ঢাকা, মঙ্গলবার 23 July 2019, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম প্রহসন -ড. কামাল হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, কুড়িগ্রামে অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি। খাবার নেই, ওষুধ নেই, পানিও নেই। কুড়িগ্রামের ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করে। অথচ বন্যাদুর্গত ১২ লাখ লোকের জন্য দেড় সপ্তাহে সরকারের বরাদ্দ হয়েছে জনপ্রতি মাত্র ১ টাকা ১২ পয়সা, ৬৬ গ্রাম চাল ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। এটি রিলিফের নামে প্রহসন।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে দেশের বন্যা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাংগঠনিক সম্পাদক হামিম বারী প্রমুখ। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ।
ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম ‘প্রহসন’। আমি মনে করি বন্যার জন্য অবশ্যই একটা জাতীয় সংলাপ অপরিহার্য। বন্যা কেন হয়, কিভাবে হয়, বন্যা থেকে বাঁচার জন্য করণীয় কী? এসব বিষয় চিহ্নিত করার জন্য একটা জাতীয় সংলাপ অবশ্যই প্রয়োজন। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের মানে হলো জনগণ দেশের মালিক। মালিককে সব কিছু জানাতে হবে। সব ধরনের তথ্য মালিককে দিতে হবে। মালিককে সব ধরনের কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করতে হবে।
দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারবিরোধী সবচেয়ে বড় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো কাজ করছে না কেন-সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ইলেকশনকে সামনে রেখে কয়েকটা রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট হয়েছিল। এখন বন্যা মোকাবিলায় আমাদের জনগণের ঐক্য দরকার।
ড. কামাল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও বন্যার সময়ের সংকটের সমাধান আসছে না। সরকার কোনোভাবেই বন্যা পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলা করতে পারছে না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব দলকে নিয়ে জাতীয় সংলাপ আয়োজন করা অপরিহার্য।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপনারা ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন কত ভয়াবহভাবে আমরা আক্রান্ত হয়েছি বন্যায়। সেই স্বাধীনতার পরই আমরা চিহ্নিত করেছি যে, বন্যা হলো আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এটা ঠিক মতো মোকাবেলা করতে না পারলে আমাদের বিশাল বড় ক্ষতি হয়। লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ ৪৮ বছর পর আমরা দেখছি আমাদের ঘাটতি আছে।
এই ঘাটতি মোকাবেলায় আমাদের একটি ঐক্যমত গড়ে তোলার প্রয়োজন। আমাদের যে বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদেরকে ভাবতে হবে যে, বন্যা আমাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। বন্যা হলে কত লাখ মানুষ গৃহহারা হয়, কত লাখ মানুষ অসহায় অবস্থায় চলে যায়, বাড়ি-ঘর হারায়, ফসল হারায়, হাজার হাজার বিঘার ধান-পাট নষ্ট হয়।
অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে কুড়িগ্রামে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আমসা আ আমিনের নেতৃত্বে কয়েকটি রিলিফ টিম কাজ করছে। সেখানে অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছেনি। খাবার নেই, ওষুধ নেই, পানিও নেই। কুড়িগ্রামের ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করে। অথচ বন্যাদুর্গত ১২ লাখ লোকের জন্য দেড় সপ্তাহে সরকারের বরাদ্দ হয়েছে জনপ্রতি মাত্র ১ টাকা ১২ পয়সা, ৬৬ গ্রাম চাল ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার। এটি রিলিফের নামে প্রহসন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পগুলো সরকারি আমলা, আওয়ামী লীগের নেতারা প্রভাবিত করেন। দেশের ৯৩ ভাগ জনগণ পানি উন্নয়ন বার্ডের কাজ সম্পর্কে জানেন না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের দুর্নীতির কারণে যথাসময়ে বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় ২০১৭ সালে কৃষকের ফসল ডুবে ১০ লাখ টন খাদ্য নষ্ট হয়ে যায়। জনগণের চাপে দুদুক ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ