৮৪ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার বিকাল ৫টায় এ পানির পরিমাপ নির্ণয় করা হয়েছে। তবে জেলার পাংশার হাবাসপুর, কালুখালীর রতনদিয়া, রাজবাড়ী সদরের মিজানপুর, বরাট, গোয়ালন্দের ছোট ভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন কবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গত এক সপ্তাহে বন্যা আক্রান্ত জেলায় পানিতে ডুবে সাপের কামড় ও বজ্রপাতে মোট ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। এ ছাড়া বজ্রপাতে পাঁচ ও সাপের কামড়ে দুজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আয়শা আক্তার জানান, বর্তমানে দেশের লালমনিরহাট, নেত্রকোনা, নীলফামারী, চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম,জামালপুর ও গাইবান্ধাসহ মোট ৯টি জেলাকে বন্যা দুর্গত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় বর্তমানে ওসব এলাকায় মানুষের মধ্যে পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে হতাহত হওয়ায় মহা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো- লালমনিরহাটের মোহিত আলম (৭) ও সুজন (১৩), নেত্রকোনার সুইটি আক্তার (৬), রাফিয়া আক্তার (৬), আকলিমা (১৪), আরাফাত (৫), তামান্না(৭), নীলফামারীর মাহি (১ বছর ৬ মাস), চট্টগ্রামের ইমাম হোসেন (৮), কক্সবাজারের রিয়াজ উদ্দিন (১৯), কুড়িগ্রামের হাবিবুল্লাহ (৬), হাসানুল (৯ মাস), বিথী (১০), জামালপুরের সাইমন (৭), ইয়ামুল (২ বছর ৩ মাস), মমিন (৩) ও সাদিয়া ও গাইবান্ধায় আনারুল (৩২)। সাপের কামড়ে লালমনিরহাটের হাফিজুল হক (১৫), ও নীলফামারী মোরশেদা (৩২) মারা যান।
নওগাঁ জেলা : জেলার মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে চারটি ইউনিয়নের অন্তত ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। বাঁধভাঙা পানিতে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া ফসলি জমি তলিয়ে গেছে ও মৎস্য চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাতে মান্দায় তিন জায়গায় আত্রাই নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়।
গতকাল বুধবার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত থেকে আত্রাই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। সোমবার রাতে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শহরবাড়ি ভাঙ্গীপাড়া, চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি এলাকায় আত্রাই নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অতিরিক্ত পানির চাপে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কশব ইউনিয়নের চকবালু এলাকায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট এলাকা ভেঙে যায়। এতে প্রবল স্রোতে দ্রুত ফসলি জমির মাঠ ও লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এসব এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানের বীজতলা, বেগুন, মরিচ, কলা, পেঁপে, পটোল, করলা, বরবটিসহ বিভিন্ন সবজি খেত। এ ছাড়া তলিয়ে গেছে অন্তত ২৫০ পুকুর তলিয়ে গেছে। বাঁধভাঙা পানিতে হঠাৎ বন্যার কারণে অনেকে আটকা পড়েছে। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় তাঁরা এখনো নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারছেন না।’
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মানুষজন এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আসা শুরু করছে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, মোমবাতি, খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
নওগাঁ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শুধাংশু কুমার সরকার বলেন, দুপুর ১২টার দিকে আত্রাই নদের পানি বেড়ে শিমুলতলী পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। প্রতিদিন গড়ে ১৮ সেন্টিমিটার করে পানির উচ্চতা বাড়ছে।
জামালপুর : জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে জেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বন্যার পানি নিকট ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বিপদসীমার ১৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাই, জিঞ্জিরাম, দশানীসহ জেলায় সকল নদ-নদীর পানি বেড়েই চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি বিপদসীমার ১৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জামালপুর জেলার ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ, জামালপুর সদর ও বকশীগঞ্জ উপজেলার ৪৭ টি ইউনিয়ন এবং ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ পৌরসভা এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এসব এলাকার অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে জেলার ৪ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে সহস্রাধিক পুকুরের মাছ। রোপা-আমনের বীজতলা, আউশ ধান, পাট ও সবজিসহ প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জামালপুরে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেওয়ানগঞ্জ পৌরশহরে চলছে নৌকা। অধিকাংশ বন্যার্তই নিজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও উচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জামালপুর জংশন রেলস্টেশন মাস্টার মোঃ শাহাবুদ্দিন জানান, বন্যার পানিতে দুরমুঠ, ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ রেল লাইন ডুবে গেছে। এজন্য জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনগুলো ইসলামপুর স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করছে।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি আরো ৩৩ সে.মি বেড়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে এখন বিপদসীমার ৪৮ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন জেলার সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে তলিয়ে যাচ্ছে বাজার, রাস্তা ঘাট, ফসলি জমি ও বসতভিটা। সেই সঙ্গে চলছে নদী ভাঙন।
মৌলভীবাজার : জেলার কমলগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, শমসেরনগর, পতনউষার ইউনিয়নের প্রায় ২৭টি গ্রাম। টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর পানি মঙ্গলবার দুপুরে বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকালে নদীর পানি আবার বেড়েছে।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের  মীরসরাই পৌর সদর হয়ে বয়ে যাওয়া মীরসরাই টু মলিয়াইশ সড়কটি দিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গর্ত আর ভাঙ্গাচোরা দশার জন্য জনদুর্ভোগ অব্যাহত চলছিল। তার উপর এবারের টানা বর্ষণের পর গত রোববার রাতে সড়কের বিশাল অংশ ধসে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে মীরসরাই মলিয়াইশ সড়ক যোগাযোগ। এর মধ্যে এবারের বর্ষণে রোববার গভীর রাতে এই সড়কের কালামিয়ার দোকানের পশ্চিম পার্শ্বস্থ বাইন্যার টেক নামক স্থানের প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট জুড়ে ধসে যাওয়ায় সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
বগুড়া : বগুড়ার প্রত্যন্ত চরের পানিবন্দি মানুষের অভিযোগ তাদের কাছে কোনো ধরনের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি। বাঁধের আশপাশে বসবাসকারী বন্যার্ত মানুষের কাছে ত্রাণের প্যাকেট যাচ্ছে, সে পরিমাণও কম। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার প্রত্যন্ত চরের বানভাসী মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ত্রাণের কথা শোনা যায় কিন্তু সেই ত্রাণগুলো কাদের দিচ্ছে সেই কথা তারা জানেন না। এদিকে যমুনায় অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে বগুড়ার নদী তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার  পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ। বন্যায় আক্রান্ত এই পরিবারগুলোর মধ্যে ২ হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আর ৪৯ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ স্থানে। বন্যার পানিতে শুধুমাত্র সারিয়কান্দি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২শ’ ২২টি পুকুরের (২৫. ২৯ হেক্টর) ৭৩. ৯৭ মে. টন মাছ ভেসে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকের আউশ ধান, পাট, রোপা আমন, বীজতলা, শাকসবজির ৮হাজার ৬০৩ হেক্টর  তলিয়ে গেছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। বন্যা কবলিত এলাকায় কারো ঘরে হাঁটু পানি আবার কারো ঘরে কোমর পানি। বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট তিন উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামে পানি ঢুকেছে। এতে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, জ্বালানি এবং গবাদি পশু খাদ্যের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে।
সুনামগঞ্জ : বন্যায় জামালগঞ্জ,তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ কয়েকটি নীচু উপজেলায় বন্যার পানি এখনো কমেনি। সরকারি হিসাব মতে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ বন্যা দুর্গত হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৩টি, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩ টি, জামালগঞ্জে ৫ টিসহ বিভিন্ন উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি
সিলেট ব্যুরোঃ গত সোমবার ও মঙ্গলবারে সিলেট বিভাগের কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। উত্তাল সুরমা ও কুশিয়ারা এখন ভয়াবহ অবস্থা থেকে শান্ত হয়েছে। সুরমা, কুশিয়ারা, ধলাই, মনু নদীর গর্জন বন্ধ হয়েছে। ভয়াবহ এ বন্যায় সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী না থাকায় বানভাসি মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এরপরও সিলেটের নদ-নদীগুলোর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ পয়েন্টেই তা বিপদসীমার উপরে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্য অনুযায়ী কেবলমাত্র আমলসিদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বেড়েছে। অন্যান্য সব পয়েন্টেই কমেছে। তাছাড়া বৃষ্টিও থেমেছে। মঙ্গলবার সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি হয়নি। আর তাই পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত সুরমা কানইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯২ পয়েন্ট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের তা ছিল ১ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার উপরে। ২৪ ঘন্টায় এই পয়েন্টে পানি কমেছে ৫৮ সেন্টিমিটার।
সিলেট পয়েন্টেও সুরমার পানি এখনো বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার উপরে। সোমবার ছিল ৬৯ সেন্টিমিটার উপরে। এ পয়েন্টে পানি কমেছে ১১ সেন্টিমিটার।
আমলসিদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ১ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার তা ছিল ১ দশমিক ৪৪ মিটার উপরে। অর্থাৎ এ পয়েন্টে পানি ২৪ ঘন্টায় বেড়েছে ৪১ সেন্টিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তারা জানিয়েছেন, এখানে প্রকৃতির আচরণ অস্বাভাবিক।
 শেওলায় কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমলেও নদীটি এখনো বিপদসীমার ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার তা প্রবাহিত হচ্ছিল বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে। ২৪ ঘন্টায় এ পয়েন্টে পানি কমেছে ৪ সেন্টিমিটার।
শেরপুরে কুশিয়ারার পনি বিপদসীমা থেকে নেমে এসেছে ০৮ সেন্টিমিটার। সোমবার এ পয়েন্টে প্রবাহিত হচ্ছিল ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে।
সারিঘাটে সারি নদীর পানি এখন বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর সীমান্তবর্তী অপর পাহাড়ী নদী লোভার পানিও কমছে।
ভুঞাপুরে বন্যায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী
মো. মিজানুর রহমান, ভুঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা: টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে পাঁচটি ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দী মানুষ। এতে খাদ্য, পানির তীব্র সংকট, গো-খাদ্য সংকট ও বাসস্থানে পানি প্রবেশ করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে তারা। গতকাল বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেকে গরু ছাগল ও পরিবার পরিজন নিয়ে উচু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, ভুঞাপুর উপজেলার যমুনা নদী পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আরো যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি উঠে পড়ায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে কতৃর্পক্ষ। এতে উপজেলার ৭টি মাধ্যমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপজেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ৪টি গ্রাম, নিকরাইল ইউনিয়নে ৮টি, গাবসারা ইউনিয়নে ৬টি, অর্জুনা ইউনিয়নে ১৮টি ও ফলদা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এর আগে গত কয়েক দিনের ভাঙনে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। এছাড়া অর্জুনা ও গাবসারা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের ভাঙনে ফসলী জমি নদী গর্বে চলে গেছে। ভাঙন ও বন্যার কারণে দিশেহারা এসব মানুষ মানববেতর জীবন যাপন করছে। জায়গাসহ ঘরবাড়ি হারিয়ে মানুষ নি:স্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে, কেউ বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। যদিও ভাঙনরোধে কার্যকর কোন
উদ্যোগে নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙনকবলিত মানুষের অভিযোগ, ভাঙনরোধে সরকার যদি কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতো তাহলে মানুষদের বাপ-দাদার ভিটা বাড়ি ছাড়তে হতো না। আঘাত হানতে পারতো না প্রমত্তা যমুনা নদী। একদিকে ভাঙন অন্যদিকে বন্যা মানুষের জীবনকে উষ্ঠাগত করে তুলেছে।
গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুনিরুজ্জামান মনির জানান, গাবসারা ইউনিয়ন পুরোটাই চরাঞ্চল। বন্যার কারনে পুরো ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বেশ কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের ত্রাণ সহায়তা পাওয়া যায়নি।
উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষদের সহযোগিতার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবার জন্য মোবাইল টিমগঠন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞান শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭২ সে.মি., ধলেশ্বরী নদীর দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ব্রিজের এখানে বিপদ সীমার ৮৯ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর কালিহাতী উপজেলার জোকারচর এলাকায় বিপদসীমার ৪৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাকি দুটি নদী পুংলী ও বংশাই নদী বিপদ সীমার নিচে রয়েছে।
কাজীপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ওযাপদা বাঁধ হুমকির সম্মুখীন
কাজিপুর সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওযায কাজিপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায উপজেলার পাইকডতলী ও মেঘাই এর নিকট ওযাবদার বাধ চুযে পানি ভিতরে প্রবেশ করছে। কাজীপুর সদর ইউনিযনের চেযারম্যান মোঃ আতিকুর রহমান স্থানীয লোকজন নিযে বাঁধের নিজ দিযে পানি চুযে যাওযার স্থানে বালি ও বালির বস্তা ফেলছে। এছাডা মেঘাই এর উত্তরে একটি রিং বাঁধ ভেঙে যাওযায পানির বেগ আরো বৃদ্ধি পেযেেছ ফলে বন্যা এলাকার মানুষ আতঙ্ক গ্রস্ত হযে পডেেছ । বন্যা এলাকায সরেজমিনে গিযে দেখা গেছে বন্যার ফলে কতগুলো ঘরের মধ্যে কোমর পানি থেকে গলা পানি পর্যন্ত হযেেছ এর ফলে ওই সব এলাকার মানুষ গবাদি পশু নিযে ওযাবদার বাধে গাদাগাদি করে বসবাস করতে দেখা গেছে। এক কথায বন্যা এলাকার মানুষের দুঃখ কষ্টের সীমা নেই। উপজেলা নির্বাহীকর্মকর্তা মো: জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান এ পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকার জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পাওযা গেছে এবং এগুলো বিতরণ করা হযেেছ বলে জানা গেছে।
যমুনা বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপরে পানিবন্দী ৩০ হাজার
আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা :  যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।এতে নদীবেষ্টিত কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব উপজেলায় ভাঙনও রয়েছে। ভাঙনে ফসলি জমি, বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।বন্যার পানিতে ডুবে কাজীপুর উপজেলায় সুমন নামের এক শিশু ও কবির হোসেন নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫৬২ পরিবার।আজ বুধবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৪ দশমিক শূন্য ৩ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিক জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভাঙন। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। উপজেলার বাঐখোলায় বাঁধে ধস নামলে তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পাউবো।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিন দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ফলে জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ৩৫টি ইউনিয়নে ৯৩৬ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক লাখ ৬৮ হাজার ১০ জন, এক হাজার ৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ও ২০ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে বন্যায় যমুনার চরাঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের জন্য ১৭২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দী মানুষের জন্য ৭০০ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিতরণ কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া আট লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গাইবান্ধায় বন্যার আরো অবনতি ঘটেছে
গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : গাইবান্ধায় বন্যার  আরো অবনতি ঘটেছে। এখন গাইবান্ধা গোটা  শহরে  পানি। ইতি মধ্যে জেলা প্রশাসকের বাসভবন ,এসপির বাসভবন ,সদর উপজেলা ,গণপূর্তসহ অনেক সরকারি অফিসে হাঁটু পানি প্রবেশ করেছে।
শহরের পূর্বপাড়া, কুটিপাড়া, মুন্সিপাড়া, বানিয়ারজান, ডেভিট কোম্পানিপাড়া, নতুন বাজার, ব্রিজ রোড এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এখন শুধু শহরের পশ্মিম এলাকার কিছু  যায়গা বাদে গোটা শহরই পানির  মধ্যে ।
গত সোমবার সদর উপজেলার ফারাজিপাড়া ও গোদারহাট এলাকা দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। গতকাল গাইবান্ধা-বালাসি সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ ডুবে গেছে। এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রোখসানা বেগম বলেন, বন্যাকবলিত চারটি উপজেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে। নতুন করে আরও ১ হাজার মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সুন্দরগঞ্জ-কামারজানি বাঁধের চন্ডিপুর অংশে বন্যার পানি ছুই ছুই করছে। চন্ডিপুর গ্রামের লালচামার বাজারের পাশে এক জায়গায় বাঁধের উপর দিয়ে পানি ভিতরে ঢুকতেছিল। স্থানীয় জনগন তড়িৎ গতিতে মাটি দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। ওই এলাকার কয়েক হাজার লোক বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন। উপজলোর বন্যা কবলিত ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ ব্যস্ত সময় পার করছেন ত্রাণ বিতরণে। এখনো অনেক লোক ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধে আশ্রিতদের মাঝে ইউএনও সোলেমান আলী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল মিয়া ঘাস ও খড় বিতরণ করেছেন। এই চরম দুরাবস্থায় মানবতার সোবায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় পুলিশ। বুধবার থানার ওসি এসএম আব্দুস সোবহান সঙ্গীয় ফোর্স সহকারে নিজেদের অর্থায়নে বেলকা ইউনিয়নের বেকরীর চর ও জিগাবাড়ীর চরে ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার পরিবেশন করেছেন।র্ শুকনো খাবারের প্যাকেটে ছিল মোমবাতি, চিড়া, চিনি, ম্যাচ ও পানির বোতল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী জানান, বাঁধ ভেঙ্গে যেন না যায় সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
গাইবান্ধায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ
টানা বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং একের পর এক বাঁধ ধসের কারণে গাইবান্ধার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হযেেছ। বুধবার সকালে ভরতখালি ইউনিয়নের পোড়াগ্রাম এলাকায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে গাইবান্ধা–সাঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক তলিয়ে গেছে।তীব্র গতিতে পানি প্রবেশ করে নতুনভাবে বন্যা কবলিত হচ্ছে বোনারপাড়া, পদুমশহর, ভরতখালি ও কচুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। পানির তোড়ে সান্তাহার-লালমনিরহাট-রংপুর রেলপথের বাদিয়াখালি অংশ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢালে করতোয়া নদীর পানির বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন এ নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।এ নদীর পানি কাটাখালী পয়েন্টে বিপদসীমার ০৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধিতে ও নদীর পানির প্রবল স্রোতে এ নদী বেষ্টিত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্ট নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
এ নদীর তীব্র ভাঙ্গনে হুমকির মুখে রয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফতুল্লাপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও শতাধিক বসতভিটা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন পৈতৃক বসতভিটা ও এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি রক্ষা করা জরুরী, এ বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে ফতেল্লাপুর, কুন্দেরপাড়া,মালাধর,ছোট ও বড় সাতাইল বাতাইলসহ পার্শ্ববর্তী দশ গ্রামে পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে জানা গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালু ভর্তি বস্তা ফেলে এ এলাকায় ভাঙ্গন দমনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো সেই সনাতন পদ্ধতিতে বালি ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করছে এতে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে বন্যার পানিতে বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গাইবান্ধা-সাঘাটা ও গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর মহাসড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলওয়ের ষ্টেশনমাস্টার খলিলুর রহমান জানান, রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা পদ্মরাগ লোকাল ট্রেনটি বাদিয়াখালি ষ্টেশনে আটকা পরে। বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় একাধিক ট্রেনের যাত্রা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি পার্বতীপুর হয়ে চলাচল করবে।
এদিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি -সাঘাটায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ধসে যাওয়া অংশ ঘুরে দেখেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া। এ সময় তিনি বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজ খবর নেন। নৌকায় করে তিনি ফুলছড়ি, কাতলামারী, কুঁকড়ার হাট, গজারিয়া, চিথুলিয়া, ফজলুপুর, হলদিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজার পারিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তিনি চাল, ডালসহ বিভিন্ন শুকনো খাবার বানভাসিদের হাতে তুলে দেন।
গোবিন্দগঞ্জে নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত নিম্নাঞ্চল প্লাবিতগত কয়েক দিনের একটানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে নদী ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নদীর তীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। ইতিমধ্যই চক রহিমাপুর এলাকায় বাঁধের সুইচ গেট টি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে কাটাবাড়ীর ফুলহার (মাঝিপাড়া), তরফমনু, ফতুল্লাপুর রায়ের বাড়ী, শ্যামপুর পার্বতীপুর, সোহাগী, রঘুনাথপুর, শাকপালা, গোসাইপুর, রাখালবুরুজ, বোচাদহ চরবালুয়া, পার সোনাইদাঙ্গা, দরবস্ত, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ ও শালমারা ইউপি’র অর্ধমতাধিক স্থানে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।  এসব এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, নদী ভাঙ্গনে বেশ কিছু বসতবাড়ীসহ শতশত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন, গাইবান্ধার উজান এ ব্রহ্মপুত্র-৩৭ সে.মি.,যমুনা- ৮৫ সে.মি., তিস্তা-৯ সে.মি.ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ১১ সে.মিটার ও গোবিন্দগঞ্জের করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুই ছুই করছে।পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা আরো অবনিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী ৩৫ হাজার মানুষ  উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তিস্তা,  ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এলাকাগুলো হচ্ছে হরিপুর, কাপাশিয়া, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া, কাজিয়ারচর, বাদামেরচর, রাজারচর, নবাবগঞ্জসহ লোকালয়গুলোতে পানি প্রবেশ করায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মাক অবনতি হয়েছে।
বন্যায় হুমকির মুখে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গাইবান্ধা-লক্ষীপুর সড়ক, খোলাহাটি-ফারাজীপাড়া সড়ক সহ বেশ কয়েকটি সড়ক।
খোলাহাটি ইউনিয়নের ফকিরপাড়া বাঁধসহ গাইবান্ধা সদর উপজেলার চতুর্দিক থেকে কয়েকটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ঘাঘট নদীর পানি প্রবল বেগে সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ছুটে চলেছে। বন্যার পানির প্রবল বেগে স্রোত প্রবাহের ফলে এ উপজেলার সড়কগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে!
সরকারিভাবে, পানিবন্দী মানুষদের উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই পরিবার পরিজন, গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রন বেরি বাঁধ ও উঁচু স্থানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রীতদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও খাদ্য সংকট। সরকারি হিসাবমতে ৫১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে করে ৮হাজার ৭শ’ পরিবারের ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ২৯ সে.মি ও ব্রহ্মপুত্রের নদ নদীর পানি ৩৪ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গাইবান্ধা-সাদুল্যাপুর আঞ্চলিক সড়কে সকল প্রকার ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা
গাইবান্ধার ঘাঘট নদীর বাঁধ ভেঙ্গে আসা বন্যার পানির প্রবল স্রোতে গাইবান্ধা-সাদুল্যাপুর আঞ্চলিক সড়কের সদর উপজেলার বল্লামঝড় ইউনিয়নের কাজলঢোপ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সড়কের কিছু অংশ ধ্বসে যাওয়া এবং এ সড়কের ব্রীজ ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় এসড়ক দিয়ে সকল প্রকার ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।তবে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো ভাঙ্গন রোধ করার চেষ্টা চলছে।
এবার বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধা শহর
জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গাইবান্ধা শহর রক্ষা ও জেলার বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৩২টি ইউনিয়ন ও গাইবান্ধা পৌরসভাসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় প্রায় ৫০০০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও গাইবান্ধা-ফুলছড়ি-সাঘাটা সড়কের কিছু কিছু স্থান হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এটক প্রধান কার্যালয়ের প্রাঙ্গনসহ অফিস কক্ষে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এবারের বন্যার ভয়াবহতা ১৯৮৮ সালের ভয়াবহতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বন্যার্ত মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তির মধ্যে দিনাতিপাত করছে।
বন্যার পানি প্রবল গতিতে প্রবেশ করছে গাইবান্ধা শহরে। এরই মধ্যে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অলিগলিসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উপর পানি থৈথৈ করছে। প্রধান সড়ক ও অলিগলির রাস্তাগুলোতে হাটু পানি মাডযি চলাচল করছে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন। পানি বৃদ্ধির গতির ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহের আতষ্কে ভুগছেন শহরবাসী।গত কাল বুধবার সকাল থেকে বন্যার পানি তীব্র গতিতে ঢুকতে শুরু করে গাইবান্ধা শহরে। দুপুর ১টার মধ্যে পানিতে থৈথৈ করে শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন পাড়ামহল্লার অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন গত ২০ বছরে ব্রাহ্মপুত্র নদীর পানি ফুলছড়ির কোনো পয়েন্টে বিপদসীমার এতোটা উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়নি।তবে ১৯৯৮ সালে এ নদের পানি বিপদসীমার ১৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।
নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
নীলফামারী সংবাদদাতা : নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত না থাকায় নিচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তিস্তা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া লোকজন গত মঙ্গলবার থেকে নিজ বাড়ীতে ফেরতে শুরু করেছেন। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমা ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারীতে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন : নীলফামারী সংবাদদাতাঃ জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে নীলফামারীতে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক শাহীনুর আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান,সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওবাইদুল হক, খামার ব্যবস্থাপক খায়রুল আলম , জেলা মৎস্য অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রাজু আহমেদ প্রমূখ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় জেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি মাছ উৎপাদন হয়, যা দিয়ে জেলাবাসির আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
কুড়িগ্রামে জনদুর্ভোগ চরমে,জেলায় মৃতের সংখ্যা-১১
মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম থেকে : মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি না হলেও উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয়  পানিতে কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫’লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জেলার ৭২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৬টি ইউনিয়নের ৪’শতাধিক গ্রামের ৯৯হাজার ২০২ পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়ায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নলকুপগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখাদিয়েছে। পাশাপাশি জেলার ৯ উপজেলার ৩’শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৬ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ১০২ সেন্টিমিটার পানি ও চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি উঠায় ভারীযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী মানুষজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানি আর খাবার সংকট চলছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে।
পানিবন্দী মানুষজনের মাঝে চরম আতংক ও খাদ্য সংকট চলছে বলে জানিয়েছে বানভাসি মানুষ। জেলার এক তৃতীয়াংশ পানির নীচে। সকল প্রকার তরীতরকারীর ক্ষেত ও আমন বীজতলা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েগেছে।
কুড়িগ্রামের নদ-নদী অববাহিকার চর-দ্বীপচরগুলোতে এমন বন্যার সময়ে নৌ ডাকাতি প্রতিরোধসহ সার্বিক আইন-শৃক্সখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার ১১টি থানা পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।
 গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: জিল্লুর রহমানের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সেখানে জেলার মৎস্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলার পানি কমেছে
লালমনিরহাট সংবাদাদতা : তিস্তা ও ধরলার পানি কমলেও পানি বন্দী পরিবারের সংখ্যা কমেনি। তবে নানা দূর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিত পরিবার। অনেকে ত্রাণ পাচ্ছে না। এমন অভিযোগ ভোক্ত ভোগীদের। জেলা প্রশাসন সঠিক ভাবে বিতরণ করছেন। বুধবার লালমনিরহাট জেলা কর্মকর্তা আলী হায়দার জানান, এখনো ২৪ হাজার ৩ শত ৩৪টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। এদের জন্য ৩শত ১৫ মে. টন চাল ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা এবং ২১শত ৩ কাটুন শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। লালমনিহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী বজলে করিম বুধবার জানান দুপুর ১২ টা পর্যন্ত তিস্তা ১৫ সে. মিটার ও ধরলার পানি ১ সে. মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমতে থাকলেও পানি বাহিত রোগ দেখা দিতে পারে বলে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার লোকজন জানান।
রাজারহাটে বন্যার কিছুটা উন্নতি ৮ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ
আমিনুল ইসলাম, রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।  নতুন করে নদী ভাঙ্গনের আশংকা করছে নদীর তীরবর্তী মানুষজন। বসত-বাড়ী, রাস্তা-ঘাটের পানি কমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৮ হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। ুবুধবার বন্যাকবলিত এলাকা  তিস্তা নদীর তীরবর্তী আনন্দ বাজার,শিয়াল খাওয়ার চর, চতুরা, রামহরি, তৈয়বখাঁ ও চর তৈয়বখাঁ, বিদ্যানন্দ ও চর বিদ্যানন্দ, গাবুর হেলান, চর খিতাব খাঁ, চর গতিয়াসাম এবং ধরলা নদীর তীরবর্তী ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমর, ছাট কালুয়া, নামা -জয়কুমর ও কিং ছিনাই ঘুরে দেখা গেছে, ওইসব চরাঞ্চলসহ নদী তীরবর্তী বাড়ী-ঘর ও রাস্তা ঘাট থেকে পানি কমে যাওয়া শুরু করেছে। পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে নিরাপদ আশ্রয় থেকে মানুষ আবার ফিরে আসছে তাদের গৃহে। তাই রোগব্যাধি শুরু হওয়ার আশংকা করছে বন্যাকবলিত পরিবারগুলো। এখনো ওইসব পরিবারের মানুষজনের মাঝে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশুর গো-খাদ্যের তীব্র সংকট রয়েছে। এ ব্যাপারে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দীসহ নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, স্যালাইন, পানিবিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। তথাপি নদী তীরবর্তী বসবাসকারী অসহায় পরিবার গুলো নদী ভাঙ্গনের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে। কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার  নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকায় ফসলি জমির ভাদাই ধান, আমন বীজতলা, পাট, ভূট্টা, শাক-সবজি, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি মাছের খামারসহ প্রায় ৩শতাধিক ছোট-বড় পুকুর ডুবে যাওয়ায় কোটি টাকার মাছ জলে ভেসে গেছে। ফলে সবজী বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলছে। নি¤œ আয়ের মানুষরা বিপাকে পড়েছে।  ১৭জুলাই বুধবার তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আরিফুল ইসলাম জানান।  এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পানিবন্দী পরিবার গুলোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে সরকারি ভাবে শুকনো খাবার ও খাদ্য শস্য  বরাদ্দ এসেছে।  সেগুলো পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকির জন্য মেডিকেল টিম কাজ করছে।
মৌলভীবাজারে মনু ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভাঙ্গনের ফলে বন্যার সৃষ্টি
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢল ও অবিরাম বৃষ্টির ফলে  জেলার মনু,ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যায় রুপ নিয়েছে। মৌলভীবাজারের শেরপুর হামরকোনায় কুশিয়ারা নদী ও কমলগঞ্জের ধলাই নদী রামপাশা এলাকায় ভাঙ্গনের ফলে কৃষি জমি বাড়িঘর মৎস ও গবাদী পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ওই এলাকায় আউশ ধান ও আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মাছের খামারেরও। কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায় মৌলভীবাজার জেলায় ১৩৩ হেক্টর আউশ ধান ও ৭ হেক্টর আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথ্যমতে পানিতে ডুবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৮ হেক্টর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ১২৫ হেক্টর আউশ ধান ও সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের ৭ হেক্টর আমনের চারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত  উপ-পরিচালক কাজী লৎফুল বারী জানান  এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় ৫৩ হাজার ১০ হেক্টর আউশ ধান আবাদ হয়েছে। এপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১৪০ হেক্টর ধান ও চারা। এদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: এমদাদুল হক জানান জেলার কমলগঞ্জ ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২৩ টি পুকুর, ৩ হেক্টর মাছের আবাদের প্রায় ৫.৯ মেট্রিকটন মাছ বানের পানিতে ভেঁসে যায়। যার বাজার মূল্য প্রায়  ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। কমলগঞ্জের রামপাশা এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের ২০ ফুট জায়গা ভেঙে পানি প্রবেশ করে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মৌলভীবাজারে  মুন নদী, শেরপুরে কুশিয়ারা নদী ও কমলগঞ্জে ধলাই নদী বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ