ঢাকা, সোমবার 22 July 2019, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৮ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আসামীদের খালাস চেয়ে আপিল

স্টাফ রিপোর্টার: শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলীবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হয়েছে। আপিলে মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীসহ সব আসামীর খালাস চাওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করা হয় বলে নিশ্চিত করেন আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এর আগে ১৪ জুলাই এই মামলার রায়ের ডেথ রেফারেন্সের সব তথ্য হাইকোর্টে পৌঁছায়। পাবনার দায়রা আদালত থেকে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্স শাখায় এ সংক্রান্ত নথি এসে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মো. সাইফুর রহমান।
তিনি বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের নথি আমরা হাতে পেয়েছি। পরে তা ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলী ও বোমা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় নয়জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক কে এম আখতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু (পলাতক), কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মোকলেসুর রহমান ওরফে বাবলু, তার ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, অপর ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান ওরফে পলাশ, বিএনপি নেতা মো. অটল, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি শ্যামল (নূরে মোস্তফা), স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে শাহীন ও বিএনপির সাবেক নেতা শামসুল আলম।
এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হন ২৫ জন। ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয় ১৩ জনকে। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রুস্তম আলী গত ৩ জুলাই এ রায় দেন। একইসঙ্গে, মামলার সব কার্যক্রম ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে প্রেরণের নির্দেশ দেন বিচারক।
ওই আইনের ৩৭৪ ধারায় বলা হয়েছে, দায়রা আদালত যখন মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন, তখন হাইকোর্ট বিভাগের কাছে কার্যক্রম পেশ করতে হবে এবং হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর হবে না।
আইনজ্ঞরা জানান, এতে মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়, কেস ডকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ সব নথি সংযুক্ত থাকে। ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করে থাকেন। এরপর মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করার পর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর একসঙ্গে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ