ঢাকা, রোববার 21 July 2019, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতারে ঢাকায় বিক্ষোভ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে নালিশ দেয়ার ঘটনায় দেশে বিদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ওই বক্তব্যের একদিন পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর পেছনে অসৎ কোনো উদ্দেশ্য বা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানীতে। এ দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রিয়া সাহা দেশে ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে ট্রাম্পের সাথে দেখা করলেও ঐক্য পরিষদ বলছে, তাদের প্রতিনিধির নামের তালিকায় তার নাম ছিল না। তার পরিচয়ের ব্যাপারেও ভুল তথ্য দিয়েছেন প্রিয়া সাহা। তার নিজ জেলা পিরোজপুরের মানুষ বলছে, নিজের স্বার্থের জন্য স্থানীয় হিন্দু ও মুসলমানদের হয়রানি করতেন প্রিয়া।
দেশের মারাত্মক ক্ষতির উদ্দেশ্য রয়েছে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিষয়ে প্রিয়া সাহার মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এর পেছনে অসৎ কোনো উদ্দেশ্য বা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরে গতকাল এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিক্রিয়া জানালো সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে যে ভয়ঙ্কর মিথ্যা অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ ও কঠোর নিন্দা জানায়। এর পেছনে বাংলাদেশের মারাত্মক ক্ষতির কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মনে করছে সরকার।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি বাতিঘর, যেখানে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গাদের) অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার পরে বাংলাদেশের মানুষের মানবিকতা ও উদারতা বিশ্বব্যাপী প্রসংশিত হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার আশা করে এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাবেন, যারা ধর্মীয় স্বাধীনতার মূল্য বৃদ্ধিতে সত্যিকারের অবদান রাখবে।
প্রিয়া সাহার উদ্ভট অভিযোগ বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী: বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে করেছেন, তা নাকচের পাশাপাশি এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেছেন, প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে অভিযোগ করেছেন, তা একেবারেই মিথ্যা। বিশেষ মতলবে এমন উদ্ভট কথা বলেছেন তিনি। আমি এমন আচরণের নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মোমেন শুক্রবার হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে লন্ডন রওনা হওয়ার আগে একথা বলেন।
গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি : প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দেশবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বলে মনে করে ‘ফিউচার অফ বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ায় তাকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, বহির্বিশ্বে এমন ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অপরাধে প্রিয়া সাহার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি করছি। তার নাগরিকত্ব বাতিল না করলে ফিউচার অফ বাংলাদেশসহ সারাদেশের মানুষকে একত্রিত করে আন্দোলন করে যাবো। কেননা তিনি বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।
রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এখনও পর্যন্ত প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা বা বিবৃতি দেয়নি। এই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তার কোনও যোগসূত্র আছে কিনা সরকারকে তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি।
দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আরও বলেন, যেখানে মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, সেখান বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেখতে পাই, চীনে কীভাবে মুসলমান নিধন করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে কীভাবে মুসলমানদের খুন করা হচ্ছে। কিন্তু যখন বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-মুসলমান সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে; তখন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেত্রী প্রিয়া সাহা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দিলেন। সে আসল রাজাকার। অবিলম্বে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনা হোক।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আজিজের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন কে জি সেলিম, মহিউদ্দিন সজীব, এডভোকেট মোজাম্মেল হক, তানভীর আহমেদ, শাহজাহান কামাল, মুক্তার আকন্দ প্রমুখ।
আইনের আওতায় আনার দাবি ঢাবি শিক্ষার্থীদের: সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তার বক্তব্যকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ মানববন্ধন পালিত হয়। মানববন্ধনে পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন বলেন, প্রিয়া সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালীন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা দেশদ্রোহিতার শামিল। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ছিল আন-অফিসিয়াল কনভারসেশন। তিনি একটা এনজিওর প্রতিনিধি হিসেবে এই কথা বলতে পারেন না। প্রিয়া তার নিজ দেশের বিরুদ্ধে এক ধরনের মিথ্যাচার করেছেন। আমরা মনে করি প্রিয়া সাহা একা নন। তার পেছনে অনেক রুই-কাতলা আছে। আমরা দাবি করছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটা তদন্ত করা হোক। তদন্তের মাধ্যমে তাকে এবং তার পেছনে থাকা রুই-কাতলাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
ঢাকায় প্রিয়া সাহার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ: বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তোলার কারণে প্রিয়া সাহার ঢাকার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে একদল যুবক। গতকাল দুপুরে ধানমন্ডিতে প্রিয়া সাহার বাড়ির সামনে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’ ব্যানারে ২০-২৫ জন প্রথমে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া আব্দুল কাইয়ুম নামে এক শিক্ষানবীশ আইনজীবী বলেন, প্রিয়া সাহা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছেন। তিনি সংখ্যালঘুদের কথা চিন্তা করে নয়, বরং তার যে দুই মেয়ে আমেরিকা প্রবাসী তাদের নাগরিকত্ব পেতে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অনেক কঠিন। তিনি মিথ্যাচার করে তার দুই মেয়ের নাগরিকত্ব নেয়ার পথ পরিষ্কার করছেন।
দেশে ফিরলে জিজ্ঞাসাবাদ: বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ কোন উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে তুলেছেন, দেশে ফিরলে সে বিষয়ে প্রিয়া সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেছেন, এ ধরনের খবর দেয়ার পেছনে তার নিশ্চয়ই একটি কারণ ও উদ্দেশ্য রয়েছে। দেশে আসলে নিশ্চয়ই আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করব।
ঢাকায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, তার উদ্দেশ্যটা কী, এটা আমাদের দেখার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার অভিযোগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য দেশবিরোধী। তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।
গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। সহিংস উগ্রবাদবিরোধী ছায়া সংসদ বির্তক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রিয়া সাহার এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করছে। সব বক্তব্য, তথ্যপ্রমাণ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে চলমান সব উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা বলে পরিচয় দেন প্রিয়া সাহা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রিয়া সাহা সাক্ষাতে সুযোগ পান নিজেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি পরিচয়ে। যদিও তিনি ওই সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারি নন। সংগঠন থেকে যে তিনজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে যেখানে তার নাম ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রানা দাশগুপ্ত।
তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন থেকে তিনজন প্রতিনিধিকে ওয়াশিংটনের ওই সম্মেলনে পাঠানো হয়েছিল। তারা হলেন, পরিষদের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য অশোক বড়ুয়া ও নির্মল রোজারিও এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চ্যাটার্জী এর বাইরে আমাদের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। প্রিয়া সাহা আমাদের সংগঠনের ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। তবে তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সদস্য ছিলেন না।
মার্কিন গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন ফ্রিডম হাউস ২৭ প্রতিনিধির তালিকা তুলে ধরেছেন। তালিকার ১৮ নম্বরে প্রিয়া বিশ্বাস সাহার নাম রয়েছে।
ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ তার নিজস্ব বলে উল্লেখ করেছেন রানা দাশগুপ্ত।
উল্লেখ্য, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস ‘শারি’ নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) নির্বাহী পরিচালক। সংস্থাটি বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে বলে জানা গেছে। এ সংস্থা পরিচালিত ‘দলিত কণ্ঠ’ নামক একটি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক প্রিয়া সাহা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক।
প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয় বালা বিশ্বাস পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের মৃত নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের মেয়ে। তার শ্বশুরবাড়ি যশোর জেলায়। তার স্বামী মলয় কুমার সাহা দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দফতরে সহকারী উপ-পরিচালক পদে কমর্রত রয়েছেন। তারা ঢাকার ধানমন্ডিতে থাকেন। তাদের দুই মেয়ে প্রজ্ঞা পারমিতা সাহা ও ঐশ্বর্য লক্ষ্মী সাহা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছে।
মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে অভিযোগ করা প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে আজ রোববার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল শনিবার মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ৩৭ মিলিয়ন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী মানুষ গুম হয়েছে এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে এর পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে। এটি তদন্ত করে দেখা উচিত।
নিজ এলাকার হিন্দু-মুসলমানদের হয়রানি করছেন প্রিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের পেছনে প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার নিজ বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। তাদের অভিযোগ, এলাকার মুসলমান-হিন্দুদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে নষ্ট করার জন্যই তিনি ট্রাম্পের কাছে এ অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোককেও আসামি করে তিনি হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। তারা মনে করেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে রাতের বেলায় পরিত্যক্ত ঘরটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়।
দুপুরে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম নাজিরপুরের নিজ বাড়িতে বসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রিয়া সাহা আমার নির্বাচনী এলাকার মেয়ে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে নিজ দেশ, নিজের এলাকা সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার করেছেন। এটা চরম অন্যায় ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ ধর্মীয় বিবেচনায় নির্যাতনের শিকার হন না। আর পিরোজপুরের নাজিরপুরসহ এ জেলার মুসলমান, হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছেন। যা একটি অনন্য দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।
নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অমূল্য রঞ্জন হালদার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার ভাইয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় কয়েকজন হিন্দু ও মুসলমানকে হয়রানি করে আসছেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তার ভাইয়ের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে যে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল সেটি নিয়েও রহস্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাস তার নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদেশে গিয়ে এমন উস্কানিমূলক কথা বলেছেন। এতে নাজিরপুরের ভামমূর্তিও নষ্ট হয়েছে। নাজিরপুরে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা নেই। এখানে হিন্দু-মুসলমান সহাবস্থানে বসবাস করছে।
পিরোজপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডল জানান, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এ ধরণের একটি উদ্ভট মিথ্যাচার করবেন ভাবতেও পারিনি। তিনি কেন এবং কি উদ্দেশ্যে এভাবে মিথ্যাচার করেছেন তাও আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। পিরোজপুরে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন ভালো রয়েছে। এখানে কোনো হিন্দু বা সংখ্যালঘু গুমের ঘটনাও নেই।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী বলেন, প্রিয়া সাহা তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে মিথ্যা কথা বলে পিরোজপুরসহ দেশের সকল ধর্মের লোকজনকে অপমান করেছেন। আমাদের এখানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬ দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ