ঢাকা, মঙ্গলবার 23 July 2019, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাষ্ট্রীয় খরচে হজ্ব পালনকারীর বিশাল বহর!

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রীয় খরচে প্রায় চারশ জনের বিশাল বহর হজ্ব পালন করতে যাচ্ছেন। এ বহরে রয়েছেন মন্ত্রী, এমপি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, আলেম, পিয়ন, মালি ও ড্রাইভারসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। তাদের পেছনের রাষ্ট্রের ব্যয় হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সরকারি ফান্ড থেকে এ অর্থ ব্যয় হবে। গত ১ জুলাই থেকে গত রোববার (২১ জুলাই) পর্যন্ত ২০ দিনে মোট সাত দফায় রাষ্ট্রীয় খরচে মনোনয়নপ্রাপ্ত ৩৮৯ জন হজ্বযাত্রীর তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। এ সংখ্যা চারশ’ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে হজ্ব এজেন্সীগুলোকে আরো ৫ শতাংশ রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিয়েছে সরকার। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে তাদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে বলা হয়েছে। অসুস্থতা ও মৃত্যুজনিত কারণে যেসব হজ্বযাত্রী নিবন্ধন করেও হজে যেতে পারছেন না, তাদের পরিবর্তে নতুন  হজ্বযাত্রীর নাম অর্ন্তভূক্ত করার জন্য এ রিপ্লেসমেন্ট করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর আগে আরো ১০ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট করা হয়েছে।
সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় খরচে হজ্বপালকারীগণ আগামী ২৯ ও ৩০ জুলাই ফ্লাইট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পবিত্র হজ্ব পালন করতে সৌদি যাবেন। ১০ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসবেন। তারা ধর্ম মন্ত্রণালয় ঘোষিত ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার প্যাকেজ-২-এর সুবিধায় হজ্ব পালন করবেন।
এ তালিকার বাইরে হজ্ব ব্যবস্থাপনার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিক-নির্দেশনার জন্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘ভিআইপি’ হজ্ব প্রতিনিধি দল-২০১৯ গঠিত হয়। এ তালিকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার, একাধিক প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও সংসদ সদস্য রয়েছেন। এ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আবার প্রত্যেকে ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে স্ত্রী ও সন্তানসহ তিনজনকে সঙ্গে হজে নিয়ে যেতে পারবেন। তারা ও তাদের স্ত্রী সন্তানরা ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকার প্যাকেজ-১-এর সুবিধায় হজ্ব করবেন।
রাষ্ট্রীয় খরচে হজে¦ মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারো নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় খরচে মনোনয়নের কোনো নীতিমালা রয়েছে কিনা? যাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হয় তাদেরকে কোন ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হয়?
দেখা গেছে, এ তালিকায় থাকা অনেকে অর্থবিত্তের মালিক। তাদের নিজ খরচে হজে যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু তারা সরকারি খরচে হজে যান। শুধু হজেই যান না, তাদের অনেকে বিশেষ করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা হজ্ব পালনের পাশাপাশি লাখ লাখ টাকা খরচও পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন মহল থেকে সরকারি খরচে হজে পাঠানোর নাম প্রস্তাব করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি খসড়া তালিকা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনে রাষ্ট্রীয় খরচে হজে মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয় ১ জুলাই সরকারি খরচে হজে যাওয়ার জন্য ১৭৪ জন মনোনয়নপ্রাপ্তের তালিকা প্রকাশ করে। ৯ জুলাই প্রথমবারের মতো সরকারি খরচে হজ্ব পালনের জন্য ৫৭ সদস্যের দেশ সেরা আলেম-ওলামাদের নাম প্রকাশ করা হয়। তারা হজ্বযাত্রীদের হজ্ব পালনের ব্যাপারে পরামর্শ দেবেন। ১০ জুলাই আরও ১৩৪ সদস্যের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। একইভাবে পরবর্তীতে ১১ জুলাই ৪ জন, ১৪ জুলাই ৪ জন ও সর্বশেষ গতকাল আরও ১৩ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ