ঢাকা, শনিবার 20 July 2019, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন বিচার বিভাগে সৃষ্টি হয়েছে নৈরাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচার বিভাগে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসাথে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চরমভাবে ব্যর্থ বলেও মনে করে দলটি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এইসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে। একের পর এক জেলা বন্যা কবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ সেটা বেড়েই চলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা আমরা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে। তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। একইসাথে তিনি বলেন, দেশের কোথাও কারো কোনো নিরাপত্তা নেই। অবস্থা এমন হয়েছে যে, আদালতের ভেতরে গিয়েও হত্যা করা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সাধারণ এরকম পরিস্থিতিতে যেরকম উদ্যোগ-সহায়তা নেয়ার কথা সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ত্রাণ মন্ত্রী কোথাও ঘুরে আসেননি। সরকারের পদক্ষেপগুলো মানুষ দেখতে চায়। আপনারা পত্রিকায় কি ছবি দেখছেন যে, কোনো মন্ত্রী এলাকাতে গেছেন বা বন্যা কবলিত এলাকায় হেলিকপ্টার মুভ করেছে। দেখেন নাই। অর্থাৎ সরকারের যে জনগনের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা নেই সেটা বুঝা যায়। এখানে বিরোধী দলের তেমন কিছু করার নেই। তারা ত্রান কমিটি পাঠাতে পারে, সেখানে কিছু কিছু সাহায্য নিয়ে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব বন্যা কবলিত মানুষকে রক্ষা করা। যেটা সরকার করছে না।
ত্রাণ কমিটি গঠন: মির্জা ফখরুল জানান, স্থায়ী বৈঠকে দলের ২১ সদস্যের একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আহবায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সদস্য সচিব ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। কমিটিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট জেলার নেতৃবৃন্দও থাকবে। এই ত্রাণ কমিটি অবিলম্বে তাদের কর্মকান্ড শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে দুই ঘন্টা স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ও করণীয় নির্ধারণ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, দেশে আজকে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনগনের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে। এমন একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে যেন মনে হচ্ছে দেশে একটা এনার্কি চলছে।
তিনি বলেন, আদালতের ভেতরে গিয়ে হত্যা করা হচ্ছে, ছোট্ট শিশুর মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে, প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হচ্ছে এবং তার পরবর্তিতে যে ঘটনাগুলো ঘটছে যেমন, একজন প্রধান আসামী (০০৭ নয়ন বন্ড)তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হলো। দেখা গেলো সেই মামলার যে বাদী ( আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি) তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হলো এবং তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়গুলো দেখা যায় যে, এখানে একটা এনার্কি নৈরাজ্য বুঝা যায় যে, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচার বিভাগে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা দেখেছেন যে, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সাহেবকে অজ্ঞাত সুব্রত বাইন পরিচয় দিয়ে গুম করার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলো কিন্তু অহরহ ঘটছে। অনেক মানুষই ভিকটিম হচ্ছেন েিব্শষ করে তুলে নিয়ে যাওয়া- এটা তো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আপনারা দেখেছেন, কয়েকদিন আগে একজন র‌্যাব সদস্য তিনি তারই এক আত্বীয় তার সঙ্গে জমির সমস্যার কারনে তিনি তাকে গোয়েন্দা দিয়ে তুলে নিয়ে গেছেন এবং তাকে হত্যা করছেন। এই বিষয়গুলো যত ঘটছে তত প্রকাশ হয়ে পড়ছে যে, দেশে আজকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারাই এখন সবচাইতে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন। সরকার বলতে যা বুঝায়, এরকম গভার্মেন্ট আছে কিনা এটাই আজকে জনগনের কাছে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করছি যে, এটা এখন শুধু আপনার নিরবে থাকার মধ্যে, দুই-একটা কথা বলা বা কোনো একটা বির্তকের মধ্যে থাকার মধ্যে জনগন শুধু সীমাবদ্ধ থাকি অথবা রাজনীতিক দলগুলো সীমাবদ্ধ থাকে বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে দেশ চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে। আমরা মনে করছি যে, এই বিষয়ে একটা জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে হলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে কথাবার্তা বলা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করছি এবং বিষয়টাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ডেঙ্গু এখন ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন যে, তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছে না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত নাকী কিছুই হয় নাই। এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারীর নিচে রাখছেন। বড়রা মোজা পরে থাকেন-কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি, এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি-এটাই বাস্তবতা বলছি।
বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ