ঢাকা, শুক্রবার 19 July 2019, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কটে পানিবন্দী মানুষ

 

ইবরাহীম খলিল : দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। সবগুলো নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিন প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। গাইবান্ধার দু’টি উপজেলা বাদ দিয়ে ৫টি উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। রাত থেকে যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রেললাইনে পানি ওঠায় দু’দিন ধরে উত্তরের সঙ্গে রাজধানীর ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গাইবান্ধার সাত শতাধিক স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এসব স্কুল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করলেও সেগুলোর মধ্যে অনেক স্কুলেও পানি ওঠেছে। গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে এলেও শান্তি নেই। বেঞ্চ উঁচু করে কোনমতে বসে থাকলেও মলমূত্র ত্যাগের সমস্যা ও খাবার পানির সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। 

বিভিন্ন উঁচু জায়গায়, বাঁধে অথবা মাচা তৈরি করে রাখতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষের গবাদি পশু। গরু-ছাগলের সঙ্গে একই মাচায় রাত কাটাতে হচ্ছে মানুষের। সঙ্গে রয়েছে চোর-ডাকাতের উৎপাত। অধিকাংশ চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর।

জামালপুর : যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বানভাসী মানুষের অভিযোগ, অনেকেই এখনও কোনো ত্রাণ সামগ্রী পাননি। তবে যে ত্রাণ আসছে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আর ত্রাণ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর আশ^াস দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে ১৯৮৮ সালের বন্যার সময়ের রেকর্ড ভেঙে বৃহস্পতিবার যমুনার পানি বিপৎসীমার ১৬৬ সে. মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যার অবনতি হওয়ায় গবাদি পশুর খাবার নিয়েও বিপাকে পড়েছেন বানভাসী মানুষ। গত বুধবার মাদারগঞ্জ উপজেলার চরনাদাগাড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্নস্থানের রেল লাইন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ রেলপথ এবং জামালপুর-তারাকান্দি-বঙ্গবন্ধু সেতু রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা সদরের সাথে আন্ত ইউনিয়নের সমস্ত সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা। এ পর্যন্ত বন্যার পানিতে ডুবে চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে ১৮ হাজার ২০৩ হেক্টর জমির ফসল। বন্যার্তদের চিকিৎসা সহায়তায় গঠন করা হয়েছে ৮০টি মেডিকেল টিম। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে প্রায় ৪০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানির তোড়ে পুরো জেলার ৪৪১৬টি মৎস্য খামারের ২১ কোটি টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী জেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৯টি ইউনিয়ন এবং ৮টি পৌরসভার মধ্যে ৭টি পৌরসভা বন্যা কবলিত হয়েছে। পুরো জেলায় ৯০ হাজার ১৩০টি পরিবারের ৪ লাখ ৪৩ হাজার ১৮০জন পানিবন্দি রয়েছেন। এদের একটি অংশ ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় গ্রহণ করলেও অধিকাংশ বানভাসীরা বিভিন্ন পাকা সড়ক, ব্রিজ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এসব বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গবাদি পশুর খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী মানুষের অভিযোগ অনেকেই এখনও কোন ত্রাণ সামগ্রী পাননি। এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, সরকারিভাবে যে পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হচ্ছে তা ২৫ ভাগ মানুষে কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ৭৫ ভাগ মানুষই বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তিনি ত্রানের পরিমাণ বৃদ্ধির দাবি জানান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য ৭৮০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ত্রাণের বরাদ্দের পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির।

ফরিদপুর : ফরিদপুরের দিকে দ্রুত গতিতে তেড়ে আসছে বন্যার পানি। প্রতি মিনিটে মিনিটে গোয়ালন্দ পয়েন্টে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। বর্তমানে বিপৎসীমার ৩৪ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। এর ফলে বন্যার আশঙ্কা করছেন জেলাবাসী। ফরিদপুরের চরবাসী জানান, আগামী দুই দিন এই গতিতে পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধরাণ করবে।

গোয়ালন্দ পয়েন্টের গেজ রিডার ইদ্রিস আলী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আরও ২৪ সেমি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ওই পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার (৮ দশমিক ৬৫) ৩৪ সে. মি (৮ দশমিক ৯৯) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কাইমদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই এলাকার যোগযোগের একমাত্র কালুর বাজার থেকে পান্নুর দোকন পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাকা সড়কে এক কিলোমিটার অংশ তলিয়ে গেছে। তার মধ্যে দিয়েই শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চলাচল করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুণর্বাসন কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে সদরপুর উপজেলার ৪৫ এবং ভাঙ্গা উপজেলার ১৪টি পরিবার। তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তদারকিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, গোবিন্দাসী, অর্জুনা ও নিকরাইল ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ভাঙন এলাকার মধ্যে রয়েছে খানুরবাড়ী, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, চিতুলিয়াপাড়া, চরচিতুলিয়া, বাসুদেবকোল, রামাইল, রুলীপাড়া, রাজাপুর, ডিগ্রিরচর, তাড়াই, চর তাড়াই, কুঠিবয়ড়া, কোনাবাড়ী, নলছিয়াসহ অর্ধশত গ্রাম। গাবিন্দাসী বাজারে বন্যার পানি প্রবেশ করায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও যমুনা চরাঞ্চলের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। পানিবন্দি হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট। বাড়ছে পানিবাহিত রোগ।

যমুনার এ ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কয়েকশ পরিবার। বসতভিটা হারিয়ে অনেকেই রাস্তার দুই পাশে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তীব্র পানি বৃদ্ধি হওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দিরা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে গত বুধবার রাত ১২টার দিকে তাড়াই গ্রামের রাস্তা ও বৃহস্পতিবার দুপুরে ভূঞাপুর পৌর এলাকার টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ভেঙে বাহাদীপুর, টেপিবাড়ী, বেতুয়া, কুতুবপুর ও পলশিয়াসহ প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক। তাড়াই গ্রামের বাঁধ ভাঙনের ফলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও আমন ধানের বীজতলা। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল অংশে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৯১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আরো দুই-একদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত যমুনা নদীর বন্যায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ তিন লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তা বিতরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আরো ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। 

বগুড়া: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ডুবতে শুরু করেছে চরাঞ্চলের উঁচু স্থানগুলোও। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বগুড়ায়। চরাঞ্চলের লোকজন যেসব উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছিল সেখানেও বন্যার পানি উঠতে শুরু করেছে। উপজেলার কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক মনুষ। গতকাল দুপুরের পর থেকে সেখানেও বন্যার পানি ছুঁইছুঁই করতে দেখা গেছে। মথুরাপাড়ার কাছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও রয়েছে হুমকির মুখে। বাঁধের বিভিন্ন স্থান থেকে পানি চোয়াতে শুরু করেছে। সেখানে ফেলা হচ্ছে বালিভর্তি বস্তা।

এছাড়া বাধের পাশে সহরাবাড়ী ও শিমুলবাড়ি গ্রামের সম্পূর্ণ এবং আটাচর, বানিয়াজান, কৈয়াগাড়ী, রঘুনাথপুর, বান্ডারবাড়ি, পুকুরিয়া, ভূতবাড়ি ও মাধাবডাঙ্গা গ্রামের আংশিক এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার সাতটি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোবাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত টিম সার্বক্ষণিক বন্যা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করে ত্রান কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন সূত্র।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ শ্রীপুর ও তাহিরপুর ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ত্রাণ সরকারি ভাবে বিতরণ করা হয়েছে তা উপজেলার বাদাঘাট, শ্রীপুর উত্তর, উত্তর বড়দল ইউনিয়নেই বেশী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ শ্রীপুর ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের তেমন কোন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।

এ উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশুদ্ধ পানি, গো খাদ্য ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে পানিবন্দী পরিবারগুলোতে। বন্যাকবলিত গ্রামগুলোতে অবস্থানকারী মানুষজন ত্রাণের জন্য অপেক্ষায় আছে। ত্রাণ না পাওয়ায় হাহাকার বিরাজ করছে। এদিকে কিছু কিছু গ্রামে সরকারি ভাবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থ, শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামন্য। অন্যদিকে সরকারি ত্রাণ দিচ্ছে এমন খবর পেলেই দলে দলে ছুটে আসছে মানুষ।

রাঙ্গামাটি: টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে অস্বাভাবিকভাবে পানি বেড়ে ডুবে গেছে ‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ খ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি। ফলে সেতুতে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া সারাবাংলাকে জানান, কাপ্তাই হ্রদে অতিমাত্রায় পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে গেছে। যার কারণে সেতুতে পর্যটক ও জনসাধারণের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে ঝুলন্ত সেতুটি আরও ওপরে তোলা হবে কী না এমন প্রশ্নে তিনি জানান, অর্থের অভাবে এটি করা যাচ্ছে না। বরাদ্দ পেলে অবশ্যই কাজ শুরু করা হবে। বর্ষা মৌসুমে রাঙ্গামাটিতে প্রচুর পর্যটক আসে, কিন্তু এই সময়ে সেতুটি ডুবে থাকার কারণে সরকারকে অনেক টাকা রাজস্ব হারাতে হচ্ছে।’

এদিকে, হ্রদে পানি বৃদ্ধির কারণে হ্রদের পানি সামাল দিতে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাত আটটা থেকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। ১৬টি জলকপাট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে আরও ২৭ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিগর্মন করা হচ্ছে। অন্যদিকে বর্তমানে কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারটি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে।

গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সবগুলো বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধা শহর। পৌরসভার প্রায় সবগুলো ওয়ার্ড বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি পৌরবাসী। এজন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালিপনা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। শুষ্ক মৌসুমে বাঁধগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি ও সংস্কার না করায় জেলার সবগুলো বাঁধ ভেঙ্গে যাবার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন তারা। ১৯৮৮ সালের স্মরণকালের ভযাবহ বন্যাকে ছাড়িয়ে এবারের বন্যাকে মহাপ্লাবন বলে আখ্যায়িত করেছেন গাইবান্ধার বানভাসী মানুষ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ তৎপরতা রয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জের বেলকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লা ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করেন। বন্যার পানিতে দুই ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ গত সাত দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত তাদের দুই ইউনিয়নের চার শতাধিক মানুষ সহায়তা হিসেবে চাল ও শুকনা খাবার এবং নগদ টাকা পেয়েছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা চেয়ে আবেদন করা হলেও এখন তা পাওয়া যায়নি। প্রতিদিনই বানভাসী লোকজন ত্রাণের আশায় তাদের কাছে ভিড় করছেন।’

 এ বিষয়ে গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদপ্তরের গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। 

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বালুবোঝাই জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে। শহর রক্ষা বাঁধসহ ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে অন্তত ৩০ হাজার কাঁচা বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩০০ খামার, পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। নষ্ট হয়েছে বীজতলা, সবজিসহ প্রায় চার হাজার জমির বিভিন্ন ফসল। অন্তত ২০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তাসহ সাতটি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে খোলা হয়েছে ১২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

গাইবান্ধার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোছা. রোখছানা বেগম জানান, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণসহাযতা দেয়া অব্যাহত আছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর জন্য এখন পর্যšত ৫৮৫ টন চাল, নগদ ৯ লাখ টাকা ও ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেযা হযেেছ। এছাডা নতুন করে আরও এক হাজার টন চাল, ১০ লাখ টাকা এবং পাঁচ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ চেয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বানভাসিদের জন্য ১২৪টি আশ্রযকেন্দ্র খুলে দেযা  হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকের সংখ্যা তিন লাখ ৫৮ হাজার ৬১৮।গাইবান্ধায় বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে সোলেমান নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ।।

জানা যায় গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের কিশামত দুর্গাপুর গ্রাম এলাকায়সহ আশপাশের এলাকায় হঠাৎ দুইদিন ধরে বন্যার পানি প্রবেশ করে এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক

সেনাবাহিনী মোতায়েন

ভূঞাপুর (টঙ্গাইল) সংবাদদাতা, ভূঞাপুরে যমুনার পানি বৃদ্ধিতে বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে ভেঙে গেছে গাড়াবাড়ী-বাহাদীপুর সংযোগ সড়কের তাড়াই নামক স্থানে। হুমকির মুখে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক। বন্ধ রয়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে যান চলাচল। 

জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে অতিরিক্ত পানি বৃদ্ধির কারণে গাড়াবাড়ী-বাহাদীপুর সংযোগ সড়কের তাড়াই নামক স্থানে ভেঙে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষ। এতে নতুন করে প্লাবিত হয় গাড়াবাড়ী, তাড়াই, বলরামপুর, মাদারিয়া, রায়ের বাশালিয়া, কুতুবপুর, পলশিয়া, বেতুয়া, টেপিবাড়ি ও বাহাদীপুর গ্রাম। মধ্যরাতে অর্তকিতভাবে বাঁধ ভাঙায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, খন্দকার কুলসুম জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, টেপিবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়। বৃহস্পাতিবার দুপুরে টেপিবাড়ি স্কুল মাঠ দিয়ে পানির ¯্রােত প্রবাহিত হওয়ায় পাশে থাকা টেপিবাড়ী কিন্ডারগার্টেনের ঘর  ও  স্কুল মাঠ ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে বিশাল খাদের সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার আগাম কোন প্রস্তুতি না থাকায় অধিকাংশ বাড়ীর ফসলাদি নষ্ট হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক। সড়কের কোন কোন স্থানে পানি লিকেজ হচ্ছে। ফলে বন্ধ  হয়ে গেছে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে যান চলাচল। যে কোন সময় সড়কটি ভেঙে যেতে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। তাৎক্ষনিক ভাবে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম এসব বন্যা কবলিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।  

পানি সরেনি, সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ

বগুড়ার সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথের গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রেলপথে পানি উঠেছে। ফলে এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা একটা পর্যন্ত সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথে ট্রেন যোগাযোগ চালু হয়নি। সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ত্রিমোহিনীতে প্রায় ছয় কিলোমিটার অংশ ডুবে থাকায় গত বুধবার বেলা ১১টা থেকে এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে।

 গাইবান্ধা রেলস্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম বলেন, সকাল থেকে বিকল্প উপায়ে ট্রেন চলাচল করছে। গাইবান্ধার বোনারপাড়া রেলস্টেশন থেকে সান্তাহার এবং গাইবান্ধা রেলস্টেশন থেকে লালমনিরহাট ও দিনাজপুরের মধ্যে ট্রেন চলাচল করছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এভাবে ট্রেন চলাচল করবে। এদিকে ঘাঘট নদের পানির চাপে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের একটি সেতু দেবে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে জেলা শহরের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। অন্যদিকে, গাইবান্ধা জেলা শহরের সঙ্গে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাইবান্ধা-বালাসি সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। গতকাল সকালে নতুন করে গাইবান্ধা শহরের পার্ক রোড, ডিবি রোড, পিকে বিশ্বাস রোডে পানি উঠেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, বন্যার পানি ওঠায় জেলার চারটি উপজেলায় আরও ৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। এ নিয়ে চারটি উপজেলায় মোট ২১৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত আছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান  বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ১৫০ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদের পানি ৯২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। । তবে তিস্তার পানি কমেছে। করতোয়া নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে।

ভযাবহ বন্যায ভাসছে গাইবান্ধা। সডকে পানি ওঠায বিপর্যস্ত হযে পডেেছ গাইবান্ধার সডক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেইসাথে আশ্রয, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটসহ দুর্ভোগ বেডেেছ বানভাসী মানুষের। এদিকে গাইবান্ধার সকল নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিযয় প্রবাহিত হচ্ছে। ২১ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে গাইবান্ধায ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৫০ সে.মি উপর দিযয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নযন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ফুলছডরি তিস্তামুখ ঘাট পযেেন্ট ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৫০ সে.মি., ঘাঘট নদীর পানি শহরের নতুন ব্রীজ পযেেন্ট বিপদসীমার ৯৪ সে:মি: উপর দিযে বইছে। তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর পযেেন্ট তি¯তা নদীর পানি কমে বিপদসীমার ৩৬ সে:মি: নিচ দিযে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে সোমবার (১৫ জুলাই) রাত থেকে গাইবান্ধা শহরের বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করে। শহরের পূর্বপাডা, কুঠিপাডা, জুম্মাপাডা, সবুজপাডা, মুন্সিপাডা, বানিযারজান, বাংলাবাজার, মাস্টারপাডা, মধ্যপাডা, ডেভিড কোম্পানি পাডা, ব্রীজরোড কালিবাডী পাডায বন্যা দেখা দিযেেছ। এছাডা গাইবান্ধা-বালাসীঘাট রাস্তার পূর্বপাডা, গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর রাস্তার ফারাজী পাডা ও সদর উপজেলার বল্লমঝাড ইউনিযনের কাজলঢোপ এলাকায শহর রক্ষা বাঁধ ধ্বসে গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সডকের উপর দিপয প্রবল বেগে পানির স্রোত বইছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পডেেছ শহরবাসী। অপরদিকে গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধের কযকেটি পযন্টে ঝুঁকিপূর্ণ হওযায ভাঙন আতঙ্কে রযেেছ গাইবান্ধা শহরবাসী। এছাডা বাঁধটির ডেভিট কোম্পানী পাডা এলাকায যেকোনো মূহুর্তে পানি উপচে পডারও আশঙ্কা করছেন তারা।

জলার বন্যাকবলিত চার উপজেলার ৩০০টি গ্রামের প্রায ৪ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হযে পডেেেছ। বন্যা কবলিত এলাকার অনেক মানুষ তাদের ঘরবাডী, গবাদি পশু নিযে আশেপাশের উচু স্থান ও আশ্রযকেন্দ্রে আশ্রয নিযেেছ। পানির তীব্র স্রোতে ঘাঘট রক্ষা বাঁধসহ পানি উন্নযন বোর্ডের বেরী বাঁধগুলারে বিভিন্ন পযেেন্ট ধ্বস দেখা দিযেেছ। ফলে জেলার ফুলছডী, সাঘাটা, সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হযয় পডেেছ। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষজন সবথেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গবাদি পশু নিযয়। গবাদি পশুর থাকা এবং খাবার চরম সংকট দেখা দিযেছে। এছাডা সংকট সৃষ্টি হযেছে বিশুদ্ধ খাবার পানির।চরাঞ্চল ও নদী বেষ্টিত চারটি উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে, ফলে ২৪৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয বন্ধ ঘোষনা করা হযেেছ। ৮৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয ক্ষতিগ্রস্ত হযেেছ এবং ফুলছডী উপজেলার তিনটি ও সদর উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাডা ৩৫টি বিদ্যালযে আশ্রযকেন্দ্র খোলা হযেছে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০৯ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।এরমধ্যে বন্যা কবলিত ৪ উপজেলায কাজ করছে ৬১ টিম। প্রত্যেকটি টিমে তিন থেকে পাচঁজন করে রয়েছে। এছাডা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধপত্র পর্যাপ্ত রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গাইবান্ধার উপ-পরিচালক এসএম ফেরদৌস বলেন, গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছডী উপজেলায বন্যা দেখা দিযেেছ। এই চার উপজেলায রোপা আউশ ৯৭৭ হেক্টর, পাট ২৪৩৯ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪৬১ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ২৪৭ হেক্টর, পান ৩ হেক্টর এবং তিল ২৫ হেক্টরসহ মোট ৪১৫২ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হযেছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সাতদিনের মধ্যে যদি বন্যার পানি কমে, তাহলে হযতো পাট কাটতে পারবে কৃষকরা।

গাইবান্ধা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল দাইযান জানান, জেলার চার উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকার ১ হাজার ৯৫৫টি পুকুরের ৪৯৯ দশমিক ৮৫ মেঃ টন মাছ ভেসে গেছে। ভেসে যাওযা মাছের মূল্য ধরা হযেছে ৬৮৫ দশমিক ৯২ লাখ টাকা। এছাডা ২৪ দশমিক ২০ লাখ টাকার ১৯ দশমিক ৯৮ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে। 

পানির নিচে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়।গাইবান্ধা জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রশাসনিক ভবন,কার্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় ৬০% থেকে ৭০% এলাকা এখন বন্যার পানিতে প্লাবিত।

সুন্দরগঞ্জে বন্যায় ৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি ঢুকে পরায় ৬৮ টি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ১৫ দিন থেকে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় জনদুর্ভোগ চরমে

 মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৬’লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার উলিপুর উপজেলার তবকপুরসহ ভিভিন্ন ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকায় পানি ওঠে প্রায় ৫’শতাধিক গ্রামের ২ লক্ষাধিক পরিবারের বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়ায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার তাদের তলিয়ে যাওয়া বসতবাড়ী ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও সেখানেও তারা নিরাপদ নয়। বন্যাকবলিত এলাকায় নলকুপগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখাদিয়েছে। পাশাপাশি জেলার ৯ উপজেলার ৪’শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এছাড়াও প্রায় পাঁচ হাজারের মত পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার-১০৭ সেন্টিমিটার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে-১০০ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার-১২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

এদিকে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে পানি উঠায় ভারীযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে বিশুদ্ধ পানি আর খাবার সংকট চলছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে।

অন্যদিকে জেলার পানিবন্দি মানুষজনের মাঝে চরম আতংক ও খাদ্য সংকট চলছে বলে জানিয়েছে বানভাসি মানুষ। জেলার এক তৃতীয়াংশ পানির নীচে। সকল প্রকার তরীতরকারীর ক্ষেত ও আমন বীজতলা পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েগেছে।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় কালেক্টরেট জামে মসজিদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয় এবং পরে স্থানীয় টাউন হলে মৎস্য সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা সভা করা হয়।

শাহজাদপুরে বানভাসী পরিবারগুলো ডেরা বেঁধেছে সড়ক-মহাসড়কে

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বানভাসী পরিবারগুলো আশ্রয় নিতে শুরু করেছে সড়ক- –মহাসড়কে। সময় যত গড়াচ্ছে ততই যেন সড়ক মহাসড়ক ও বাঁধগুলোতে বাড়ছে বন্যা কবলিত মানুষের দীর্ঘ মিছিল। হাটÑপাাঁচিল থেকে এনায়েতপুর সড়কের অসংখ্য পয়েন্টে বানভাসী পরিবারগুলোকে ডেরা বেঁধে বসবাস করতে দেখা গেছে। একই অবস্থা শাহজাদপুরÑকৈজুরী সড়ক, শাহজাদপুরÑজামিরতা সড়ক, শাহজাদপুরÑখুকনী সড়ক। সড়কগুলির দুই ধারে টিন দিয়ে, ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী নিবাস গড়েছে বানভাসীরা। গবাধী পশু-পাখি নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। সড়কের ধারেই চলছে রান্না,বান্নাসহ সাংসারিক কর্মকান্ড। বন্যার পনি পুরোদমে নেমে না যাওয়া পর্যন্ত সড়কেই থাকতে হবে তাদের। সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ পৌঁছেনি। সড়কে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোকে ত্রান সহযোগীতা জরুরী হয়ে পরছে।  উল্লেখ্য যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গত কয়েকদিনে শাহজাদপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম এখন বন্যা কবলিত। ফলে এ উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। সরে জমিনে ঘুরে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার যমুনা বিধৌত জামিরতা,কৈজুরী,গুধিবাড়ী, ভাটপাড়া এলাকার রাস্তাÑঘাট, ব্রীজÑকালভাট, হাটÑবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে ভাসতে দেখা গেছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত পরিবারগুলো পরিবার পরিজন ও গবাদী পশু পাখি নিয়ে সড়ক মহাসড়কে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ আশ্রয় নিয়েছে নৌকায়, টিনের চাল আর বাঁশের উঁচু মাচায়। যে দিকে চোখ যায় সব জায়গাই শুধু পানি আর পানি।  প্রতিটি ঘরের ভেতর এখন  বুকপানি। পানিতে থইথই করছে উঠান, বারান্দা। আঙিনায় বইছে স্রোত। ঘরের বাইরে ডিঙি নৌকা নিয়ে চলছে রান্না বান্নার কাজ।

শাহজাহান, (তাড়াশ) সিরাজগঞ্জ থেকে : চলনবিলে বন্যায় মাছের ঘেড়,জমির ধানসহ অসংখ্য ঘর বাড়ি পানিতে তলিযে গেছে। বন্যা দিন দিন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তুলছে। এ পযর্ন্ত তাড়াশে বানভাসি মানুষের পাশে কোন ত্রান সামগ্রী বিতরন করতে সরকারসহ কোন এনজিও লোকজনকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।  

বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ী ঢলের কারনে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রায় একশত ১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। গত ৩দিনে চলনবিলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাড়াশ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় রোপা আমন, বোনা আমন ও বীজ তলা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা। তাছাড়া প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার রাস্তাঘাট পাøবিত হচ্ছে। উপজেলার বিলপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের পাড়া-মহল্লায় পানি উঠে ডুবে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, গত কয়েকেিদেন যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিল এলাকার তাড়াশ উপজেলার সগুনা, মাগুড়া বিনোদ ও তাড়াশ সদর ইউনিয়নের ১১০ হেক্টর বোনা আমন ধান তলিয়ে যায়। যমুনা গর্ভে চলে গেল খাসরাজবাড়ী বাজারের মালামালসহ দোকানপাট

আব্দুস ছামাদ খান,বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ চোখের সামনে যমুনা গর্ভে চলে গেল আমার দোকানঘর। চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই কইরবার পারিলামনা, কথাগুলো বলছিলেন খাসরাজবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী হোসেন আলী। বৃহস্পতিবার দুপুরে কোনকিছু বুঝে উঠবার আগেই ওই বাজারের হোসেন মিয়া সহ কোব্বাত, রহিম, নরু, মিথুনদের ব্যবসায়িক দোকান ঘরগুলো যমুনা গর্ভে চলে যায়। খাসরাজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, “গত তিনদিন যাবৎ ওই বাজারের ঘরগুলোতে পানি উঠেছিল। বৃহস্প্রতিবার  দুপুরে ঘরগুলো নিচের দিকে দেবে যায়। ফলে ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।” ওই গ্রামের গ্রামপুলিশ কার্তিক চন্দ্র জানান “সকালে আমি কাজে বাড়ীর বাইরে যাই। দুপুরে ফিরে এসে দেখি আমার বাড়ী নাই। দুইদিন আগে আমার পরিবারকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে ছিলাম বলে তারা রক্ষা পেয়েছে।” ব্যবসায়ী কোব্বাত ব্যাপারি জানান “পানির নিচদিয়ে কখন ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তা বুঝতে পারিনি। ঘরের সঙ্গে দোকানে মালামাল সব নদীতে ভেসে গেছে।” এদিকে মাইবাড়ী ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া বাজার সংলগ্ন ওয়াপদা বাধ চুইয়ে পানি বের হচ্ছে। যে কোন সময় ওই স্থানে ধস নামতে পারে বলে জানান ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম। তিনি আরও জানান ঝুকি পূর্ণ স্থানে বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আব্দুল মজিদ নামের স্থানীয় বাসিন্দা জানান, যে হারে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাতে তাড়াশে ব্যাপক বন্যা হওয়ার আসংকা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাড়াশ উপজেলায় বন্যার পানিতে প্রায় একশত ১০হেক্টর জমির রোপা আমান, বোনা আমন ও বীজতলা পানির নিচে ডুবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর প্রতিনিয়িত এভাবে পানি বৃদ্ধির হতে থাকলে আরো ক্ষতি হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

কাজীপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি পাঁচটি পয়েন্টে ওয়াবদার বাঁধ চরম হুমকির মুখে

আ. মজিদ, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজীপুরের বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাজি পুরের পাঁচটি পয়েন্টে ওয়াবদার বাঁধ এর নিচ দিয়ে পানি চুইয়ে ভাটির দিকে যাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে কাজি পুরের বীর শুভগাছার নিকট, পাইকড় তলি এর নিকট, মেঘাই এর নিকট, বাঐখোলার নিকট ও চোর মারা ঝুংকাইলের এর নিকট বাঁধ দিয়ে পানি ভাটির দিকে চুয়ে যাচ্ছে। বন্যা এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে ঘরের ভিতরে কোমর পানি থেকে গলা পানি পর্যন্ত হওয়ায় ওইসব এলাকার মানুষ গবাদি পশু নিয়ে থাকা খাওয়া নিয়ে, প্রাকৃতিক কাজ নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এইসব ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াবদার বাদ এলাকা পরিদর্শন করেন কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী,পি,আই ও এ কে এম শাহা আলম মোল্লা, উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া। জাহিদ হাসান সিদ্দিকী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জরুরী ভিত্তিতে ওয়াবদার বাঁধ মেরামত করার জন্য নির্দেশ দেন।উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে চর এলাকার ১ শত ২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে ডুবে গেছে ও ১৯টি হাই স্কুল ও কলেজ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া এগুলোতে ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। বহু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। বন্যায় মেঘাই থেকে পাইকড় তলী সি এন্ড বি রাস্তায় কোমর পানি হওয়ায় সিরাজগঞ্জ সোনামুখীর বাস এখন আলমপুর হয়ে সোনামুখী যাতায়াত করছে । উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান কাজিপুর বন্যা এলাকার জন্য ত্রান হিসেবে এক হাজার পাঁচশত প্যাকেট শুকনো খাবার ও একশত মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং এগুলো বিতরণ ও প্রায় শেষ হয়েছে।

কালিহাতীতে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনের

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনের। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের চরদূর্গাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা একই গ্রামের আবু সাঈদের মেয়ে তানজিলা (৮) ও লিমা (৫)। তানজিলা স্থানীয়  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে ও লিমা প্রথম শ্রেণীতে পড়তো।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার চরদূর্গাপুর গ্রাম বন্যার পানিতে প্রায় ডুবে গেছে। দুপুরে দুই বোন খেলার সময় বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা অনেক খোজাঁখুজি করে পাননি। স্থানীয়রা পানিতে দ্জুনকে ভাসতে দেখেন। মৃত অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করেন। 

দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আনোয়ার হোসেন প্রামানিক বলেন, গ্রামের সকল জায়গায় পানি প্রবেশ করায় ওই দুই বোন পানিতে ডুবে মারা গেছে।  

কালিহাতী থানার নবাগত ওসি হাসান আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বন্যার পানি থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ