ঢাকা, বুধবার 24 July 2019, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি ভেঙে দিচ্ছে ইসরাইল

২৩ জুলাই, পার্সটুডে : অধিকৃত বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমে ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞের বিষয়ে গোটা বিশ্ব নীরব রয়েছে। তাদের এই নিরবতা ইহুদিবাদীদেরকে অপরাধ করার ক্ষেত্রে আরও বেশি উৎসাহিত করেছে। অবিলম্বে ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বশাসন কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে থেকে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা পূর্ব জেরুজালেমের উপকণ্ঠে ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলতে শুরু করে ইসরাইল। বাড়িঘরগুলো পূর্ব জেরুজালেমের শেষ প্রান্ত ‘সুর বাহার’ এলাকায় অবস্থিত। সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, তারা ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই বাড়িঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ইসরাইলল পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট ভূমিও দখলে নিতে বাড়িঘর ভেঙে দিচ্ছে।

সুর বাহারের সীমানা ঘেঁষা গ্রাম ওয়াদি হুমুসে সোমবার সাতশ’ ইসরাইলি পুলিশ ও দুইশ’ সেনা বাড়িঘর ধ্বংসের অভিযানে অংশ নিয়েছে। দখলদাররা কয়েকটি স্ক্যাভেটর নিয়ে অভিযান শুরু করে এবং সেখানে অন্তত ১০টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যাদের ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছেন তাদের একজন হলেন ইসমাইল আবাদিয়েহ।

আবাদিয়েহ সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি পরিবার নিয়ে পথে বসে গেছেন। ফাদি আল-ওয়াহাশ নামে অন্য একজন সবে তার বাড়ি নির্মাণ শুরু করছিলেন। তার মধ্যেই সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম,আমি ঠিকঠাক নিয়ম মেনেই বাড়ি নির্মাণ করছি। কিন্তু তারা আমার নির্মাণাধীন বাড়ি ভেঙে দিয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ হিজবুল্লাহর : লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। হিজবুল্লাহ সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, আমেরিকা ও কয়েকটি আরব দেশের ষড়যন্ত্রের ফল হচ্ছে এই ধ্বংসযজ্ঞ।

বিবৃতিতে এর ব্যাখ্যা দিয়ে আরো বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ তড়িঘড়ি করে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে এবং তারা দখলদারদের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠাকে বিরাট সুযোগ হিসেবে গণ্য করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিদ বিন আহমাদ আলে খালিফা ওয়াশিংটনে প্রকাশ্যে ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপর সোমবার বাহরাইনের সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল জেরুজালেমে ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

হিজবুল্লাহ আরও বলেছে, আরব দেশগুলোর এসব পদক্ষেপ ইহুদিবাদী ইসরাইলের ঘৃণ্য অপরাধ ঢাকতে সহযোগিতা করছে। পূর্ব জেরুজালেমের ওয়াদি হুমুস এলাকায় ফিলিস্তিনীদের ঘরবাড়ি ধ্বংসের মাধ্যমে ইসরাইল যুদ্ধপরাধ করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। হিজবুল্লাহ বলেছে, সোমবারের ধ্বংসযজ্ঞ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইশতেহার ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত ৪টার দিকে থেকে পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা পূর্ব জেরুজালেমের উপকণ্ঠে ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলতে শুরু করে ইসরাইল। বাড়িঘরগুলো পূর্ব জেরুজালেমের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, তারা ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই বাড়িঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ইসরাইলল পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট ভূমিও দখলে নিতে বাড়িঘর ভেঙে দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ