ঢাকা, মঙ্গলবার 23 July 2019, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুই সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে দুই সিটি করপোরেশনের নেয়া পদক্ষেপের বিষয়ে দাখিল করা প্রতিবেদনের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রতিবেদনে সিটি কর্পোরেশনের নেয়া পদক্ষেপ যথাযথভাবে উঠে না আসায়, দুই সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদ্বয়কে তলব করেছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ। এ সময় তিনি রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং এর ওপর শুনানি করেন।
আদালত সিটি কর্পোরেশনকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন কী কাজ করে। মানুষকে সচেতন করার আগে নিজেরা (সিটি কর্পোরেশনকে) সচেতন হোন। তারপর মানুষকে সচেতন করুন। এ সময় হাইকোর্ট জনগণকে সচেতন না করে দুই সিটির কর্মকর্তাদের মশা নিধনে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনের ওপর শুনানি করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত ওষুধ দিচ্ছে এবং নাগরিকদের সচেতন করে যাচ্ছে।
এ সময় হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে, আর আপনারা বলছেন অ্যাওয়ারনেস।
আদালত বলেন, সাংবাদিকরা আর তো শখে লেখে না যে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা গেছে। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়ার খবর আজও পত্রিকায় এসেছে।
আদালত প্রশ্ন তুলে বলেন, কীভাবে ওষুধ দিচ্ছেন? এসব তো আমাদের দেখার কথা না। যে ওষুধ ছিটায়, তাতে কি কাজ হয়? ওষুধে কাজ হয় না তা মেয়র নিজেই বলেছেন। জনগণের সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রচার-প্রচারণা চালায়, আর জনগণের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তাদের (সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের) কাজ কী?
আইনজীবী বলেন, সিটি কর্পোরেশন সচেতন করার কাজ করছে। আদালত বলেন, এসব বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। আপনার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জানান। দায়িত্ব যাদের ওপর তাদের কাজ করতে হবে। কতজন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে গেছে তার তথ্য দিন, তাহলে বুঝতে পারবো কাজ করছেন কি না। এর আগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
আদেশের প্রসঙ্গ টেনে আদালত বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ জানতে চাইলাম। অথচ তার কোনো অগ্রগতি নেই। মশা নিয়ন্ত্রণে আদালত বলেন, ডেঙ্গুরোধে সচেতনতা সৃষ্টি কোনো কাজে আসে না।
এর আগে গত ১৪ জুলাই আদালত তার আদেশে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা জানাতে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়র, নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানাতে নির্দেশ দেন।
একইসঙ্গে নাগরিকদের ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়া বন্ধ করতে এবং এডিস মশা নির্মূলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করতে বলা হয় এবং মামলার শুনানি সোমবার (২২ জুলাই) দিন ধার্য রেখেছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ