ঢাকা, রোববার 21 July 2019, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অব্যাহত ঘটনায় অভিভাবক নারী সমাজ আতঙ্কিত

স্টাফ রিপোর্টার: সারা দেশে একের পর এক যৌন হয়রানির আর ধর্ষণের ঘটনা ঘটছেই। এসব ঘটনায় অভিভাবক এবং নারী সমাজে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এবার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে  নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নে ইউছুফ নামের এক প্রধান শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন। একই সাথে শরীয়তপুরে সপ্তম শ্রেনীর মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ভ্যান চারককে আটক করে পুলিশ। বাগেরহাটেও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ৬৫ বছরের বৃদ্ধাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গতকাল শনিবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার প্রধান ইউসুফকে দুপুর ১২টার দিকে তাকে আটক করে পুলিশে দেন এলাকাবাসি। অভিযুক্ত ইউছুফের বাড়ি সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশিপুর এলাকায়। তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব মির্জা নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব মির্জা নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউছুফ গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে মোবাইলে পর্ন ভিডিও ও ছবি দেখাতো। একইসাথে ক্লাস ও অফিস কক্ষে ছাত্রীদের ডেকে নিয়ে তাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতো, ছাত্রীদের বাথরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে উঁকি মারতো ও কয়েকজন ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টাও করে। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তাদের পরিবারের লোকজনকে জানায়। এর ভিত্তিতে শনিবার সকালে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ ও স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ইউছুফকে আটক করে।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সামাদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ইউছুফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
এদিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে দেলোয়ার ছিপাই ( ৩৭) নামে এক ভ্যান চালককে আটক করেছে পুলিশ।
 শনিবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে সকালে শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন।
আটক দেলোয়ার ছিপাই উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাহমুদপুর গ্রামের ইসমাইল ছিপাইয়ের ছেলে। সে একজন ভ্যান চালক।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, ধর্ষণের শিকার ছাত্রী মাহমুদুপুর খাপারা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৮ মে মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশী দেলোয়ার ছিপাইয়ের বাড়ির টিউবওয়েলে (চার দিকে টিনের বেড়া দেয়া) গোসল করতে আসে ওই তরুণী। তখন মুষলধারে বৃষ্টি ছিল। আশেপাশে লোকজন না থাকায় ওঁৎ পেতে থাকা দেলোয়ার ছিপাই টিনের বেড়ার ভিতর ঢুকে টিউবয়েলের ফ্লোরে ফেলে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। কাউকে বিষয়টি বললে মেরে ফেলবে বলে হুমকিও দেয়। ভয়ে এতোদিন কাউকে কিছু বলেনি তরুণী। ১৬ জুলাই মঙ্গলবার তরুণী অসুস্থ হয়ে পরলে পরিবার তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের ধারণা তরুণী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হলে দেলোয়ারের পরিবার, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বার বিষয়টি সমাধানের জন্য হাসপাতালে আসেন।
মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ঢালী বলেন, ধর্ষণের ঘটনাতো আমরা সমাধান করতে পারি না। এর বিচার করবে আদালত। ঘটনা শুনে শুক্রবার স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন মাদবরকে নিয়ে মেয়েটাকে দেখতে গিয়েছিলাম। যে মেয়েটার এ অবস্থা করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।
ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের এ অবস্থার জন্য দেলোয়ার ছিপাই দায়ী। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে আমি থানায় মামলা করেছি। তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আমি এলাকায় মুখ দেখাবো কি করে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে দেলোয়ার ছিপাই নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা কিনা জানতে সদর হাসপাতালে ডাক্তারী পরীক্ষা চলছে।
  একইভাবে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার কাটাবুনিয়া গ্রামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (৮) নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে রশিদ ফকির (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 গতকাল শনিবার ভোর রাতে উপজেলার কাটাবুনিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার রশিদ ফকির কাটাবুনিয়া গ্রামের সাহেব আলী ফকিরের ছেলে। তাকে শনিবার দুপুরে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 মোরেলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ঠাকুর দাশ ম-ল জানান, মোরেলগঞ্জ উপজেলার শিশু শিক্ষার্থীকে প্রতিবেশী বৃদ্ধ রশিদ ফকির শুক্রবার বিকালে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় মেয়েটির চিৎকারে তার মাসহ অন্যরা ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করলেও রশিদ ফকির পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাতে মেয়েটির বাবা মহিদুল ইসলাম শিকদার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে পুলিশ শনিবার ভোর রাতে কাটাবুনিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে রশিদ ফকিরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার রশিদ ফকির পুলিশের কাছে শিশুটিকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ