ঢাকা, শুক্রবার 19 July 2019, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিদ্ধিরগঞ্জে মহিলা এমপি’র গাড়ি ভাঙচুর ॥ গ্রেফতার ১০

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়গঞ্জ) সংবাদদাতা : সিদ্ধিরগঞ্জে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মাহিলা আসনের সংসদ সদস্য (৩৪৯) সেলিনা ইসলামের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত ৯ টার কিছু সময় পরে সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। হামলায় এমপির গাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত এবং তার ব্যক্তিগত দু’জন কর্মচারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার এমপির ব্যক্তিগত সহকারী সোহেল আহম্মেদ বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টার একটি মামলাটি করেছেন। এ ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলসহ ১০ জনকে আটক করা হয় দাবি করেছে পুলিশ। মামলা হওয়ার পর আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। মামলায় আরো ৩০/৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ১০ দিনের পুলিশী রিমান্ড চেয়ে গতকাল আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলকে। আগামী রোববার রিমান্ড আবেদনের শুনানীর দিন ধার্য্য করে আসামীদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। কাউন্সিলর সাদরিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। ওই মহিলা এমপি ঘটনাস্থলে একটি পারিবারিক কলহের মীমাংসা করতে এসেছিলেন বলে এজাহারে বলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত অন্য আসামীরা হলেন, মো. হাফেজ আহম্মেদ, খাইরুল ইসলাম, তানভির সিদ্দিকী, রাব্বি, সাকিল, নাজমুল, মুসলিম ও ফয়েজ ।

মামলার বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, মামলার ২ নং আসামী মো: হাফেজ আহম্মেদ তার চাচাতো বোন সালমার স্বামী । দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বাদী তার ম্যাডামকে (এমপি সেলিনা ইসলাম) নিয়ে বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকার কালু হাজীর বাড়ির ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া তার চাচাতো বোন সালমার বাসায় আসেন। এসময় এমপির সাথে তার খালাতো ভাই ওয়াসিম, ব্যক্তিগত কর্মচারী সোহানা, ড্রাইভার রানা ও বাদীর চাচা আব্দুল হাই ছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা পারিবারিক কলহের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন। এসময় হঠাৎ করে বিবাদী হাফেজ আহম্মেদ বারান্দায় গিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করা শুরু করেন। তার এ আচরণের কারণ এমপিসহ তারা বাড়ী থেকে নেমে নীচে এসে সাংসদের স্টীকার লাগানো এমপির ওই গাড়ীতে উঠেন। এসময় উল্লেখিত আসামীরাসহ অজ্ঞাত আরো ৩০/৪০ জন ম্যাডামকে ( সাংসদ) হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠি সোটা নিয়ে গাড়ীতে হামলা চালায়। প্রাণ ভয়ে ওই সাংসদ ও তার সংগীয় লোকজন গাড়ী থেকে নেমে বাড়ির নীচ তলার একটি কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এমপি ও তার খালাতো ভাই ওয়াসিমকে ওই রুমে আটকে রাখে আসামীরা। ইট,পাটকেল ও লাঠি সোটা দিয়ে এমপির গাড়ী ভাংচুর করে তারা। এসময় আসামীরা উক্ত মামলার বাদী ও এমপির ব্যক্তিগত কর্মচারী সোহানাকে মারধর করে। এ অবস্থায় এমপির ড্রাইভার রানা থানায় ফোন করে খবর দিলে পুলিশ এসে এমপি ও তার সংগীয়দের উদ্ধার করে। উক্ত এমপি সেলিনা ইসলাম সংরক্ষিত মহিলা এমপি সদস্য (৩৪৯) বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। এমপি সেলিমা ইসলামসহ তাদেরকে উদ্ধার করেন। এমপির অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে কাউন্সিলর সাদরিল, হাফেজ আহমেদ সহ ১০জনকে আটক করে নিয়ে আসেন। 

ওসি (তদন্ত) সেলিম মিয়া জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যকে হত্যা চেষ্টার মামলা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানীর দিন ধার্য্য করেছেন আদালত। আদালতের নির্দেশে আসামীদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ