ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দীর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেন গতকাল বুধবার আসামী মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য ৩১ জুলাই দিন ঠিক করে দেন।
 ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত গত মার্চ মাসে তার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলে ওসি মোয়াজ্জেম তাকে থানায় ডেকে জবানবন্দী নিয়েছিলেন। তার কয়েক দিনের মাথায় নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হলে সারাদেশে আলোচনা শুরু হয়। তখন ওই জবানবন্দীর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমকে আসামী করে ঢাকায় বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, মোয়াজ্জেম বেআইনিভাবে মোবাইল ফোনে নুসরাতের জবানবন্দীর ভিডিও করেছেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানালে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামছ জগলুল হোসেন গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এদিকে নুসরাতের মৃত্যুর পর ওসি মোয়াজ্জেমকে প্রথমে সোনাগাজী থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর রেঞ্জে পাঠান হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় পুলিশ বাহিনী থেকে।
কিন্তু আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলে তা তামিল করা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের মধ্যে বেশ কয়েক দিন ঠেলাঠেলি চলে। এই পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমে পরিদর্শক মোয়াজ্জেমের লাপাত্তা হয়ে যাওয়ার খবর আসে। পরে গত ১৬ জুন ঢাকার হাইকোর্ট এলাকা থেকে মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য পুলিশ পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেনকে এদিন কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলা থেকে তার অব্যাহতি চেয়ে আদালতে শুনানি করেন তার আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর ও ফারুক আহম্মেদ।
ফারুক বলেন, “মানহানির মামলা করতে হয় যার হয়েছে তার বা তার পরিবারের। কিন্তু এক্ষেত্রে যিনি মামলা করেছেন তিনি নুসরাতের কেউ নন। তার সম্মানহানীর কিছু নেই। সুতরাং এ মামলা চলতে পারে না, আসামীকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।”
এই আইনজীবী বলেন, নুসরাতের মা, ভাই ও সোনাগাজীর পৌর মেয়রের উপস্থিতিতে তার জবানবন্দীর ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল থানায়। এর পেছনে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।“ওসি মোয়াজ্জেম ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মধ্যমে ছড়াননি। ওই ভিডিওর ক্লিপ থানা থেকে চুরি যায়। এ বিষয়ে একটি জিডিও করা হয়।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে এ আদালতের পিপি নজরুল ইসলাম শামীম শুনানিতে বলেন, ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ায় ‘গোটা জাতির’ সম্মানহানী হয়েছে। ব্যারিস্টার সুমন তার বিবেকবোধ থেকে এ মামলা করেছেন।
“ভিডিও ধারণ করা তো দূরের কথা, অপ্রাপ্তবয়স্ক ভিকটিমের নাম প্রকাশ করাও আইনে নিষিদ্ধ। সেখানে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অসৎ উদ্দেশ্যে, ভিকটিমকে হুমকি দেওয়ার জন্য। আসামী মোয়াজ্জেমই এটা করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হোক।”
দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক আসামীর অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ