ঢাকা, শনিবার 20 July 2019, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

যশোর বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে রেকর্ড গড়লো খুলনার সিটি কলেজ

খুলনা অফিস : জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে যশোর বোর্ডে অনন্য রেকর্ড গড়েছে খুলনার সরকারি এম এম সিটি কলেজ। কলেজটি থেকে বছর ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ইতোপূর্বে যশোর বোর্ডের কোনো কলেজেই একসঙ্গে এতো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। খুলনাসহ বোর্ডের অনেক কলেজে ৪৫৬ জন শিক্ষার্থীই নেই-সেখানে এক কলেজ থেকে ৪৫৬ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়াকে রেকর্ড হিসেবে দেখছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা

যশোর বোর্ড থেকে জানা গেছে, খুলনার সরকারি এম এম সিটি কলেজ থেকে এ বছর পরীক্ষা দিয়েছে এক হাজার ৬০ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে এক হাজার ৫ জন। যার মধ্যে ৪৫৬ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবছর এই কলেজ থেকে ৪১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

এদিকে পাশের হারে বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে খুলনা জেলা। খুলনার জেলার পাশের হার ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। গতবছরও পাশের হারে খুলনা শীর্ষে এবং সিটি কলেজ জিপিএ-৫ এর শীর্ষে ছিলো।

যশোর বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর খুলনার ১০১টি কলেজ থেকে ২৪ হাজার ৭৬৬ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ২০ হাজার ২৩৯ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। বোর্ডের পক্ষ থেকে শীর্ষ তালিকা প্রকাশ না করায় সেরা কলেজ বের করা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে বোর্ডে শীর্ষে অবস্থান করা কলেজগুলো এবারও ভালো ফলাফল করেছে। তবে পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার গতবারের তুলনায় বেড়েছে।

খুলনায় মেয়েদের কলেজের মধ্যে এবার ভালো করেছে সরকারি মহিলা (বয়রা) কলেজ খুলনা। কলেজ থেকে ৬৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬২২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৭ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে পাশের হার ও জিপিএ ৫ বেড়েছে কলেজটির। গতবছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৫ জন। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

গতবার মেয়েদের কলেজের মধ্যে সবেচেয়ে ভালো করেছিল পাইওনিয়ার সরকারি গার্লস কলেজ। এবারও তারা ভালো করেছে। সেখান থেকে ১ হাজার ১৫৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ১ হাজার ১০৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৮৬ জন।

খুলনা নগরীর কলেজগুলোর মধ্যে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশের হার বেশি খুলনা পাবলিক কলেজের। এই কলেজ থেকে ৪৩১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৫৯ জন। গতবছর পাসের হার ৯৯ ছিল দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১২১ জন।

রূপসা উপজেলার সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ কয়েকবছর ধরে ভালো ফল করছে। এ বছর কলেজটি থকে ৩৩৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯৬ দশমিক ৪১ হারে ৩২৩ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯৭ জন।

খুলনার মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল (এমসিএসকে) গতবারের মতোই ভালো করেছে। কলেজ থেকে এবছর ৮৪ পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৯ জন। গতবছর শতভাগ পাস এবং ৪৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ গত বছরের চেয়ে ভালো করেছে। কলেজ থেকে ১ হাজার ২০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯৮ জন ফেল করেছে। পাসের হার ৯১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭৮ জন। গতবার পাসের হার ছিল ৭৭ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৫ জন।

খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল থেকে ১৬৪ জন পরীক্ষার্থীর ১৫৫ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৫১জন।

সরকারি বিএল কলেজ থেকে এবছর ৭২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫১ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৩ জন।

আযমখান সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ৫০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৪৭৪ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাশের হার ৯৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত বছরের চেয়ে পাশের হার ও জিপিএ ৫ বেড়েছে কলেজটির।

সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ খালিশপুর থেকে ৮৭১ জন পরীক্ষা দিয়ে ৭১৩ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ জন। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, জাহানাবাদ থেকে ১৭৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ১৭৩ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৩ জন। নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪১৬ জন পরীক্ষা দিয়ে ৩৭৭ জন পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৮ জন।

এদিকে খুলনা শিপইয়ার্ড স্কুল এন্ড কলেজের সবাই পাশ করেছে। কলেজটি থেকে এবার ৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। যার মধ্যে সবাই পাশ করেছে।

নতুন কলেজ হিসেবে এবার তুলনামূলক ভাল ফলাফল করেছে জেলা প্রশাসন পরিচালিত খুলনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ। কলেজটি থেকে এবারই প্রথম ২৯ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন, এ-পেয়েছে ১৯ জন শিক্ষার্থী।

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সঞ্জিব কুমার ঘোষ বলেন, অন্য সরকারি কলেজগুলোতে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। কিন্তু নতুন কলেজ হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষাকৃত খারাপ ছাত্ররাই এখানে ভর্তি হয়েছিলো। জিপিএ-৫ পাওয়া ৪ জনের মধ্যে ৪ জনই এসএসসি ‘এ’ পেয়েছিল। এই ফলাফলে আমরা অনেক খুশি।

খুলনায় দারুল কুরআন সিদ্দিকীয় কামিল মাদরাসা ফলাফলে শীর্ষে : এবারও আলিম পরীক্ষায় খুলনা জেলায় দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসাটি ফলাফলে শীর্ষ স্থান দখল করেছে। এছাড়া জিপিএ-৫ এ এগিয়ে রয়েছে এবং পাশের হার দাঁড়িয়েছে শতভাগ। অপরদিকে জরিপ অনুযায়ী খুলনা আলিয়া কামিল (এম এ) মাদরাসাটি ফলাফলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। 

প্রাপ্ত তথ্য মতে, খুলনায় এ বছর আলিম পরীক্ষায় দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা থেকে ১০৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন। খুলনা আলিয়া কামিল (এমএ) মাদরাসা থেকে ৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন এবং পাস করেছে ৭২ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩০ ভাগ। খাঁন-এ সবুর মহিলা ফাজিল মাদরাসা থেকে ৪৫ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাস করেছে ৪৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৭৮ ভাগ। নেছারিয়া কামিল কামিল মাদরাসা থেকে ২৪ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাস করেছে ২৩ জন। তালিমুল মিল্লাত রহমাতিয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩০ জন। মোহাম্মদ নগর মহিলা কামিল মাদরাসা থেকে ৫৩ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন এবং পাস করেছে ৫০ জন। মিরেরডাঙ্গা ইসলামিয়া আলিয়া মাদরাসা থেকে ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২০ জন। আটলিয়া আলিম মাদরাসা থেকে এ বছর ১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১০ জন। দেয়াড়া যুগিহাটী আলিম মাদরাসা থেকে ২৪ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৭ জন। 

খুলনার দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, ‘তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এ বছর খুলনায় আলিম পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষ স্থানে রয়েছে। এ ফলাফলে তিনি মাদরাসার সকল শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।’ 

খাঁন-এ সবুর মহিলা ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. সালেহ আহমেদ বলেন, ‘তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর ৪৫ জন অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। এ ফলাফলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। 

মিরেরডাঙ্গা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা অধ্যক্ষ মাওলানা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ আলিম পরীক্ষার ফলাফল ভালো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ