ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আন্দোলনে মাস পেরোলেও শিক্ষকদের কথা শোনেনি কেউ

স্টাফ রিপোর্টার: বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এক মাস ১ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। গতকাল বুধবার ১৫তম দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মাসব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে দুই শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
তাদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আন্দোলনরত একজন শিক্ষক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে, শিক্ষকদের আন্দোলন মাস পেরোলেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কোনো সাড়া মেলেনি বলে দৈনিক সংগ্রামকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. বদরুল আমিন সরকার ফরহাদ। এ সময় সভাপতি মো. মামুনর রশিদ খোকন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলেও জানান তিনি।
 মো. বদরুল আমিন সরকার ফরহাদ দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গত ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা। গত এক মাস ১ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। গত ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশনে ৭০ জনের বেশি শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। আর ১ মাসের অবস্থানে মোট ২২৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। কিন্তু, স্কুলগুলো সরকারিকরণের বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কোন আশ্বাস মেলেনি। তিনি আরও জানান, ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।
তিনি আরও জানান, বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষকরা। ফুটপাতে পলিথিন দিয়ে তার নিচে অনশন করছেন শিক্ষকরা। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ। এখন পর্যন্ত সভাপতিসহ ৬ জন শিক্ষক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
অনশনরত শিক্ষকরা জানান, সরকারি হয়নি এমন চার হাজার ১৫৯টি স্কুল রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে প্রকৃত তথ্য না দেয়ায় এসব স্কুল সরকারি হয়নি বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, সরকারিকরণের প্রক্রিয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় তারা বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকরা। তারপরেও এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা দাবি করেন, তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ১ হাজার ৩০০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিকরণের জন্য তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ