ঢাকা, বৃহস্পতিবার 18 July 2019, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুমিল্লার আদালতে হত্যার ঘটনায় অবশ্যই পুলিশের গাফিলতি ছিল -হাইকোর্ট

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লায় আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনেই ছুরিকাঘাতে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই পুলিশের গাফিলতি ছিল বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, কুমিল্লার আদালতের এজলাসে ছুরি নিয়ে ঢুকে যায় লোকজন। সেটা ধরা পড়ে না। পুলিশের কাজ কী? পুলিশ কী কে? যেখানে বিচারকদের নিরাপত্তা নেই সেখানে ন্যায়বিচার আসবে কীভাবে।
আদালত প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতে কী নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। জজ সাহেবদের নিরাপত্তা কোথায়? বিচারক, আইনজীবী ও আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
কুমিল্লার আদালতে ছুরিকাঘাতে আসামী নিহত হওয়ার পর বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত চেয়ে করা এক রিট আবেদনের শুনানিতে গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এসব কথা বলেন। এরপর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩০ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আদালত।
সারা দেশের আদালতে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কুমিল্লার ঘটনায় যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাও জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেন আদালত।
১৫ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দিগ্রামে ২০১৩ সালের ২৬ আগস্ট সংঘটিত আবদুল করিম হত্যা মামলার (মামলা নং-১৩) আসামী আবুল হাসান (২৫) ও ফারুক হোসেন (২৭) হাজিরা দিতে আসেন।
আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় ওই হত্যা মামলার আসামী আবুল হাসান হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে তার সহযোগী আসামী ফারুক হোসেনকে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। ফারুক দৌড়ে বিচারকের খাস কামরায় গিয়ে আশ্রয় নিলেও হাসান দৌড়ে ওই কামরায় গিয়ে ফারুককে আবারও ছুরিকাঘাত করেন। এতে ফারুক মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় আদালতের পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা হাসানকে ধরে ফেলেন।
গুরুতর আহত ফারুককে প্রথমে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু কুমেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারুক মনোহরগঞ্জের অহিদ উল্লাহর ছেলে এবং হাসান লাকসাম উপজেলার ভোজপুর গ্রামের শহীদুল্লাহর ছেলে। দু’জন সম্পর্কে আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই।
এ ঘটনায় সারাদেশের বিচারকদের নিরাপত্তা চেয়ে রিট করেন এক বিচারকের স্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
আদালত বলেন, কুমিল্লার পর মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বারেও ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় কোর্টে আইনজীবী, জাজ ও কর্মকর্তাদের সিকিউরিটির জন্য কী পদক্ষেপ নিলেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, কুমিল্লা এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের দুটি ঘটনাই ব্যক্তিগত। এ সময় আদালত বলেন, ব্যক্তিগত হোক যাই হোক। কোর্টের ভেতরে ছুরি নিয়ে কীভাবে যায়? পুলিশ কী করে? ডেফিনেটলি এটা পুলিশের নেগলিজেন্সি।
তখন আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, নিরাপত্তা তো সবার জন্য। উনিও (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী, বিচারকসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ