ঢাকা, শনিবার 20 July 2019, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার হজ্ব প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অন্তুর্ভুক্তের বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।
তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের একটি হজ্ব দলের সদস্য হয়েছেন। যার প্রধান হচ্ছেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এটা প্রমাণ করে যে, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন এরা যে সংবিধানকে একেবারে তোয়াক্কা করেই না, সংবিধানের আশ-পাশ দিয়ে যায় না এবং একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রটাকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোই নেই। সেখানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কোন আইনে, কোন ক্ষমতা বলে একটা হজ্ব ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্যে একটি হজ্ব প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, এটা ডিসগ্রেসফুল। চিন্তা করা যায় না তিনি এরকম কমিটিতে সৌদি আরব যাচ্ছেন। উনি (সিইসি) যদি হজ্ব করতে চাইতেন তাহলে বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন। এই যে আপনার আত্মসম্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে আপনার নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়। যার ফলে এদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তারা কোথায় নিয়ে গেছেন।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে সিইসির হজ্ব প্রতিনিধি দলের সদস্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংবাদ ব্রিফিঙে বিএনপি মহাসচিব সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব ও কর্মকান্ড ও হজ্ব কমিটির গঠনের গ্যাজেটের বিষয়টি তুলে ধরেন।
এদিকে ঈদের আগেই দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আট বিভাগীর শহরে সমাবেশ করার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গত ১৮ জুলাই বরিশাল বিভাগ থেকে এই সমাবেশ শুরু হয়েছে। আজ ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই হবে খুলনায়। বাকি বিভাগে শিগগিরই সমাবেশের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল ধরে কারারুদ্ধ রয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য এখন হাসপাতালে রয়েছেন। কিন্তু আমরা খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, তার স্বাস্থ্যের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখছি না। তার শারীরিক যেসব সমস্যা ছিলো তার কোনো সমাধানই হয়নি। উপরন্তু সমস্যা বেড়েই চলেছে। সে কারণে আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ