ঢাকা, শুক্রবার 19 July 2019, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষকদের আমরণ অনশনের আন্দোলন চলছেই

 

স্টাফ রিপোর্টার: বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ৩৩ তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। গতকাল ১৬তম দিনের মতো আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন বলে দাবি করেন তারা। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র ব্যানারে মাসব্যাপী অবস্থান কর্মসূচিতে দুই শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আন্দোলনরত একজন শিক্ষক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে, শিক্ষকদের আন্দোলন মাস পেরোলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কোনো সাড়া মেলেনি বলে দৈনিক সংগ্রামকে জানিয়েছেন অবস্থানরত শিক্ষকরা। 

সমিতির মহাসচিব কামাল হোসেন দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গত ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা। গত ৩৩ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। ১ মাসের অবস্থানে দুই শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। কিন্তু, স্কুলগুলো সরকারিকরণের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কোন আশ্বাস মেলেনি। তিনি আরও জানান, ৪ হাজার ১৫৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়া না পর্যন্ত শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।

গত ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। এর আগে গত ১৬ জুন থেকে বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির’ ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেছেন শিক্ষকরা। তবে, গত ১৮ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়েছে, নতুন করে আর প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো প্রস্তাব আপাতত বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

অবস্থানরত শিক্ষকরা জানান, সরকারি হয়নি এমন চার হাজার ১৫৯টি স্কুল রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে প্রকৃত তথ্য না দেয়ায় এসব স্কুল সরকারি হয়নি বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, সরকারিকরণের প্রক্রিয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় তারা বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকরা। তারপরেও এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

শিক্ষকরা দাবি করেন, তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ১ হাজার ৩০০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারিকরণের জন্য তথ্য সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে যাচাই বাছাই কমিটিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ