ঢাকা, সোমবার 19 August 2019, ৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সড়কে ৫ ফুট পানি, শেরপুর-জামালপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন 

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: পুরানো ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ার ফলে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান ও শিমুলতলি ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতায় প্রবলবেগে বন্যার পানিতে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শুক্রবার ভোর থেকে ওই সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

শেরপুর সদর, শ্রীবরদী ও নকলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। এসব এলাকার অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া উজান থেকে ভাটির দিকে প্রবলবেগে পানির ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে যেকোন সময় শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশংকা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা।

শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজরিডার (পানি পরিমাপক) মো. মোস্তফা মিয়া জানান, শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ১৫ ঘন্টায় পুরানো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২১ সেন্টিমিটার বেড়ে ১৬ দশমিক ৯৭ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিলে, যা বিপদসীমা থেকে মাত্র ৩ সেন্টিমিটার নীচে অবস্থান করছিল। পানি বাড়ার গতি অব্যাহত থাকলে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যেই শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদ বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে

জেলার কর্মকর্তারা জানান, দুদিনের বন্যার পানিতে ডুবে গেছে সবজিভান্ডার খ্যাত শেরপুরের চরাঞ্চলের সবজির আবাদ এবং বীজতলা। বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে গেছে পুকুর এবং খামারের পাড়, ভেসে গেছে দুই শতাধিক পুকুরের প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মৎস্য সম্পদ। পানি বাড়ার স্রোত দেখে সাধারণ মানুষ আরও বড় আকারের বন্যার আশংকা করছেন। তবে বন্যা মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তবে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নামতে শুরু করায় ওইসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আকবর আলী বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ার সাথে সাথে চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। আমার ইউনিয়নে সবগুলো গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বীজতলা, সবজির আবাদ ডুবে গেছে। মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুলরচর-বেপারিপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় ২০০ পরিবার স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চুনিয়ারচর, সাতপাকিয়া, কুলুরচর, ডাকপাড়া এবং দিকপাড়া এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। বন্যার্তরা কী খাবেন, কোথায় যাবেন কোন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে আমি বিষয়টি অবহিত করে জরুরি সহায়তা চেয়েছি।’

জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ১২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত, ৭৪৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং ১৬৫ হেক্টর জমির আউস ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল রউফ জানান, চলতি বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত শেরপুর জেলার ৩৫ ইউনিয়ন ১৭২ গ্রাম প্লাবিত হওয়া প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

১৫৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা, ২ দশমিক ৭ কি.মি বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের সহায়তার জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ২০০ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৩ লাখ টাকা জরুরি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।- ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ