ঢাকা, রোববার 21 July 2019, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগরের কাজীর দেউড়িস্থ নূর আহমদ সড়কে বিএনপি আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন নির্বাচনে জনগণের আস্থা নেই। দেশে বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। স্বৈরাচারিভাবে দেশ চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তারা গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, জনগণ নয় বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনযন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তারা বিএনপিসহ দেশের সব বিরোধী দলগুলোর মূলোৎপাটনের মাধ্যমে নব্য বাকশালী শাসন বলবৎ রেখে জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশব্যাপী জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণসহ নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতনের মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যাতে বর্তমান দু:শাসানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দি করে রাখার মতো অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার।
বন্যাদুগর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের গ্রামে গ্রামে যেতে ছড়িয়ে পড়তে হবে। জনগণকে নিয়ে গণঅভূত্থান ঘটাতে হবে। জনগণের কাছে গিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করে আনা হবে। তাকে মুক্ত করা গেলে দেশে গনতন্ত্র ফিরে আসবে। এ সরকারের পতন হবে। লুঠপাট, গুম ও খুনকারী এ সরকারের বিদায় সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের ব্যর্থতার কারণে, সরকারের কুটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে রোহিঙ্গারা আমাদের কাঁদের ওপর চেপে বসেছে। এ সমস্যার সমাধান করতে না পারলে, এ সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, অন্যায়ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। কারাবন্দি রেখে তাকে মৃত্যুও দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রকে বারবার হত্যা করেছে। বিএনপি গণতন্ত্রকে উজ্জিত করেছে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করলে গণতন্ত্র মুক্ত হবে না। খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে হত্যা করে, গণতন্ত্রকে আরেকবার হত্যা করতে চায় আওয়ামীলীগ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, নেই মানুষের কোনো মানুষের আধিকার। দেশের মানুষ বন্যায় বিপর্যস্ত অথচ প্রধানমন্ত্রী বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই অবৈধ সরকারের সবকিছু অবৈধ। ৩০ ডিসেম্বর নয়, ২৯ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা এসেছে আওয়ামীলীগ। তারা জনগণের কোনো সুবিধার কথা চিন্তা করে না। দ্রব্য মূল্যেও ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাবিশ্বাস উঠেছে। একের পর এক দ্রব্য মূল্য বাড়াছে সরকার। গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে।
চট্টগ্রাম উত্তর দক্ষিণ জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পদক আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. শাহজাহান, মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বিএনপি, বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুবু, জয়নাল আবেদিন ফারুক, কেন্দ্রিয় নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাচিং প্রু জেরী, এসএম ফজলুল হক নূরুল আমিন, আবু সুফিয়ানসহ উত্তর দক্ষিণ জেলা ও মহানগরীর নেতারা।
আটক নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি মির্জা ফখরুলের : বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যোগদানের জন্য চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণকালে শনিবার ফেনী থেকে ফেনী জেলা বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান মামুন, দাগণভূঁইয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহাদাৎ, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলু,  জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শরীফুল ইসলাম এবং ফেনী পৌর যুবদল নেতা কাজী সোহাগকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার এখন জনআতঙ্কে ভুগছে, জনসমাগম দেখলেই জনবিস্ফোরণের আশঙ্কায় শিউরে উঠছে। বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, এই দলটির উদ্যোগে সবসময়ই গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অথচ গণধিকৃত আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশগুলোকে পন্ড করতে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আসছে। গত ১৮ জুলাই ২০১৯ বরিশালে বিএনপি’র উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু সেখানে সরকার নানাভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিএনপি’র বিভাগীয় সমাবেশকে বানচাল করার সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত রাখতে গ্রেফতারসহ নানামূখী হয়রানী করছে। জনগণ নয় বরং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন যন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তারা বিএনপিসহ দেশের সকল বিরোধী দলগুলোর মূলোৎপাটনের মাধ্যমে নব্য বাকশালী শাসন বলবৎ রেখে জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। দেশব্যাপী জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টির জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণসহ নারী-শিশুদের উপর নির্যাতনের মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটনের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে যাতে বর্তমান দু:শাসানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দী করে রাখার মতো অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, মূলত: একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে যা বোঝায় তা এখন নি:শেষ করে দেয়া হয়েছে বলেই আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসনে মাতোয়ার হয়ে উঠেছে। মানবতাবিরোধী সকল কর্মকান্ডে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জবরদখলকারী বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার তাদের বেসামাল অবস্থাকে সন্ত্রাসী কায়দায় সামাল দেয়ার জন্যই বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটকিয়ে রাখার কুমতলব গ্রহণ করেছে। কিন্তু জালিম সরকারের এসব অন্যায় ও কুমতলব তছনছ করে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার মাধ্যমে দেশে হারানো গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণ এখন রাস্তায় নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বিএনপি মহাসচিব ফেনী জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ