ঢাকা, শুক্রবার 19 July 2019, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রিফাত হত্যার স্ত্রী মিন্নি পরিকল্পনাকারীদের একজন --পুলিশ

 

স্টাফ রিপোর্টার : বরগুনায় শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের একজন তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, “মিন্নি হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হত্যা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।”

গত ২৬ জুন জেলা শহরের কলেজ রোডে রিফাতকে (২৩) স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করে একদল লোক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামী করে বরগুনা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটকের পর মঙ্গলবার রিফাতের স্ত্রী মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আর মামলার ১ নম্বর আসামী নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

পুলিশ সুপার গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন বলেন, “মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নির যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।”

হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। সেখানে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করছে। তার স্ত্রী মিন্নি তাকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও তার ভাই রিশান ফরাজীর নাম বলেন।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানান। মিন্নি শ্বশুর দুলাল শরীফের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

দুলালের দাবি, মামলার ১ নম্বর আসামী নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হয়েছিল। রিফাতকে হত্যার ঘটনায় মিন্নি জড়িত ছিলেন। আহত রিফাতকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মিন্নি সঙ্গে যাননি।

মিন্নি বলছেন, নয়নের সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি। জোর করে কাবিনে সই নেওয়া হয়েছিল।

 

আসামী রিশান ফরাজী গ্রেফতার

রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার তিন নম্বর আসামী রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। জেলার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ খবর দেন। রিশানকে সকাল ১০টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানালেও কোথা থেকে তাকে ধরা হয়েছে, সে তথ্য তিনি দেননি।

বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিশান ও তার ভাই রিফাত ফরাজী এ মামলার প্রধান আসামী সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডের সহযোগী।

পুলিশ দুই সপ্তাহ আগে রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করলেও নয়ন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত ২ জুলাই নিহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। রিফাত শরীফের স্ত্রী এ মামলার ১ নম্বর সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, তাদের মধ্যে আটজন এজাহারভুক্ত আসামী। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ১০ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির জানান, এ মামলায় গ্রেপ্তার তিনজন এখনো রিমান্ডে রয়েছেন। 

 

রাব্বী ও আরিয়ানের জবানবন্দী আদালতে

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামী রাব্বী আকন ও সন্দেহভাজন আরিয়ান শ্রাবণ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক হুমায়ুন কবির। এ নিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে ১২ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান হুমায়ুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ