ঢাকা, মঙ্গলবার 23 July 2019, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রশ্ন সরকারের ‘ইউটার্ন’ নীতি অবলম্বন

স্টাফ রিপোর্টার : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ওরফে প্রিয়া বালা বিশ্বাসের বক্তব্যে ক্ষমতাসীন আ’লীগ বিব্রত ও ক্ষুব্ধ হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করেছে সরকার। রোববার প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন আত্মপক্ষ সমর্থনের আগে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়ায় না যেতে। এই ঘোষণার পরপরই প্রিয়া সাহা দীর্ঘ আধঘন্টারও বেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি খুবই স্বাভাবিকভাবে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি যে তথ্য দিয়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন সেটি ঠিকই আছে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অবুল বারাকাত ও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য এবং  তথ্য থেকেই তিনি এসব বলেছেন। আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে এই কথাগুলো কেন বলেছেন? যেটা নিয়ে আপনি শোরগোল করছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, আসলে এই কথাগুলো আমার কথা নয়। প্রথমে তো এই কথাগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে নির্বাচন উত্তর চরম নির্যাতন চলছিল ৯৪ দিন ধরে। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজকের প্রধানমন্ত্রী, তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী তিনি সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন। সমস্ত জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তার অনুসরণে বলেছি এবং যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে, যে কোনো জায়গায় বলা যায়। এটা আমি তার কাছে শিখেছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। তিনি আরও বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।’
সূত্র মতে, ঘটনা প্রকাশের দিন সরকারের মন্ত্রীসহ সিনিয়র নেতারা কঠোর বক্তব্য দিলেও গত কয়েকদিনে তারা অনেকটা ইউটার্ণ নিয়েছেন। অনেকেই নমনীয় সুরে কথা বলেছেন। অনেকেই বলেছেন, এটি তেমন কোনো বড় ঘটনা নয়। এমনকি তার বক্তব্য ঠিক আছে বলেও মত দিয়েছেন সাবেক মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা। খোদ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বক্তব্যকালে ধীরস্থির থেকে বলেছেন, প্রিয়া সাহা দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন। তার কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে কী কারণে এমন কথা বলেছেন তার জবাব চাওয়া হবে। সে কারো ইন্ধনে এসব বলেছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।
জানা গেছে, প্রিয়া সাহা কে, তার পৈতৃক ও বৈবাহিক সূত্রে নাম-পরিচয়, তার এনজিও, স্বামীর চাকরি, সন্তান কে কোথায় রয়েছেন, সম্প্রতি আমেরিকা সফরের আগে-পরে কাদের সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে সে সব খতিয়ে দেখছে পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। বিশেষ করে এমন দেশদ্রোহী বক্তব্যের নেপথ্যে আমেরিকা ও বাংলাদেশে অবস্থানকারী প্রভাবশালী কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তির ইন্ধন রয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকায় পাড়ি জমানো সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কোনো ধরনের ইন্ধন রয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সচিবালয়ে একাধিক মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
কে এই প্রিয়া সাহা:  প্রিয়া বালা বিশ্বাসের বাবার নাম নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। পিরোজপুর জেলার নাজির উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের চরবানিয়া গ্রামে তার বাবার বাড়ি। বৈবাহিক সূত্রে তিনি যশোরের বাসিন্দা। তিনি বাবার বাড়ি চরবানিয়া গ্রামে বসবাস করেন না। এ গ্রামে তার নিজস্ব কোনো বাড়িঘর বা সম্পদও নেই। গ্রামে তার বাবার (নগেন্দ্র নাথের) পৈতৃক সম্পত্তি ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে। ভাই যগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বাড়িতে কেউ থাকেন না। তাদের একটি পরিত্যক্ত ঘরে গত ২ মার্চ রাতে আগুন লাগে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যগদীশ বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় ৩ মার্চ মামলা করেন। মামলায় কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামী করা হয়। এজাহারে কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার বা কোনো মৌলবাদী গোষ্ঠী বা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। ওই এলাকায় নদীতে জেগে ওঠা চরের মালিকানা নিয়ে বহু বছর ধরে মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে। সম্প্রতি কমলেশ বিশ্বাস চরের জমি-সংক্রান্ত একটি মারামারির ঘটনায় হিন্দু ও মুসলমানসহ এলাকার কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
রাজধানীসহ সারাদেশে প্রিয়া বালার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। গ্রামের টংঘরের চা দোকান থেকে সচিবালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে একটাই কথা প্রিয়া বালা কি নিজে থেকেই এত বড় ডাহা মিথ্যা কথা বলেছেন নাকি কারও ইন্ধনে এমন কথা বলেছেন। সবাই বলছেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এমন গুরুতর অভিযোগ কেউ কখনও করেননি। প্রিয়া বালা বিশ্বাসের স্বামী দুদকের একজন কর্মকর্তা। তিনি কেন এমন কথা বললেন তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত ও জানতে আগ্রহী। সরকারের প্রতি রুষ্ট কিংবা সরকারের ক্ষতি চায় এমন প্রভাবশালী কারও মদদে প্রিয়া বালা এমন অভিযোগ করেছেন কিনা-তা নিয়ে নানা কথাবার্তা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সচিবের মুখে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম এসেছে।
জানা গেছে, প্রিয়া বালার দুই মেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশুনা করছেন। প্রিয়া বালা একটি এনজিও চালান। সম্প্রতি একটি পত্রিকার ডিক্লারেশনও নিয়েছেন। তার স্বামী দুদকের একজন কর্মকর্তা। এ দু’জনের আয়ে দুই মেয়েকে আমেরিকায় রেখে পড়াশুনা সম্ভব কিনা, তারা কতদিন যাবত পড়াশুনা করছেন, কত টাকা খরচ হচ্ছে এ টাকার উৎস কী ইত্যাদি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
সূত্র মতে, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন নি প্রিয়া সাহা। রোববার সমালোচনার জবাবে প্রতিক্রিয়ায় প্রিয়া সাহা বলেন, ২০০১ সালে তখনকার যে সা¤প্রদায়িক সরকার সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের ওপর যে চরম নির্যাতন চালিয়েছিল এবং আওয়ামী লীগের ওপরে। তার বিরুদ্ধে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারা পৃথিবীতে কীভাবে সংগ্রাম করেছেন। সেটা আপনারা সবাই অবগত আছেন। আসলে বিষয়গুলো আপনারা নিজেরাও জানেন। বাংলাদেশের যে পরিসংখ্যান বই রয়েছে, ২০০১ সালের পরিসংখ্যান বইয়ের যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুর চ্যাপ্টার রয়েছে সেখানে এ বিষয়গুলো লেখা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর সরকার যে সেন্সাস রিপোর্ট বের করে, সেই সেন্সাস রিপোর্ট অনুসারে দেশভাগের সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল ২৯.৭ ভাগ। আর এখনকার সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের জনসংখ্যা হলো ৯.০৭ ভাগ। এখন দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৮০ মিলিয়নের মতো। সে ক্ষেত্রে জনসংখ্যা যদি একই হারে বৃদ্ধি পেত তাহলে অবশ্যই যে জনসংখ্যা আছে সেই জনসংখ্যা অর্থাৎ ক্রমাগতভাবে যা হারিয়ে গেছে। সেই জনসংখ্যার সঙ্গে আমার তথ্যটা মিলে যায়।
প্রিয়া সাহা আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারকাত তিনি কিন্তু পরিসংখ্যান বইয়ের ওপর ভিত্তি করে অর্থাৎ সরকারের প্রকাশিত বইয়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে উনি গবেষণা করেছেন এবং সেই গবেষণায় উনি দেখিয়েছেন প্রতিদিন বাংলাদেশে থেকে ৬৩২ জন লোক হারিয়ে যাচ্ছে। এবং কি পরিমাণে ক্রমাগতভাবে লোক হ্রাস পেয়েছে। এবং পরিসংখ্যান বইয়ে আমি ২০১১ সালে স্যারের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছিলাম যার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত। এটা কি আপনার প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া, নাকি আগেও গিয়েছেন? উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, আমি বহুবার যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্কলারশিপে আইবিএলতে প্রশিক্ষণে এসেছিলাম ২০১৪ সালে ওম্যান লিডারশিপ প্রোগ্রামে। আমি আমেরিকান সরকারের আইবিএলতে ইন্টারন্যাশনাল ভলেন্টিয়ার যে লিডারশিপ প্রোগ্রাম, যে প্রোগ্রামে বাংলাদেশের স্পিকার, বঙ্গবন্ধুর প্রাণপ্রিয় নেতা সবাই এসেছিলেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে আলোচিত প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিকৃত করেছেন প্রিয়া সাহা। সোমবার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি হিসাবে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান তিনি। বিবৃতিতে আবুল বারকাত বলেন, প্রিয়া সাহা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পত্র-পত্রিকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেশত্যাগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমার নাম উল্লেখপূর্বক কিছু তথ্য-উপাত্ত বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, আমার গবেষণায় যা আছে তা হলো- আমার হিসেবে প্রায় পাঁচ দশকে (১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত) আনুমানিক ১ কোটি ১৩ লক্ষ হিন্দুধর্মাবলম্বী মানুষ নিরুদ্দিষ্ট হয়েছেন (উৎস: আবুল বারকাত, ২০১৬, বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি, পৃ:৭১)। অর্থাৎ আমি কোথাও ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন-এ কথা বলিনি। উপরন্তু তিনি কোথাও বললেন না যে, আমার গবেষণা তথ্যটির সময়কাল ৫০ বছর(১৯৬৪-২০১৩)। আবুল বারকাত বিবৃতিতে আরও বলেন, প্রিয়া সাহা কখনও আমার সহ-গবেষক, গবেষণা সহযোগী অথবা গবেষণা সহকারী ছিলেন না। আমি২০১১ সালে সরকারি আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে ১৯০১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট জনসংখ্যায় বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠীর আনুপাতিক হার উল্লেখ করেছি মাত্র। বারকাত আরও বলেন, একজন সমাজ গবেষক হিসেবে আমি নিশ্চিত হতে চাই যে, প্রিয়া সাহা আমার নাম উল্লেখপূর্বক যেসব বিভ্রান্তিমূলক ও নীতি গর্হিত বক্তব্য দিয়েছেন তিনি অতি দ্রুত তা প্রত্যাহার করবেন।
প্রিয়া সাহার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে গণপূর্ত ও গৃহায়ণমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম জানান, প্রিয়া বালা সাহা তার নির্বাচনী এলাকার হলেও তার সেখানে কোনো ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি নেই। তিনি বলেন, ওই এলাকায় হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিরাজ করছে।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তার দফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রচলিত আইন অনুসারে স্বামীর অপরাধে স্ত্রী বা স্ত্রীর অপরাধে স্বামী অভিযুক্ত হন না। কিন্তু দেশবিরোধী কথাবার্তা কেউ বললে সে সম্পর্কে স্বামী বা স্ত্রীকে প্রশ্নের মুখোমুখি স্বাভাবিকভাবেই হতে হয়। প্রিয়া বালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ভিসা নিয়ে সে দেশে গেছেন, নিশ্চয় তিনি ফিরে আসবেন এবং সব প্রশ্নের জবাব দেবেন।
বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তা বানোয়াট কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত হিসেবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ তড়িঘড়ি করে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন, লিগ্যাল প্রসিডিউর (আইনগত কোনো ব্যবস্থা) নয়। যে কারণে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তিনি দেশের বাইরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে কেন ও কী উদ্দেশ্যে ওই বক্তব্য দিয়েছেন তা তিনি দেশে ফিরলে জানতে চাওয়া হবে।  তড়িঘড়ি করে কোনো লিগ্যাল অ্যাকশন নয়।
কাজল দেবনাথ: বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের শীর্ষ নেতা কাজল দেবনাথ ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেছেন যে, প্রিয়া সাহা কিভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গিয়েছেন তা তার সংগঠন জানে না। যদিও সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা। প্রিয়া সাহা হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ‘নাই’ (ডিসঅ্যাপিয়ার্ড) হয়ে গেছে। এখনো সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু মানুষ থাকে। আমি আমার বাড়ি হারিয়েছি। তারা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার জমি ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু কোনও বিচার হয়নি।’
প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বাংলাদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।  সরকারের মন্ত্রীরাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাকে ‘দেশদ্রোহী’ অভিহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
কাজল দেবনাথ অবশ্য প্রিয়া সাহা যে সংখ্যার কথা বলেছেন তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, প্রিয়া বলেছেন ৩৭ মিলিয়ন ডিসঅ্যাপিয়ার্ড। ডিসঅ্যাপিয়ার্ড শব্দটির এখন সারা বিশ্বে বাংলা অর্থ বিচার বহির্ভূত গুম। এটা হবে মিসিং পপুলেশন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে যদি আমরা হিসাব করি তাহলে এই ভূখ- থেকে ৩৭ মিলিয়ন মানুষ হারিয়ে গেছে। এটা কিন্তু অংকের কাছাকাছি। কারণ ওই সময়ে হিন্দু ছিলো মোট জনসংখ্যার ২৯ ভাগ। ২০১১ সালের সর্বশেষ আদমশুমারিতে তা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ৭ ভাগ। তাহলে ২০ ভাগ হিন্দু জনগোষ্ঠী মিসিং। আবার সে বলেছে এখন ১৮ মিলিয়ন হিন্দু আছে। এটাও কাছাকাছি। আমরা বলি ১ কোটি ৫০ লাখ, সে বলেছে ১ কোটি ৮০ লাখ। ১৯৪৭ সাল থেকে না বলায় বিভ্রান্তি হয়েছে।
বাড়ি পোড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে বলেছে আমরা বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এটা ফ্যাক্ট। আড়াই মাস আগে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। জমিজমা কেড়ে নিয়েছে। সে এটা নিয়ে হইচই করেছে। অনেকের কাছে গিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের ওই অনুষ্ঠানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে তিনজনের নাম চেয়েছিল। আমার হিন্দু , বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান এই তিন সম্প্রদায় থেকে তিন জনের নাম দিই। তারা হলেন: নির্মল রোজরিও, নির্মল চ্যাটার্জি এবং সুজিত বড়ুয়। এখন প্রিয়া সাহা কি করে গেলেন সেটা আমরা জানিনা। সে আমাদের সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক, তবে আমাদের নমিনেটেড না।
কাজল দেবনাথ বলেন, এরপর কথা হলো ১৩৪টি দেশের প্রতিনিধি ছিলেন। ৪০ জন ফরেন মিনিস্টার ছিলেন। আমাদের ফরেন মিনিস্টারও ছিলেন। তিনি আমাদের দলনেতা। তাদের সাথে না থেকে প্রিয়া সাহা কিভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ২৭ জনের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেছেন সেখানে ঢুকলেন এটা বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৭ জনের সাথে একান্তে কথা বলেছেন। সেই ফুটেজ কিভাবে বাইরে এলো? এটা ট্রাম্পের অফিস যদি করে থাকে তাহলে তার একটা চেইন আছে। সেই চেইনে বাংলাদেশ কেন নেই।
সজীব ওয়াজেদ জয়: এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস প্রিয়া সাহাকে বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। রোববার দুপুরে দেড়টার দিকে জয় তার ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে এ অভিযোগ করেন।
সজিব ওয়াজেদ জয় তার স্ট্যাটাসে বলেন, গত নির্বাচনের পর আমি একটু বিরতি নেই, তাই এই পেজেও কম পোস্ট করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার কিছু বলা উচিত বলে মনে হলো। আপনারা হয়তো দেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার ভয়ংকর ও মিথ্যা দাবি। উনি বলেছেন বাংলাদেশ থেকে নাকি ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ‘গায়েব’ বা ‘গুম’ হয়ে গেছেন। প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি যে সংখ্যাটি উনি বলছেন তা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যার ১০ গুণেরও বেশি, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের সংখ্যার কাছাকাছি। এতো মানুষ গুম হলো সবার অজান্তে? ৩ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ গায়েব হলো কোনো তথ্য প্রমান ছাড়াই?
প্রিয়া সাহাকে আমেরিকায় পাঠানো হয় বাংলাদেশে মার্কিন দূতাবাসের মনোনয়নে। অনেক সমালোচনার পর আজ তারা একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন তারা অংশগ্রহণকারীদের কথাবার্তার উপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেন না। কিন্তু যখন তাদের একজন মনোনীত অংশগ্রহণকারী তাদেরই রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে কোনো ভয়ংকর মিথ্যা বক্তব্য দিলেন, তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো, যা তারা করেননি।  এই বিষয়টি থেকে কিন্তু মার্কিন দূতাবাসেরই দুরভিসন্ধি প্রকাশ পায়। তারা জেনেশুনেই প্রিয়া সাহাকে বাছাই করে কারণ তারা জানতো উনি এই ধরণের ভয়ংকর মিথ্যা মন্তব্য করবেন। এই ধরণের কাজের পিছে একটাই কারণ চিন্তা করা যায়: মানবিকতার দোহাই দিয়ে আমাদের এই অঞ্চলে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা। মনে রাখা ভালো কয়েকদিন আগেই মার্কিন এক কংগ্রেসম্যান একটি বক্তব্যে বলেছিলেন বাংলাদেশের মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য দখল করা উচিত।
মার্কিন দূতাবাস যে আওয়ামী লীগ বিরোধী তা নতুন কিছু নয়। তাদের সকল অনুষ্ঠানেই জামাত নেতাকর্মীরা ও যুদ্ধাপরাধীরা নিয়মিত আমন্ত্রিত হতেন। প্রিয়া সাহার মিথ্যা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাদের সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের ষড়যন্ত্র পরিষ্কারভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সৌভাগ্যবশত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সরকার অন্যান্য দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নীতিতে বিশ্বাসী নন। তারা এই ধরণের ভয়ংকর মিথ্যা দাবি বিশ্বাস করার মতন বোকাও নন।
জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভিযোগ করেছেন তার সঙ্গে আমরা একমত নই। তিনি বলেন, এমন অভিযোগে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগের আগে অবশ্যই বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখা উচিত ছিল। বাংলাদেশে শত বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেন অটুট থাকে সে জন্য সকলকে সচেতন থাকতেও আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
গণপূর্তমন্ত্রী: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিযোগ দেয়া প্রিয়া সাহা ইস্যুতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার বাবার বাড়ি আমার নির্বাচনী এলাকায়। আমার এলাকায় কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক অসম্প্রীতি ঘটেনি। কোনো ধরনের ধর্মীয় নিপীড়নের ঘটনাও ঘটেনি। তাই কেউ প্রিয়া সাহার বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করবেন না। মন্ত্রী বলেন, আমার নিজের গ্রামের বাড়ি নাজিরপুর। নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আমি। আমার ইউনিয়নের চর বানিয়ারী গ্রামের প্রিয় বালা বিশ্বাসের নামক একজন ব্যক্তি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কতগুলো অভিযোগ করেছেন। প্রিয় বালা বিশ্বাসের বাবার নাম নজেন্দ্রলাল বিশ্বাস। তিনি বিবাহ সূত্রে যশোরের অধিবাসী। আমি সেই এলাকার সংসদ সদস্য এবং একই এলাকার অধিবাসী হিসেবে দেশবাসীকে অভিহিত করছি যে, প্রিয় বালা বিশ্বাসের বাসা চর বানিয়ারী গ্রামে হলেও এখানে তার নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বাড়িঘর নেই। তিনি এ গ্রামে বসবাসও করেন না। এ গ্রামে তার বাবার পৈত্রিক ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, তার ভাই জগদীস চন্দ্র বিশ্বাস একজন অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। বাড়িতে কেউ থাকেন না। একটি পরিত্যাক্ত ঘরে রাতে আগুন লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগদীস বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি এমন কী কাউকে সন্দেহ করেন এমন কোনো নামও উল্লেখ করেননি। এজাহারে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কোনো মৌলবাদিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এমন শঙ্কার কথাও বলা হয়নি। এ মামলাটি পুলিশ তদন্ত করছে।
আইনমন্ত্রী: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর ওপরে নির্যাতনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহ বলে মনে করেন না আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রোববার বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিচারকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে ট্রাম্পকে যে তথ্যগুলো প্রিয়া সাহা দিয়েছেন তা সর্বৈব মিথ্যা, বিএনপি-জামায়াতের সময় ছাড়া বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এটা তার ব্যক্তিগত ঈর্ষা চরিতার্থের জন্য করেছে। এত ছোট্ট ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে গেছে, তা মনে করি না।
আনিসুল হক বলেন, তিনি (প্রিয়া সাহা) যে তথ্যগুলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ সর্বৈব মিথ্যা এবং ইতোমধ্যে এই বক্তব্য দেওয়ার পরে শুধু হিন্দু সম্প্রদায় নয়, সকলেই বলেছেন- আমরা বাংলাদেশে সকলেই সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করছি। যদি ইতিহাসও দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে- এ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে কম ধর্মীয় বিরোধে জড়িয়েছে।
তবে বাংলাদেশ হওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় এমনটা ঘটেছিল। ধর্মীয় সংঘাত ঘটেছিল। আরেকটা বিএনপি যখন ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন তখন তারা এ ধরনের কাজকর্মে জড়িয়ে ছিলেন। সেগুলোর বিচার এখনও হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, আমরা সকলেই জানি, যা উনি (প্রিয়া সাহা) বলেছেন- তা তিনি নিজ ইচ্ছা চরিতার্থ করার জন্য বলেছেন। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার মনে হয়, উনি রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন বলে উনাকে আখ্যা দিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কোনো দরকার নেই। তা ঠিক না। উনি যা বলেছেন তার বিপরীতে সত্যটা তুলে ধরে বাকিটুকু এড়িয়ে চললে ভালো হয়।
এ ধরনের ঘটনার পেছনে কোনো গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো থাকতে পারে। তবে, সেটা আমাদের তদন্ত করে বের করার আগ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। আমরা এগুলো খতিয়ে দেখবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ