ঢাকা, রোববার 21 July 2019, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঢাকার চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

মুহাম্মদ নূরে আলম : ঢাকার প্রথম চিড়িয়াখানা ছিল ঢাকার নওয়াবদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি শাহবাগ বাগানবাড়ির চিড়িয়াখানা। ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে নওয়াব খাজা আবদুল গনি ঐ চিড়িয়াখানাটি তৈরি করেছিলেন। বহু অর্থ ব্যয় করে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে নানা জাতের পশু পাখি সংগ্রহ করে চিড়িয়াখানাটি সমৃদ্ধ করেন। প্রাণিজগৎ সম্পর্কে জনসাধারণকে জ্ঞান দান ও আনন্দ উপভোগের জন্য তিনি সেটা তৈরি করেন। সমসাময়িক পত্র পত্রিকার ও বিভিন্ন লেখকের রচনা থেকে ঢাকার নওয়াবদের চিড়িয়াখানা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানা যায়।
হেকিম হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন যে, তিনি ছোট বেলায় শাহবাগ বাগান বাড়িতে ঢাকার নওয়াবদের চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভালুক, উটপাখি, হরিণ ও বিভিন্ন জাতের বানর দেখেছিলেন। সেখানে সিংহ, গন্ডার প্রভৃতি দুষ্প্রাপ্য প্রাণীও ছিল। আর ছিল বিভিন্ন জাতের প্রচুর পাখি। এছাড়া ছিল বাঁধানো চৌবাচ্চাসমূহে নানা জাতের ও নানা রঙের পোষা মাছ ও কুমির। পশুপাখিদের জন্য পৃথক পৃথক বেস্টনী, কুঠরী এবং মজবুত খাঁচা ছিল। ঢাকার নওয়াবদের চিড়িয়াখানাটি বিনামূল্যে দেখার জন্য জনসাধারণ জন্য উন্মুক্ত ছিল। শাহবাগ বাগানবাড়িতে হরিণ, ময়ূর, তিতির, বনমোরগ প্রভৃতি পশুপাখি দলে দলে ঘুরে বেড়াতো। অনেক সময়ে সেগুলো বাগান বাড়ির বেস্টনী প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে বাইরে চলে গেলে লোকেরা ধরে নিত বা শিকার করত। এজন্য নওয়াব সাহেব পত্রিকার মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে, নওয়াবের পোষা পশুপাখি কেউ শিকার করলে দন্ডনীয় হতে হবে। মোট কথা আজ থেকে এক দেড়শত বছর আগে যখন ঢাকায় সরকারিভাবে পশুপাখি প্রদর্শনের কোন ব্যবস্থা ছিল না তখন ঢাকার নওয়াবের ব্যবস্থাপনায় এদেশের লোকেরা চিড়িয়াখানা দেখার সুযোগ পেয়েছিল। (তথ্যসূত্র: ড. মো: আলমগীর)।
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা (Bangladesh Jatio Chiriakhana) কিংবা ঢাকা চিড়িয়াখানা যে নামেই ডাকা হোক না কেন এটি দেশের প্রাচীন এবং সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র হতে প্রায় ১৬ কিঃ মিঃ দূরে মিরপুরে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানাটি বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫০ সালে হাইকোর্ট চত্বরে জীবজন্তুর প্রদর্শনশালা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় চিড়িয়াখানাটি কালের বিবর্তনে এবং বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে আজকের এই রূপ লাভ করেছে। সুনিবিড় ছায়াঘেরা এ ঢাকা চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। যার মধ্যে ১৩ হেক্টরের দুটি লেক আছে। চিড়িয়াখানা তথ্যকেন্দ্র হতে প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা চিড়িয়াখানায় ১৯১ প্রজাতির ২১৫০টি প্রাণী রয়েছে। জনসাধারণের বিনোদন, দূর্লভ, বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণি সংগ্রহ ও প্রজনন, প্রাণি বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, শিক্ষা, গবেষণা এবং এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি ঢাকা চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য। বেঙ্গল টাইগারই ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ। চিড়িয়াখানায় নানা রকম দেশী বিদেশী জীব-জানোয়ার ছাড়াও রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির পাখি। রয়েছে আধাপ্রাকৃতিক লেক, লেকের উপর বিশালকায় পেলিক্যান পাখি। তার পাশে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ। হরেক রকম পাখির মধ্যে রয়েছে ফ্লেমিংগো, রঙিন ফিজ্যাণ্ট, বিলুপ্তপ্রায় কুড়া, কাল শকুন এবং শঙ্খ চিল। মিরপুর ঢাকাতে অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াাখানা। আগে অবশ্য এটার নাম ছিল ঢাকা চিড়িয়াখানা। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে ঢাকা চিড়িয়িাখানা থেকে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়িাখানা নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ২৩শে জুন ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। আয়তন-১৮৬ একর, প্রাণীর সংখ্যা    ২১৫০, প্রজাতির সংখ্যা ১৯১, বার্ষিক পরিদর্শক ৩,০০০,০০০, তথ্যসূত্র উইকিপিডিয়া। চিড়িয়াখানার দিকে মুখ করে দাঁড়ালে আপনার হাতের ডান পাশেই দেখতে পাবেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান। যেটা বোটানিক্যাল গার্ডেন নামেও পরিচিত। চিড়িয়াখানা ভিতরে ঢুকেই যা দেখলাম তা হল, গাছ! হুম গাছ। প্রচুর গাছপালা আছে চিড়িয়াখানাতে। চিড়িয়াখানা ঢুকে সোজা গেলে প্রথমে চোখে পড়বে বানরের খাঁচা। সাথে পুরো চিড়িয়াখানার ম্যাপ এবং কিছু নির্দেশনা। প্রাণীদের খাবার দিবেন না। খাঁচার একেবারে কাছে যাবেন না। আর, চিড়িয়াখানা ঢুকেই আপনি যদি হাতের বা দিকে যান, তাহলে এদিক দিয়ে রয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের টয়লেট, কিছু খাবারের দোকান।
প্রথমে কিছু নির্দেশনাবলী: চিড়িয়াখানার ঘুরার জন্য চিড়িয়াখানা ঢুকে প্রথমে সোজা যাবেন। একটু সামনে গেলেই দেখতে পাবেন পুরো চিড়িয়াখানার একটি বড় ম্যাপ রয়েছে। সাথে দেখতে পাবেন সামনেই একটি বানরের খাঁচা। বানরের সাথে দেখা করার পর আপনি হাতের বা দিকে যাবেন। হাতের বা দিক দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে আপনি আস্তে আস্তে ডান দিকে যাবেন। এভাবে করেই আপনার পুরো চিড়িয়াখানা ঘুরা শেষ করবেন। চিড়িয়াখানাও এই নিয়মটাই দিয়েছে। যাতে আপনি পুরো চিড়িয়াখানার সব গুলো প্রানির দেখা পান। হিংস্র প্রানি যেমনঃ বাঘ, সিংহ, সাপ এসব প্রাণীদের খাঁচা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।
আপনার সাথে যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে, তাদেরকে সব সময় কাছে রাখুন। প্রয়োজনে হাত ধরে রাখুন। কারণ, চিড়িয়াখনা অনেক বড় এবং সবসময় এখানে প্রচুর মানুষের সমাগম থাকে। একবার যদি আপনার বাচ্চা কে হারিয়ে ফেলেন, তাহলে তাকে খুঁজে পেতে অনেক সময় লাগবে। এর ফলে আপনার আনন্দ ভ্রমণ নিরানন্দ হয়ে যাবে। আর যদি, এরকম সমস্যায় পড়েই যান। তাহলে ঘাবড়ানর কিছু নেই। কারণ, চিড়িয়াখানার ভিতরে একদল সদস্য রয়েছে, যারা আপনার সহযোগিতা করার জন্য রেডি হয়ে থাকে সবসময়। আপনি ভিতরে ঢুকলেই তাদের মাইকের শব্দ পাবেন।
চিড়িয়াখানা ঢুকার পূর্বে সাথে পানি এবং শুঁকনো খাবার নিয়ে নিন। কারণ, এতো বড় চিড়িয়াখানা ঘুরতে ঘুরতে আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাছাড়া, উঁচু নিচু যায়গা দিয়েই আপনাকে ভ্রমন করতে হবে। যতটা সম্ভব খোলামেলা জামাকাপড় পড়ে চিড়িয়াখানা যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ক্লান্তি কম লাগবে। ভ্রমন উপযোগী জুতা পরার চেষ্টা করুন। সবসময় আপনার মানিব্যাগ এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আপনার হেফাজতে রাখুন। হাতের বা দিক দিয়ে গেলে এক এক করে দেখতে পাবেন গ-ার, গরিয়াল, হরিন, গয়াল, হাতি, জিরাফ ইতাদি প্রাণির খাঁচা। আপনি কম সময় নিয়ে সব প্রানি দেখার জন্য দ্রুত হাটবেন না। এতে আপনি দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। হাঁটতে হাঁটতে সবচেয়ে বেশি ভীড় দেখতে পাবেন জিরাফ এর খাচার দিকে। আমি যতবারই চিড়িয়াখানায় গিয়েছি, ততবারই এই বিষয়টা লক্ষ্য করেছি।
বাঘ এবং সিংহের খাঁচা: বাঘ এবং সিংহের খাঁচা রয়েছে চিড়িয়াখানার একেবারে শেষের দিকে। আপনি সাপ এর সাথে দেখা করে একটু সামনে এগিয়ে দেখতে পাবেন বেশ বড় হরিন এর খাঁচা। হরিণ এর খাচার পাশদিয়ে বা দিকে গেলেই দেখতে পাবেন বিশাল এর ঝিল। তার ডান পাশেই বাঘ এবং সিংহের খাঁচা। এরপর আবারো হরিনের খাঁচা। আপনি ঠিকমত সবগুলো খাঁচায় ঘুরলে আপনার প্রায় ১ দিন সময় লেগে যাবে। হরিণ এর খাঁচার পাশেই ছোট ছোট টুল রয়েছে। ক্লান্ত বোধ করলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারেন।
প্রাণী জাদুঘর : চিড়িয়াখানা এর ভিতরেই রয়েছে প্রাণী জাদুঘর। এখানে আপনি ঘোড়ার ডিম থেকে শুরু করে হাজার বছর পুরনো কচ্ছপ দেখতে পাবেন। এছাড়াও নানা প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রানি রয়েছে এই প্রাণী জাদুঘরে। প্রাণী জাদুঘর এ ঢুকার জন্য আপনাকে আলাদা করে টিকিট নিতে হবে। প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে বানরের খাঁচা। ছোট-বড় অসংখ্য বানরের বাঁদরামি দেখতে দেখতে কখন যে সময় পার হয়ে যায় তা টেরই পাওয়া যায়না। সামনে এগুলেই হাতের বামে পড়বে বিশালাকায় এভিয়ারি। লম্বা পা আর বাঁকানো ঠোঁটের ফ্লেমিংগোর দেখা মেলে এখানেই। আরো রয়েছে কানিবক, পানকৌড়ি ও মাছরাঙার মত পাখি। বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের (রয়েল শব্দটি বৃটিশদের দেয়া) আগেই দেখা মিলবে ভারতীয় সিংহের সাথে। সিংহের খাঁচা পেরোলেই বাঘ ও ভালুকের খাঁচা। রয়েছে চিতার (Cheeta) মত দ্রুতগতিসম্পন্ন প্রাণি। এ তো গেল সুনিবিড় ছায়াঘেরা এ ঢাকা চিড়িয়াখানার আয়তন প্রায় ৭৫ হেক্টর। যার মধ্যে ১৩ হেক্টরের দুটি লেক আছে। চিড়িয়াখানা তথ্যকেন্দ্র হতে প্রাপ্ত তথ্য হতে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা চিড়িয়াখানায় ১৯১ প্রজাতির ২১৫০টি প্রাণী রয়েছে। জনসাধারণের বিনোদন, দূর্লভ, বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণি সংগ্রহ ও প্রজনন, প্রাণি বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, শিক্ষা, গবেষণা এবং এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধি ঢাকা চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য। বেঙ্গল টাইগারই ঢাকা চিড়িয়াখানার প্রধান আকর্ষণ। চিড়িয়াখানায় নানা রকম দেশী বিদেশী জীব-জানোয়ার ছাড়াও রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির পাখি। রয়েছে আধাপ্রাকৃতিক লেক, লেকের উপর বিশালকায় পেলিক্যান পাখি। তার পাশে দেখা যায় প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঙ্গল টাইগার ও সিংহ। হরেকরকম পাখির মধ্যে রয়েছে ফ্লেমিংগো, রঙিন ফিজ্যাণ্ট, বিলুপ্তপ্রায় কুড়া, কাল শকুন এবং শঙ্খ চিল। উত্তরে রয়েছে উত্তর লেক, তার পাশেই প্রাকৃতিক পরিবেশে রাখা সুন্দরবনের বাঘ, পাশে সিংহ। কৃত্রিম জলাশয়ে রয়েছে জলহস্তি। চিড়িয়াখানার উত্তর-দক্ষিণে লম্বাটে এলাকাজুড়ে রয়েছে ঘোড়া আকৃতির ওয়াটার বাক্ , জেব্রা সহ আরো কিছু প্রাণি। রয়েছে এদেশ থেকে বিলুপ্ত নীলগাই। প্রাণি জাদুঘরে আছে ২৪০ প্রজাতির স্টাফিং করা জীব-জন্তু-পাখি। একেবারে দক্ষিণে আছে দক্ষিণ লেক, তার মাঝে বাবলা দ্বীপ। পাশেই কেনিয়ার এক শিংওয়ালা গন্ডার। সঙ্গী হারিয়ে এখন সে বড় নিঃসঙ্গ। বাবলা দ্বীপের উন্মাতাল হাওয়া তার মনে বিন্দুমাত্র দোলা দেয়না। শিম্পাঞ্জীর দেখা মিলবে এখানেই। নারী শিশু সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই শিম্পাঞ্জী। শক্ত গ্রীল ধরে লাফালাফি আর সঙ্গীর মাথার উকুন বেছেই কাটছে সময়। চিড়িয়াখানায় আছে হাঁসজাতীয় নানা পাখি, লাভ বার্ড, মুনিয়া, উটপাখি, কেশোয়ারী ইত্যাদি। বের হওয়ার পথে দেখা যায় সুন্দরবনের প্রকৃতিক পরিবেশে চিত্রল হরিণ। যেসব প্রাণী রয়েছে: মিরপুর চিড়িয়াখানাতে সর্বমোট ২০০০টি প্রাণী রয়েছে। প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় সিংহ, চিতা বাঘ, কালো ভাল্লুক, ভারতীয় সিংহ, হাতি, ঘোড়া, গরু, জলহস্তি, গন্ডার, হরিণ, বনরুই, ভাল্লুক, বানর, সিম্পাঞ্জি, জিরাফ, জেব্রা, মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, রেসাস বানর, উল্লুক, অজগর, কুমির, সজারু, লোনা পানির কুমির, সংকনী সাপ, গোখরা সাপ, সবুজ কেড়া সাপ, সবুজ কচ্ছপ, মদন টাক, ময়না, টিয়া, বক, ময়ূর, চিল, শকুন, শালিক, টিয়া, এমু পাখি, উটপাখি, কানি বক, গো-বক, সাদা ময়ূর, ফ্লামিংগো, কাও ধনেশ, গোল্ড ফিস, চিতল ফিস, ফালি ফিস, তিমির কঙ্কাল, ডলফিন এবং সৌল ফিস অন্যতম। এছাড়া চিড়িয়াখানার ভিতরে অতিথি পাখি ও মাছের জন্য ২টি লেক রয়েছে।
খোলা-বন্ধের সময়সূচী: গ্রীষ্মকালীন ১লা এপ্রিল থেকে ৩০ শে সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। শীতকালীন ১লা অক্টোবর থেকে ৩১ শে মার্চ সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা। সাপ্তাহিক বন্ধ: ঢাকা চিড়িয়াখানা প্রতি রোববার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে।
টিকেট মূল্য : এখানে প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা। প্রবেশ দ্বারে মোট ৪টি কাউন্টার রয়েছে। এছাড়া প্রাণী যাদুঘরে প্রবেশ ফি প্রতিজন ২ টাকা, হাতি প্রমোদ আরোহন ৫ টাকা, ঘোড়া প্রমোদ আরোহন ৩ টাকা। চিড়িয়াখানা কর্তৃকপক্ষ বরাবর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আবেদন করলে শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরে ৫০% থেকে ১০০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। এতিম ও মানসিক, শারিরীক প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০০% পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়। ২ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের প্রবেশের ক্ষেত্রে টিকেট সংগ্রহ করতে হয় না। পিকনিক স্পট: উৎসব ও নিরিবিলি পিকনিক স্পট সারাদিন ব্যবহারের জন্য যথাক্রমে ২,০০০ টাকা ও ১,০০০ টাকা চার্জ দিতে হয়। দর্শনার্থী করণীয়: প্রাণীদের প্রতি দয়াশীল হতে হয়। চিড়িয়াখানার কর্মচারীদের প্রতি সহযোগিতামূলক আচরণ করতে হয়। সূর্যাস্তের পূর্বে চিড়িয়াখানা ত্যাগ করতে হয়। সঙ্গে আসা বাচ্চাদের নজরে রাখতে হয়। চিড়িয়াখানার প্রাণীদের কাছ থেকে বাচ্চাদের নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে হয়। প্রাণীদের খাঁচায় বা ঘরে হাত বা কাপড় দিতে হয় না। চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার দিতে হয় না।
দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: চিড়িয়াখানাতে দর্শনার্থীদের পশুপাখী দর্শন ছাড়াও নিঝুম ও উৎসব নামে ২টি পিকনিক স্পট, শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের ১টি শিশুপার্ক, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে একটি কেন্দ্রীয় মসজিদও রয়েছে।
টয়লেট ব্যবস্থা: প্রধান ফটকের ভেতরে নারীর জন্য ৭টি এবং পুরুষের জন্য ৫টি টয়লেট রয়েছে। টয়লেট ব্যবহারে খরচ পড়ে জনপ্রতি ৫ টাকা। এছাড়া প্রাণী যাদুঘরের পাশে নারীর জন্য ৩টি, পুরুষের জন্য ৫টি, হাতি বা শিশু পার্কের পাশে নারীর জন্য ৮টি, পুরুষের জন্য ৮টি টয়লেট রয়েছে।
গাড়ি পার্কিং : প্রধান ফটকের সামনে প্রায় ৭০-৮০টি গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে মটর সাইকেল ১০ টাকা, রিক্সা ৫ টাকা, মটর কার ১৬০ টাকা, মিনি বাস ১৬০ টাকা, চেয়ার কোচ ২৫০-৪০০ টাকা, এবং ভলবো বাস ৩৫০-৬০০ টাকা।
নিরাপত্তা : এখানে নিরাপত্তার জন্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিরাপত্তা কর্মী ছাড়াও পুলিশ ও র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা কিভাবে যাবেন: ঢাকা শহরের যেকোন জায়গা মিরপুর ১ নং সনি সিনেমা হল গোল চত্ত্বর থেকে যে রাস্তাটি উত্তর দিকে গিয়েছে সেটি সরাসরি চিড়িয়াখানার দিকে গিয়েছে। সনি সিনেমা হল থেকে রিক্সা বা বাস যোগে চিড়িয়াখানায় যাওয়া যায়। ভাড়া ২০/২৫ টাকা। যোগাযোগ-ফোন: ০২- ৯০০২০২০
কিউরেটর অফিস: ৮০৩৫০৩৫, ৯০০২০২০, ৯০০২৭৩৮, জু হাসপাতাল: ০২-৯০০৩২৫২, ফ্যাক্স: ০২-৮০৩৫০৩৫, ই-মেইল: info@dhakazoo.org, ওয়েব: www.dhakazoo.org

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ