ঢাকা, সোমবার 22 July 2019, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই

গতকাল রোববার নয়া পল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের কাযর্কর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আপনারা সবসময় দেখবেন উন্নয়ন কিংবা পদক্ষেপ এসব ক্ষমতাসীনদের ঠোঁটের মধ্যে এটা আটকিয়ে থাকে কিন্তু বাস্তবে এর কোনো পদক্ষেপ কেউ কখনো দেখেনি। আজকে যানজটে, রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থায় আপনি বলুন কোন দিক দিয়ে মানুষের স্বস্তি আছে ? কোথাও স্বস্তি নাই।
রিজভী বলেন, আর এই মরণঘাতি ডেঙ্গু জ্বর- এটা আওয়ামী লীগই আমদানি করেছে ১৯৯৭ সালে, তখন থেকে এই এডিস মশা ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। এটার জন্য যে ব্যাপক ড্রাইভ স্বাস্থ্য দফতর, জনস্বাস্থ্য অধিদফর- এদের কোনো কর্মকান্ড নাই।
মহানগরগুলো ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, সিটি করপোরেশনগুলো কী করছে। ওই যে বললাম, ওদের শুধু ঠোঁটের মধ্যে, ওদের কথার মধ্যে উদ্যোগের কথা দেখবেন। কিন্তু কোথাও কোনো কিছু ইয়ে হচ্ছে না। এটার জন্য পর্যাপ্ত যে প্রতিরোধ করা- এটার যে এন্টি ডগ দরকার মানুষকে বাঁচানোর জন্য কোনো কিছু নাই। মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
রিজভী বলেন, এই জন্য এই গণবিরোধী সরকারই দায়ী। কারণ গণ বিরোধী সরকারের জনগনের প্রতি কোনো দায়িত্ব থাকে না। তাদের একমাত্র দায়িত্ব হচ্ছে কিভাবে জনগনের টাকা কিভাবে নিজেদের পকেটে ভরা যায় সেই দায়িত্বটা তারা সুচারুভাবে পালন করছে। জনগনের স্বাস্থ্য, জনগনের অসুস্থতা, জনগনের সার্বিকভাবে কল্যাণ সেটা তো চায় না। দেশকে বিরাণভুমিতে পরিণত করে তার ওপর রাজত্ব করাই হচ্ছে এই সরকারের স্বপ্ন, সেটা বাস্তবায়ন করছেন তারা।
দুদক চেয়ারম্যানের বক্তব্য অপশাসনেরই বিপদজনক বার্তা মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে যখন দুর্নীতির মহামারি চলছে তখন সরকারের রাঘব-বোয়ালদের দুর্নীতির ইনডেমনিটি প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি করতে উতসাহ দিয়ে বলেছেন, সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি করলে অপরাধ হবে না। আমরা মনে করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিজেই যদি ‘সরল দুর্নীতির’ অভিনব বাণী জনগণকে শোনান, তাহলে দুর্নীতির জোয়ারে দেশ তো ভেসে যাবেই। এখন থেকে ‘সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি’র সাফল্যের মৌতাতে বুঁদ হয়ে থাকবে সরকারী কর্মকর্তারা।পক্ষপাতদুষ্টতার গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত দুদক চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যটি অপশাসনেরই একটি বিপজ্জনক বার্তা।
দুর্নীতির ব্যাপকতা ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন তুলে ধরে তিনি বলেন, খোদ দুদক কর্মকর্তাদেরই যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার প্রমান বেরিয়েছে তখন সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির পক্ষে দুদক প্রধানের সাফাই গাওয়া ছাড়া তো আর অন্যকোন বিকল্প থাকে না। চারদিকে যখন দুর্নীতিবাজদের উল্লাস, যখন শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি চলছে অবাধে তখন দুর্নীতিই যে এই দুর্নীতিবাজ সরকারের ভুষণ, দুদক চেয়ারম্যানের কথায় সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমানিত হয়েছে।
ভোটারবিহীন আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতিকে পুরোমাত্রায় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করে ফেলেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সামাজিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে সরকারের ‘টপ টু বটম’ ব্যস্ত লুটপাট-ঘুষ-দুর্নীতিতে। চারদিকে চলছে দূর্নীতির উৎসবের আতশবাজী। সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে দেশ। আইনের শাসন ও সুশাসন এখন ইতিহাসের পান্ডুলিপিতে অবস্থান করছে। দুর্নীতির বিরূপ প্রভাবে অগ্রগতি থমকে গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আপাতভাবে আইনের শাসনের অভাব, সুশাসনের অভাব, জবাবদিহিতার অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দুর্নীতি ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। নির্বিঘেœ নিরাপদে প্রশাসনের সহায়তায় রাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের কন্ঠস্বর, গণমানুষের প্রাণপ্রিয় আপোষহীন নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ফরমায়েশী মিথ্যা প্রতিহিংসার মামলায় কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দেড় বছর। অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর জিঘাংসার শিকার বেগম খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনাই জামিনে বাধা দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়ার। তাকে বন্দী রেখে লুন্ঠন-দু:শাসনে দেশকে রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে জনধিকৃত সরকার।
রিজভী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে দুর্নীতির রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক নজরদারী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ দুর্নীতি ধারণা সূচক-২০১৮ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রতি বছর দুর্নীতির মাত্রা বাড়ছে বাংলাদেশে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে ২০১৭-এর তুলনায় বেশী। ২০১৮ সালে ওই সূচক অনুযায়ী সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম-যা ২০১৭ সালে ছিল ১৭তম স্থানে। অপরাধ বিজ্ঞান বলছে, অপরাধীরা অপরাধ করে বটে কিন্তু মনের অজান্তেই একটি প্রমান রেখে যায়। অপরাধের তেমনি একটি চিহ্ন রেখে দিলেন দুদক চেয়ারম্যান। খোদ দুদক কর্মকর্তাদেরই যখন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার প্রমান বেরিয়েছে তখন সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির পক্ষে দুদক প্রধানের সাফাই গাওয়া ছাড়া তো আর অন্যকোন বিকল্প থাকে না। চারদিকে যখন দুর্নীতিবাজদের উল্লাস, যখন শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি চলছে অবাধে তখন দুর্নীতিই যে এই দুর্নীতিবাজ সরকারের ভুষণ, দুদক চেয়ারম্যানের কথায় সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমানিত হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান গতকাল নিজেই স্বীকার করেছেন, মন্ত্রী-এমপিসহ রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তারা ৭০ ভাগ দুর্নীতির মামলা দিচ্ছেন পুঁটিমাছের বিরুদ্ধে। মুলত: দুর্নীতি দমনের নামে মুখোশপরা এই দুদক বিরোধী দল দমনে নিষ্ঠুর প্রতিশোধের খেলায় ব্যস্ত।
রিজভী বলেন, জনপ্রশানের কর্মকর্তারা দুর্নীতিকে এখন আর দুর্নীতি মনে করছেন না। এ কারণেই দেখা যায়, দেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু ওই নির্বাচনটি ‘সরল বিশ্বাসী’ প্রশাসনের ‘সরল’ কর্মকর্তারা ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত মধ্যরাতেই সেরে দিয়ে দেশের ভোটারদের পরিণত করেছেন ‘সাব-হিউম্যানে’। এই ঘোরতর অন্যায় ও পাপের জন্য তাদের কোনো গ্লানি নেই। প্রশাসনের এই সরল বিশ্বাসী কর্মকর্তাদের কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন চলছে চরম নৈরাজ্য। ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণ ছিলো ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ১০ বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। সরকারি কর্মকর্তাদের ‘সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি’-র কারণে গত এক দশকে এই সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচার হয়েছে ছয় লক্ষ কোটি টাকার বেশি। তিনি বলন, সরকারি কর্মকর্তাদের সরল বিশ্বাসে দুর্নীতির কারণে নীচতলা থেকে দোতালায় একেকটি বালিশ তোলার খরচ পড়েছে সাড়ে সাতশো টাকা। সরকারি কর্মকর্তাদের সরল বিশ্বাসে দুর্নীতির কারণে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা পাচার হয়ে গেলেও কারো কোনো বিকার নেই।
দেশের উত্তরাঞ্চল-মধ্যাঞ্চলে এখন বন্যায় সর্বস্বহারা মানুষের হাহাকার চলছে মন্তব্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নতুন করে আরো পাঁচটি জেলায় পানি প্রবেশ করেছে। শুকনো আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে ছুটছে বানভাসি মানুষ। কোথাও ত্রাণের গাড়ি কিংবা নৌকার সংবাদ শুনলেই ছুটে যাচ্ছে তারা। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে চারদিনে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ছোট ছোট নৌকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে চলছে অনেকের। ত্রানের অভাবে যখন করুণ অবস্থা তখন সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ঢাকায় বসে গলাবাজি করছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ পৌঁছেনি এখনো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা আমরা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা প্রমান করে জনগণের প্রতি তাদের ন্যুনতম কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তারা জনবিদ্বেষী। সরকারের দায়িত্ব বন্যা কবলিত মানুষকে রক্ষা করা। যেটা সরকার করছে না। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ